হযরত আদম (আঃ) ছিলেন মানব জাতির প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী। তিনি কোনো পিতা-মাতার মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেননি। বরং আল্লাহ তাআলা তাঁকে সরাসরি সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। কুরআনে উল্লেখ আছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসা (আঃ)-এর দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের মত। তাঁকে তিনি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বলেছেন 'হও', সুতরাং সে হয়ে গেছে।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৫৯)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্ম পিতা ছাড়া হলেও তাঁর মা ছিলেন, কিন্তু হযরত আদম (আঃ)-এর কোনো পিতা-মাতা কেউই ছিলেন না। আল্লাহ তাআলা সরাসরি তাঁকে সৃষ্টি করেন এবং পরবর্তীতে হযরত হাওয়া (আঃ)-কে তাঁর সঙ্গিনী হিসেবে সৃষ্টি করেন আদম (আঃ)-এর একটি পাঁজরের হাড় থেকে। সুতরাং ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত যে আদম (আঃ) হলেন সেই নবী যাঁর পিতা-মাতা কেউই ছিল না। এই কারণেই তিনি মানব জাতির 'আদি পিতা' হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন প্রথম মানব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীতে প্রেরিত প্রথম নবী, যাঁকে হেদায়েত ও নির্দেশনার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাঁর মাধ্যমে মানবজাতির যাত্রা শুরু হয় এবং সকল নবী-রাসূলের ধারা তাঁর মাধ্যমেই সূচিত হয়। এই প্রশ্নের উত্তর ও ব্যাখ্যা ইসলামি বিশ্বাস ও কুরআনের আলোকে একদম স্পষ্ট ও সঠিক।