প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরি অভাবজনিত রোগ
Table of Content:
প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরি অভাবজনিত রোগ
প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে বিশেষত শিশুদের মধ্যে যে ধরনের অপুষ্টি দেখা যায় তাকে প্রোটিন-শক্তি ঘাটতিজনিত অপুষ্টি বা Protein Energy Malnutrition (PEM) বা PCM (Protein Calorie Malnutrition) বলা হয়। মারাত্মক মাত্রায় প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরির অভাবে শিশুদের মধ্যে কোয়াশিওরকর (গা ফোলা) ও ম্যারাসমাস (হাড্ডিসার) রোগ হয়। নিচে এ দুটি রোগ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor):
কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor): শৈশবে মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত ও পরবর্তীতে খাবারে প্রোটিনের অভাব (Protein Deficiency) ঘটলে কোয়াশিওরকর রোগ হতে পারে। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো-
১। সাধারণত ১-৬ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
২। শিশুর ওজন কমে যায় ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তবে ওজন বয়সের তুলনায় ৬০ ভাগের উপরে থাকে।
৩। হাত, পা ও মুখে পানি জমে।
৪। মাংসপেশি শীর্ণ হয়। কিন্তু পানি জমার কারণে শীর্ণকায় অবস্থাটি অনেক সময় বোঝা যায় না।
৫। ত্বকের বহিরাবরণ পাতলা দেখায়। অনেক সময় ত্বক ফেটে যেয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়
৬। মুখাবয়ব গোলাকার চাঁদের মত দেখায়। একে (moonface) বলে।
৭। মাথার চুলের রং পরিবর্তিত হয়ে বাদামি হয়ে যায় এবং চুল পড়ে পাতলা হয়ে যায়।
৮। যকৃতের আকার বৃদ্ধি পায়।
৯। সাধারণত ক্ষুধামন্দা বা অরুচি দেখা দেয়।
১০। শিশু উদাসীন থাকে এবং কোনো ব্যাপারে উৎসাহ থাকে না।
ম্যারাসমাস (Marasmus):
ম্যারাসমাস (Marasmus): খাদ্যে প্রোটিনের সাথে সাথে ক্যালরির তীব্র অভাব (Protein Calorie Deficiency) হলে ম্যারাসমাস বা হাড্ডিসার রোগ হতে পারে। এ রোগের লক্ষণগুলো হলো-
১। প্রধানত ১/২ বছর বয়সী শিশুদের এ রোগ বেশি হয়।
২। শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং ওজন বয়সের তুলনার ৬০ ভাগের নিচে নেমে আসে।
৩। হাত পা সরু ও পেট অনেক বড় দেখায়।
৪। মাংসপেশি শুকিয়ে শীর্ণ হয়ে যায়।
৫। ত্বক বা চামড়া ঢিলা হয়ে যায় ও কুঁচকে যায়।
৬। মুখাবয়ব চিন্তাক্লিষ্ট বৃদ্ধের মতো (Mankey like face) দেখায়।
৭। চুলের রং বদলে যায় ও চুল পড়ে যায়।
৮। শিশুর মধ্যে রক্তস্বল্পতা দেখা যায়। সাধারণত ক্ষুধার্ত থাকে ও ঘন ঘন ক্ষুধা পায়।
৯। শিশু সাধারণত অস্থির থাকে।
কোয়াশিওরকর ও ম্যারাসমাস প্রতিরোধ
১। শিশুকে অবশ্যই শাল দুধসহ পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত মায়ের দুধ দিতে হবে।
২। পাঁচ মাস বয়সের পর হতে মায়ের দুধের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর পরিপূরক খাবার শিশুকে দিতে হবে।
৩। শিশু বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হলে দ্রুত রোগ নিরাময় করতে হবে ও ঘাটতি পূরণে বিশেষ করে প্রোটিন ও ক্যালরিসমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে।
৪। নিয়মিত শিশুর ওজন, উচ্চতা ইত্যাদি মাপ নিয়ে বৃদ্ধির গতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
৫। শিশুর মা-বাবাকে পরিবারের আকার ছোট রাখতে হবে এবং দুটি সন্তানের মধ্যে অন্তত ৩-৫ বছরের ব্যবধান দিতে হবে।
৬। খাবারে প্রাণিজ প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকা ভালো।