- Aআবূ সুফিয়ান
- Bআবু সাঈদ খুদরী
- Cহুযায়ফা ইবনুল ইয়ামান
Time Taken:
Correct Answer:
Wrong Answer:
Percentage: %
এই সকল প্রয়াসের ফলে তাদের মধ্যে একটি সামরিক চুক্তি হয় যার গুরুত্বপূর্ণ শরীক ছিল কুরায়শ, ইয়াহুদী ও গাতফান গোত্র। তারা আরও কিছু শর্তের ব্যাপারেও একমত হয় যার ভেতর একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল এই যে, গাতাফান গোত্র এই মিত্র বাহিনীতে ছয় হাজার সৈন্যসমেত অংশ নেবে। এর বিনিময়ে ইয়াহুদীরা গাতাফান গোত্রকে খায়বারের ব্লগানগুলোর গোটা বছরের ফসল প্রদান করবে। মোটের ওপর কুরায়শরা চার হাজার যোদ্ধা এতদুদ্দেশ্যে সমবেত করে, গাতাফান করে ছয় হাজার। আর এ সংখ্যা সাকুল্যে দাঁড়ায় দশ হাজারে। সেনাবাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করা হয় আবূ সুফিয়ানকে। [২]
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 266]
এবার হযরত সালমান ফারসী (রা) মদীনার সামনে ১ খন্দক (পরিখা) খননের পরামর্শ দিলেন। এটি ছিল ইরানীদের অতি পরিচিত সামরিক কর্মকৌশল । হযরত সালমান (রা) আরজ করেন : হে আল্লাহ্র রাসূল! ইরানে যখন আমরা অশ্বারোহী বাহিনীর হামলার আশংকা করতাম তখন আমরা তাদের মুকাবিলায় খন্দক খনন করতাম । রাসূলুল্লাহ (সা) তাঁর এই অভিমত অত্যন্ত পসন্দ করেন এবং মদীনার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ময়দানে খন্দক খননের নির্দেশ দিলেন। এটি ছিল সেই খোলা অংশ যেখান থেকে শত্রু মদীনার ভেতরে প্রবেশের সহজ সুযোগ পেতে পারত ।
রাসূলুল্লাহ (সা) খন্দক খননের কাজ তাঁর সাহাবায়ে কিরামের মধ্যে এভাবে বণ্টন করে দিলেন যে, প্রতি দশজনের ভাগে চল্লিশ (৪০) হাত খননের দায়িত্ব বর্তায় ।৩ খন্দকের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৫ (পাঁচ) হাজার হাত, গভীরতা সাত থেকে দশ হাত এবং প্রস্থ সাধারণভাবে নয় হাতের কিছু বেশি হবে।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 267]
কাফির ও মুসলিম বীরের শক্তি পরীক্ষা রাসূলুল্লাহ (সা) ও তাঁর সাথে সমস্ত মুসলমানই সেখানে (ছাউনি ফেলে) অবস্থান করলেন । দুশমন তাঁদেরকে অবরোধ করে রেখেছিল, কিন্তু অবস্থা তখনও যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়নি। অবশ্য শত্রুর দুই-একজন অশ্বারোহী সৈনিক ঘোড়া ছুটিয়ে সামনে অগ্রসর হয়েছে এবং খন্দক প্রান্তে এসে থেমে গেছে। তারপর গভীর খন্দকদৃষ্টে বলাবলি করেছে যে, এ যে দেখছি এক নতুন কৌশল, নতুন জাল বিছানো হয়েছে, এরা যার সঙ্গে পরিচিত নয়। এরপর এভাবে তাদেরই একটি দল খোঁজ করতে করতে এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছে যেখানে খন্দকের প্রশস্ততা খুবই কম ছিল। সেখানে পৌছে তারা ঘোড়ার পাঁজরে গুঁতা মারতেই ঘোড়া এক লাফে খন্দক পেরিয়ে চলে এল এবং মদীনার ভূখণ্ডে দৌঁড়ে বেড়াতে লাগল । এই দলের মধ্যে আরবের প্রখ্যাত অশ্বারোহী বীর আমর ইবন আবদুদও ছিল যাকে এক হাজার অশ্বারোহী সৈনিকের সমকক্ষ গণ্য করা হত। সে এক স্থানে থেমে হাঁক ছাড়ল : আছে এমন কেউ যে আমার মুকাবিলা করবে? এতদশ্রবণে হযরত আলী (রা) তার সামনে এগিয়ে গেলেন এবং বললেন : আমর! তুমি আল্লাহ্র সঙ্গে অঙ্গীকার করেছিলে যে, কুরায়শদের কেউ তোমাকে দু'টো বিষয়ে দাওয়াত দিলে তার একটি তুমি অবশ্যই কবুল করবে। 