- Aআব্বাস
- Bহামজা
- Cআবু লাহাব
- Dআবু তালেব
Time Taken:
Correct Answer:
Wrong Answer:
Percentage: %
আবু তালিবের তত্ত্বাবধান
আবদুল মুত্তালিবের ইন্তেকালের পর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাচার কাছে লালিত-পালিত হতে লাগলেন। তৎকালে বনু লেহাব গোত্রের এক ব্যক্তি মানুষের দৈহিক লক্ষণসমূহ দেখে ভাগ্য বিচার করতো। কুরাইশরা তাদের সন্তানদের নিয়ে ভাগ্য জানতে তার কাছে ভিড় জমাতো। অন্যদের সাথে আবু তালিবও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে উক্ত গণকের কাছে গেলেন। গণক তাঁর দিকে তাকিয়ে পরক্ষণেই কি যেন একটু ভাবলেন এবং বললেন এ বালককে নিয়ে একটু বিশেষভাবে মনোযোগ দিতে হবে। আবু তালিব বিশ্বনবীর প্রতি গণকের বিশেষ মনোযোগ লক্ষ্য করে তাঁকে কৌশলে সরিয়ে দিলেন। এতে গণক বলল, ‘তোমাদের এ কি কাণ্ড! বালকটাকে আমার কাছে আবার নিয়ে এসো। আল্লাহর কসম, এ এক অসাধারণ বালক।’
কিছুদিন পর আবু তালিব সিরিয়ায় বাণিজ্যে রওয়ানা হলেন। বিশ্বনবীও চাচার সঙ্গে যাওয়ার আবদার করলেন। স্নেহবিগলিত চাচা তার আবদার রক্ষার্থে তাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। চাচা আবু তালিব তাকে সর্বদা সঙ্গে সঙ্গে রাখতেন।
পথিমধ্যে বুসরা এলাকায় পৌছলে বিশ্বনবীকে কেন্দ্র করে বাহিরা খ্রিস্টান পাদ্রী আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলেন। আপ্যায়নের পর তিনি বিশ্বনবীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হলেন এ শিশু মুহাম্মাদ হবেন শেষ নবী। তিনি চাচা আবু তালিবকে সতর্ক করে দিলেন ইহুদিদের থেকে বিশ্বনবীকে নিরাপদ রাখতে। এবং সফর বাতিল করে মক্কায় ফিরে যেতে। চাচা আবু তালিব তাই করলেন। যাত্রা বিরতি দিয়ে তিনি মক্কায় ফিরে এলেন। তিনি বিশ্বনবীকে একা রেখে কোথাও যেতেন না।
এমনকি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়্যত প্রাপ্তির পরও তিনি নিজে ইসলাম গ্রহণ না করলেও নবুয়্যতের কাজে তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা করতেন। তাঁর জীবদ্দশায় মক্কায় বিশ্বনবীকে কেউ কিছু বলার সাহস পেত না।
সুতরাং যদিও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বয়সভেদে ধাত্রীমাতা হালিমা, নিজ মা আমিনা, দাদা আবদুল মুত্তালিব, চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রকৃত পক্ষে আল্লাহ তাআলাই তাঁকে সব সময় সব কাজে তত্ত্ববধান করতেন।
সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য যিনি রহমত। রবিউল আউয়াল মাসে এ মহামানবের আদর্শ প্রচার, প্রসার এবং ব্যক্তি জীবন থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সকল ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ বাস্তবায়নই হোক ঈমানের দাবি। আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহাম্মাদীকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আলোক উজ্জ্বলময় জীবনী প্রচার এবং এ থেকে উত্তম শিক্ষা লাভের সৌভাগ্য দান করুন। আমিন।
জন্মের পর আব্দুল মুত্তালিবের মাতা সালমা তার নাম রাখেন শাইবা। জন্মলগ্নে তার কয়েকটি চুল সাদা ছিল তাই নাম শাইবা রাখা হয় ।
আব্দুল মুত্তালিব বা শায়বা ইবনে হাশিম
রাসূল (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ ওহাব বিন আবদে মানাফের কন্যা আমিনাকে বিবাহ করেন।
জন্মের সপ্তম দিনে তাকে খতনা করানো হয়।
রাসূল সাঃ এর দুধ মাতা হালিমাতুস সাদিয়ার স্বামীর নাম হারিস বিন আব্দুল উযযা।
হামযা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চাচা এবং দুই দিক থেকে রাসুল সাঃ এর দুধ ভাই।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছয় বছর বয়স পর্যন্ত মা হালীমাহর ঘরে বড় হন। তিনি ছয় বছর বয়সে মক্কায় ফিরে আসেন।
১২ বছর বয়সে চাচা আবু তালিব এর সাথে ব্যবসার উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় যাত্রা পথে বসরায় পাদ্রী বাহীরার সাথে দেখা হয় ।
কুরাইশ বংশের কয়েকটি গোত্র হিলফুল ফুজুল গঠনের প্রস্তাব দেয় এবং তারা সরদার আবদুল্লাহ বিন জুদআন তাইমীর ঘরে এসে সমবেত হয়।
বর্তমানে এই ঐতিহাসিক সত্য অগ্রাধিকার লাভ করেছে যে, ইয়াহূদীদের অধিকাংশই আরব উপদ্বীপে সাধারণভাবে, বিশেষভাবে ইয়াছরিব শহরে খৃষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে আগমন করে। প্রখ্যাত ইয়াহুদী পণ্ডিত ড. ইসরাঈল ওয়েলফিনসন লেখেন :
“৭০ খৃস্টাব্দে ইয়াহুদী ও রোমকদের যুদ্ধের পরিণতিতে যখন ফিলিস্তীন ও বায়তুল মাকদিস ধ্বংস হয়ে যায় এবং ইয়াহুদীরা দুনিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে তখন ইয়াহূদীদের বহু দল আরব দেশগুলোর দিকে মুখ ফেরায়। একই বক্তব্য ইয়াহুদী ঐতিহাসিক জোসেফাসেরও যিনি নিজেও এই যুদ্ধে শরীক ছিলেন এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইয়াহুদী ইউনিটগুলোর নেতৃত্বও করেছিলেন। আরবী উৎসসমূহেও এর সমর্থন পাওয়া যায় ।”
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 190]