- Aপঞ্চম হিজরী
- Bষষ্ঠ হিজরী
- Cচতুর্থ হিজরী
- Dদ্বিতীয় হিজরী
Time Taken:
Correct Answer:
Wrong Answer:
Percentage: %
পঞ্চম হিজরী
এই সকল প্রয়াসের ফলে তাদের মধ্যে একটি সামরিক চুক্তি হয় যার গুরুত্বপূর্ণ শরীক ছিল কুরায়শ, ইয়াহুদী ও গাতফান গোত্র। তারা আরও কিছু শর্তের ব্যাপারেও একমত হয় যার ভেতর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল এই যে, গাতাফান গোত্র এই মিত্র বাহিনীতে ছয় হাজার সৈন্যসমেত অংশ নেবে। এর বিনিময়ে ইয়াহুদীরা গাতাফান গোত্রকে খায়বারের ব্লগানগুলোর গোটা বছরের ফসল প্রদান করবে। মোটের ওপর কুরায়শরা চার হাজার যোদ্ধা এতদুদ্দেশ্যে সমবেত করে, গাতাফান করে ছয় হাজার। আর এ সংখ্যা সাকুল্যে দাঁড়ায় দশ হাজারে। সেনাবাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করা হয় আবূ সুফিয়ানকে। [২]
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 266]
এবার হযরত সালমান ফারসী (রা) মদীনার সামনে ১ খন্দক (পরিখা) খননের পরামর্শ দিলেন। এটি ছিল ইরানীদের অতি পরিচিত সামরিক কর্মকৌশল । হযরত সালমান (রা) আরজ করেন : হে আল্লাহ্র রাসূল! ইরানে যখন আমরা অশ্বারোহী বাহিনীর হামলার আশংকা করতাম তখন আমরা তাদের মুকাবিলায় খন্দক খনন করতাম । রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর এই অভিমত অত্যন্ত পসন্দ করেন এবং মদীনার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ময়দানে খন্দক খননের নির্দেশ দিলেন। এটি ছিল সেই খোলা অংশ যেখান থেকে শত্রু মদীনার ভেতরে প্রবেশের সহজ সুযোগ পেতে পারত ।
রাসূলুল্লাহ (সা) খন্দক খননের কাজ তাঁর সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে এভাবে বণ্টন করে দিলেন যে, প্রতি দশজনের ভাগে চল্লিশ (৪০) হাত খননের দায়িত্ব বর্তায় ।৩ খন্দকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫ (পাঁচ) হাজার হাত, গভীরতা সাত থেকে দশ হাত এবং প্রস্থ সাধারণভাবে নয় হাতের কিছু বেশি হবে।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 267]
উম্মুল-মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) সে সময় বনী হারিছার দুর্গে অন্যান্য মুসলিম মহিলাদের সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। তখন পর্যন্ত পর্দার হুকুম নাযিল হয়নি। তিনি বর্ণনা করেন, সা'দ ইবন মু'আয (রা) একদিন দুর্গের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তখন এত ছোট লৌহবর্ম পরিধান করেছিলেন যে, তাঁর গোটা হাতটাই ছিল এর বাইরে। তিনি রণসঙ্গীত গাইতে গাইতে যাচ্ছিলেন। তাঁর মা তাঁকে এ অবস্থায় দেখে বলেন : বেটা! তুমি অনেক দেরী করে ফেলেছ, তাড়াতাড়ি যাও। হযরত আয়েশা (রা) বর্ণনা করেন, আমি তাকে বললাম : উম্মু সা'দ (সা'দ-এর মা)! আল্লাহ্র কসম, আমার মন বলছে সা'দ-এর লৌহবর্ম এর চেয়ে যদি আরেকটু বড় হত । অনন্তর তাই হল যার আশঙ্কা হযরত আয়েশা (রা) প্রকাশ করেছিলেন । এই খোলা হাতের ওপর একটা তীর এমনভাবেই এসে লাগল যে, তাতে হাতের মূল শিরাটাই কেটে গেল। ফলে তিনি এই আঘাতের পরিণতিতে বনী কুরায়জা অভিযানে শাহাদাতবরণ করেন।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 273]
