খাদ্যের কাজ

Rumman Ansari   Software Engineer   2026-02-24 06:23:33   14  Share
Subject Syllabus DetailsSubject Details
☰ TContent
☰Fullscreen

Table of Content:

খাদ্যের কাজ

মানবদেহের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। খাদ্য দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য কাজ করে থাকে। এগুলো হলো-

১। দেহের গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ: মাতৃগর্ভে ভ্রূণ সৃষ্টির পর হতে ২০/২৫ বছর বয়স পর্যন্ত আমাদের দেহ গঠন ও বৃদ্ধিসাধন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এছাড়া কায়িক শ্রম, রোগ-বালাই, ইত্যাদিতে দেহ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। খাদ্য মানব দেহে এসব গঠন, বৃদ্ধি ও ক্ষয়পূরণ করে থাকে। যেমন- দেহের পেশি গঠনে প্রোটিন ও অস্থি বা হাড় গঠনে ক্যালসিয়াম কাজ করে।

২। তাপ ও শক্তি উৎপাদন: দেহের স্বাভাবিক উষ্ণতা বজায় রাখা ও অভ্যন্তরীণ কাজ সম্পাদন করে দেহকে সচল রাখার জন্য খাদ্য তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয় বলেই আমরা সচল ও সক্রিয় থাকতে পারি। স্নেহ জাতীয় খাদ্য হতে দেহে সর্বাধিক তাপ ও শক্তি উৎপন্ন হয়। শর্করা জাতীয় খাদ্য হতে উৎপন্ন শক্তিও দেহে অতি প্রয়োজনীয়। ১ গ্রাম শর্করা হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়), ১ গ্রাম প্রোটিন হতে ৪ কিলোক্যালরি (প্রায়) এবং ১ গ্রাম ফ্যাট হতে ৯ কিলোক্যালরি (প্রায়) শক্তি পাওয়া যায়।

৩। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি: খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেহকে জীবাণু ও রোগের আক্রমণ হতে রক্ষা করে। প্রধানত ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে দেহকে সুস্থ রাখে।

৪। দেহের অভ্যন্তরীণ কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ: মানবদেহে প্রতিনিয়ত অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক কর্মক্রিয়া চলতে থাকে। হৃৎপিন্ড (Heart), ফুসফুস (Lung), পাকস্থলী (Stomatch), মস্তিষ্ক (Brain), বৃক্ক (Kidney), যকৃত (Liver) ইত্যাদি সবসময় সক্রিয় অবস্থায় থাকে। এনজাইম ও হরমোনসমূহ শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈব রাসায়নিক কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া বিপাক, পরিপাক, শোষণ ইত্যাদি কাজ সংঘটিত হয়। এসব কাজে প্রোটিন, খনিজ লবণ, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, পানি ইত্যাদি বিশেষভাবে ভূমিকা রাখে।


কাজ অনুযায়ী খাদ্যের ভাগ

দেহে খাদ্যের কাজ অনুযায়ী খাদ্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-

১। দেহ গঠন ও ক্ষয়পূরণকারী খাদ্য: প্রধানত আমিষ জাতীয় খাদ্য।

২। তাপ ও শক্তি উৎপাদনকারী খাদ্য: প্রধানত স্নেহ ও শর্করা জাতীয় খাদ্য।

৩। রোগ প্রতিরোধকারী খাদ্য: প্রধানত ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য।

 

প্রধান খাদ্য ও অণুখাদ্য (Macronutrients and Micronutrients): দেহে গৃহীত খাদ্যের প্রয়োজনীয় পরিমাণের উপর নির্ভর করে খাদ্যকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১। ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা প্রধান খাদ্য: যেসব খাদ্য আমাদের দেহে অধিক পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদের ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা প্রধান খাদ্য বলে। যেমন- আমিষ, শর্করা ও স্নেহ জাতীয় খাদ্য। এসব খাদ্য দেহে জারিত হয়ে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে।

২। মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা অণুখাদ্য: যেসব খাদ্য আমাদের দেহে অতি অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হয় তাদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট বা অণুখাদ্য বলে। এসব খাদ্যের অভাবে দেহে অভাবজনিত লক্ষণাদি প্রকাশ পায় ও দীর্ঘদিনের ঘাটতিতে জটিল শারীরিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। যথা- ভিটামিন ও খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য। ভিটামিন ও খনিজ লবণ হতে তাপ ও শক্তি পাওয়া যায় না, তবে দেহের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়ায় এদের উপস্থিতি অপরিহার্য।



খাদ্য, পুষ্টি ও খাদ্যের উপাদান

Stay Ahead of the Curve! Check out these trending topics and sharpen your skills.