'আমর স্বীকার করল এবং বলল, হ্যাঁ, আমি এ কথা বলেছিলাম। হযরত আলী (রা) বললেন : ঠিক আছে। আমি তোমাকে আল্লাহ্, তদীয় রাসূলের ও ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছি। সে বলল : আমার এর কোন প্রয়োজন নেই। হযরত আলী (রা) বললেন : তাহলে আমি তোমাকে মুকাবিলার দাওয়াত দিচ্ছি। সে তখন বলতে লাগল : ভাতিজা আমার! আল্লাহর কসম! আমি তোমাকে হত্যা করতে চাই না। হযরত আলী (রা) বললেন : কিন্তু আল্লাহ্র কসম! তোমাকে আমি অবশ্যই হত্যা করতে চাই।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 272]
শেষাবধি আল্লাহ তা'আলার মদদ দেখা দিল। কাফির মুশরিকদের ফৌজ ও ইসলাম দুশমনদের বাহিনীর ওপর শীতের রাতে এমন প্রবল শৈত্যপ্রবাহ শুরু হল যে, তাদের তাঁবুগুলো উপড়ে গেল, ডেকচিগুলো উল্টে গেল। এতদুদ্দেশ্যে আবৃ সুফিয়ান বললেন : কুরায়শগণ! এখন আর এখানে অবস্থান করার মত নেই। আমাদের খচ্চর ও ঘোড়াগুলো শেষ হয়ে গেছে। বনূ কুরায়জা আমাদের সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছে এবং খুবই ভয়ংকর ও কষ্টদায়ক খবর আমরা তাদের সম্পর্কে পেয়েছি । এই প্রবল শৈত্যপ্রবাহ যে কেয়ামত সৃষ্টি করেছে তাও তোমরা দেখতে পাচ্ছি। ডেকচি পর্যন্ত চুলার ওপর টিকছে না। আগুন জ্বালাতে কষ্ট হচ্ছে। আমাদের কোন অবস্থান ও আশ্রয়স্থলই নিরাপদ ও অক্ষত নেই। এখন এখান থেকে বেরিয়ে পড়। আমি ফিরে যাবার ইচ্ছা করেছি। এই বলে আবু সুফিয়ান তার বাঁধা উটের নিকট গেলেন, তার পিঠে চড়ে বসলেন, পাশে গুঁতা মারলেন। অতঃপর উট খাড়া হতেই তিনি এর রশি খুলে দিলেন।
গাতাফান এই খবর পেতেই যে, কুরায়শরা স্বদেশের পথে রওয়ানা হয়ে গেছে, নিজেরাও যে যার বাড়িঘরের পথ ধরল। রাসূলুল্লাহ (সা) সে সময় নামায পড়ছিলেন । হুযায়ফা ইবনুল-য়ামান (রা) (যাঁকে তিনি সম্মিলিত বাহিনীর ভেতর গোয়েন্দাগিরির দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি রাসূল (সা)-কে তাদের গতিবিধি সম্পর্কে অবহিত করতে পারেন] এ সময় প্রত্যাবর্তন করেন । তিনি যা কিছু দেখেছিলেন সে সম্পর্কে রাসূল আকরাম (সা)-কে অবহিত করেন।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 274-75]
“আল্লাহ পাক কাফিরদেরকে ক্রুদ্ধাবস্থায় ফিরিয়ে দিলেন। তারা কোন কল্যাণ পায়নি। যুদ্ধ করার জন্য আল্লাহ্ই মু'মিনদের জন্য যথেষ্ট হয়ে গেলেন । আল্লাহ শক্তিধর, পরাক্রমশালী”। [সূরা আহযাব, ২৫ আয়াত]
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 275]
পঞ্চম হিজরীর শাওয়াল মাসে
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - "আহযাব যুদ্ধ " এবং বনী কুরায়জা যুদ্ধ নামক অধ্যায় থেকে]
আবু সুফিয়ান
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - "আহযাব যুদ্ধ " এবং বনী কুরায়জা যুদ্ধ নামক অধ্যায় থেকে]
মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহ. রচিত নবীয়ে রহমত বইটির 282 নং পৃষ্ঠা। অন্য যে কোনো বইয়ের সাথে তথ্যগত বৈপরিত্য পাওয়া গেলে নবীয়ে রহমত বইটির তথ্যের আলোকেই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। কারণ আমরা এই বই থেকে কুইজ তৈরি করেছি।
মাওলানা আবুল হাসান আলী নদবী রহ. রচিত নবীয়ে রহমত বইটির 283 নং পৃষ্ঠা। অন্য যে কোনো বইয়ের সাথে তথ্যগত বৈপরিত্য পাওয়া গেলে নবীয়ে রহমত বইটির তথ্যের আলোকেই চূড়ান্ত বিবেচিত হবে। কারণ আমরা এই বই থেকে কুইজ তৈরি করেছি।