মুসলিম বাহিনী তীর-ধনুক নিয়ে সদাপ্রস্ত্তত থাকেন, যাতে শত্রুরা পরিখা টপকে বা ভরাট করে কোনভাবেই মদীনায় ঢুকতে না পারে। মুসলিম বাহিনীর এই নতুন কৌশল দেখে কাফের বাহিনী হতচকিত হয়ে যায়। ফলে তারা যুদ্ধ করতে না পেরে যেমন ভিতরে ভিতরে ফুঁসতে থাকে, তেমনি রসদ ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ে আতংকিত হ’তে থাকে। মাঝে-মধ্যে পরিখা অতিক্রমের চেষ্টা করতে গিয়ে তাদের ১০ জন নিহত হয়। অমনিভাবে তাদের তীরের আঘাতে মুসলিম পক্ষে ৬ জন শহীদ হন’।[2] উক্ত ৬জন হ’লেন, আউস গোত্রের বনু আব্দিল আশহাল থেকে গোত্রনেতা সা‘দ বিন মু‘আয, আনাস বিন আউস ও আব্দুল্লাহ বিন সাহল। খাযরাজ গোত্রের বনু জুশাম থেকে তুফায়েল বিন নু‘মান ও ছা‘লাবাহ বিন গানমাহ। বনু নাজ্জার থেকে কা‘ব বিন যায়েদ। যিনি একটি অজ্ঞাত তীরের মাধ্যমে শহীদ হন (ইবনু হিশাম ২/২৫২-৫৩)। এঁদের মধ্যে আহত সা‘দ বিন মু‘আয (রাঃ) বনু কুরায়যা যুদ্ধের শেষে মারা যান (ইবনু হিশাম ২/২২৭)।
(২) পরিখা খননের সময় মুহাজির ও আনছারগণ প্রত্যেকেই সালমান ফারেসীকে নিজেদের দলভুক্ত বলে দাবী করেন। তখন রাসূল (ছাঃ) বলেন, سَلْمَانُ مِنَّا أَهْلَ الْبَيْتِ ‘সালমান আমাদের পরিবারভুক্ত’ (হাকেম হা/৬৫৪১; ইবনু হিশাম ২/২২৪)। বর্ণনাটির সনদ যঈফ। আলবানী বলেন, বরং খবরটি আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। যা মওকূফ ছহীহ। বর্ণনাটি হ’ল, আলী (রাঃ)-কে বলা হ’ল, আমাদেরকে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর সাথীদের বিষয়ে বর্ণনা করুন। জবাবে তিনি বললেন, তাঁদের কার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাস করছ? তারা বলল, সালমান। তিনি বললেন, তিনি প্রথম যুগের এবং শেষ যুগের ইল্ম প্রাপ্ত হয়েছেন। যা এমন এক সমুদ্র, যার তলদেশ পাওয়া যায় না। তিনি আমাদের পরিবারভুক্ত’ (যঈফাহ হা/৩৭০৪-এর আলোচনা; মা শা-‘আ ১৬৫ পৃঃ)।
রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর সাহাবাগণ ভয় ও পেরেশানীর মধ্যে কাল কাটাচ্ছিলেন। এমন সময় আকস্মিকভাবে ( নাজদের বেদুঈন গোত্র বনু গাত্বফান) গাতাফান গোত্রের নু'আয়ম ইবন মাসউদ তাঁর খেদমতে হাজির হন এবং বলেন : হে আল্লাহ্র রাসূল ! আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি । কিন্তু আমার কওম আমার ইসলাম গ্রহণের কথা জানে না । এখন আপনার অভিপ্রায় মাফিক হুকুম করুন। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন : তুমি একলা মানুষ । তুমি ওখানে থেকেই আমাদের সাহায্য কর। যুদ্ধ চাতুর্য বা কৌশলের নাম ।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 273]
সিরিয়া, পারস্য ও য়ামান
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: ]
মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহ. রচিত নবীয়ে রহমত বইটির 278 নং পৃষ্ঠা। অন্য যে কোনো বইয়ের সাথে তথ্যগত বৈপরিত্য পাওয়া গেলে নবীয়ে রহমত বইটির তথ্যের আলোকেই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। কারণ আমরা এই বই থেকে কুইজ তৈরি করেছি।
মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহ. রচিত নবীয়ে রহমত বইটির 278 নং পৃষ্ঠা। অন্য যে কোনো বইয়ের সাথে তথ্যগত বৈপরিত্য পাওয়া গেলে নবীয়ে রহমত বইটির তথ্যের আলোকেই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। কারণ আমরা এই বই থেকে কুইজ তৈরি করেছি।