- A সৎ বন্ধুদের সাথে সময় কাটানো
- B একা পুরুষ ও নারীর দেখা করা
- C পর্দা পালন করা
- D নিয়মিত নামাজ আদায় করা
Time Taken:
Correct Answer:
Wrong Answer:
Percentage: %
ইসলাম খলওয়াত (একান্তে পুরুষ ও নারীর দেখা করা)-কে হারাম ঘোষণা করেছে, কারণ এতে শয়তানের প্ররোচনা সহজ হয়। হাদীসে এসেছে, “কোনো পুরুষ ও নারী একান্তে মিলিত হলে, তাদের তৃতীয় ব্যক্তি হয় শয়তান।” এই ধরণের পরিস্থিতি মানুষের মন দুর্বল করে দেয় এবং হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ করে দেয়। তাই ইসলাম পুরুষ ও নারীর মধ্যে সংযম এবং সীমারেখা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।
সূরা নূরের ৩০ ও ৩১ নম্বর আয়াতে পুরুষ ও নারীদের চোখ নত রাখার এবং লজ্জাস্থান সংরক্ষণের নির্দেশ রয়েছে। এই নির্দেশই হারাম সম্পর্ক ও যিনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
হাদীসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, তারা যেন রোজা রাখে। এটি তাদের প্রবৃত্তি দমন ও তাকওয়া অর্জনে সহায়তা করে।
ঘনিষ্ঠ হওয়া যিনা বা হারাম সম্পর্কের পথকে সহজ করে। ইসলাম শুধু গুনাহ না, গুনাহর কারণকেও নিষিদ্ধ করেছে। তাই এমন আচরণ থেকে দূরে থাকতে হবে।
সূরা আল-ফুরকানে আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গুনাহগুলো নেকিতে পরিণত করে দেন। এটি আল্লাহর অসীম রহমতের প্রমাণ।
যেকোনো হারাম সম্পর্কের সূচনা হয় সাধারণ কথাবার্তার মধ্য দিয়ে, যা ধীরে ধীরে মন দুর্বল করে দেয়। ইসলাম এই কারণেই ‘গুনাহের দরজা’ বন্ধ করতে বলে।
একজন মানুষের চরিত্র ও কাজ অনেকাংশে তার বন্ধুর উপর নির্ভর করে। তাই ইসলাম সৎ বন্ধু বেছে নিতে উৎসাহ দেয়।
তাকওয়া বা আল্লাহভীতি এমন একটি গুণ যা মানুষকে সবধরনের গোনাহ ও হারাম কাজ থেকে রক্ষা করে। যখন কেউ মনে রাখে যে আল্লাহ সবকিছু দেখছেন, তখন সে চেষ্টাও করে ভুল কাজ থেকে বিরত থাকতে। হারাম সম্পর্ক বা যিনার আকর্ষণ থেকে বাঁচার সবচেয়ে শক্তিশালী পন্থা হচ্ছে নিজের ভেতরে তাকওয়া গড়ে তোলা। কুরআনে বহুবার আল্লাহ বলেছেন যারা তাকওয়াবান তারা সফল। এজন্য মুসলমানদের উচিত নিয়মিত নামাজ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত করা এবং দ্বীন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করা, যাতে তারা নিজেকে হারামের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন রাখতে পারে এবং নিজেকে পবিত্র রাখতে পারে।
লজ্জাশীলতা এবং পর্দা ইসলামি নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, লজ্জা ঈমানের একটি অংশ। পর্দা রক্ষা করলে সমাজে নারী-পুরুষের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় মেলামেশা কমে যায় এবং হারাম সম্পর্ক গড়ে উঠার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। একজন মুসলিম নারী বা পুরুষ যখন শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী নিজের চোখ ও শরীর সংরক্ষণ করে, তখন সে সহজেই যিনা বা হারাম সম্পর্কের মতো ভয়াবহ গোনাহ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। সমাজে আজ যে অবক্ষয় দেখা যায় তার একটি বড় কারণ হলো পর্দার অভাব এবং লজ্জার সংকট। তাই যারা নিজের ঈমান রক্ষা করতে চায়, তাদের অবশ্যই পর্দা ও লজ্জাশীলতা বজায় রাখতে হবে।
বর্তমান যুগে প্রযুক্তির মাধ্যমে হারাম কাজ করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। একজন মানুষ যখন একা মোবাইল ব্যবহার করে, তখন তার সামনে থাকে হাজারো ফিতনা। অশ্লীল ভিডিও, ছবি, সেক্সুয়াল কনটেন্ট ইত্যাদি খুব সহজেই দেখা যায় এবং এতে হারাম সম্পর্কের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এজন্য একাকীত্বে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মুসলমানকে অবশ্যই তার চোখ, কান এবং হৃদয়কে সংরক্ষণ করতে হবে এবং যে সব মাধ্যম তাকে হারামের দিকে টানে, তা থেকে বিরত থাকতে হবে। অভিভাবকদেরও উচিত তাদের সন্তানের মোবাইল ব্যবহারের সময় ও কনটেন্ট পর্যবেক্ষণ করা।