- Aপুষ্টি
- Bশ্বসন
- Cসঞ্চলন
- Dঅভিযোজন
Time Taken:
Correct Answer:
Wrong Answer:
Percentage: %
Answer: (ক) পুষ্টি
Explanation: পুষ্টি হলো জীবন্ত দেহের প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহ খাদ্য থেকে শক্তি ও পুষ্টির উপাদান গ্রহণ করে এবং তা ব্যবহার করে গঠন, বৃদ্ধি, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। পুষ্টির পাঁচটি প্রধান ধাপ রয়েছে:
খাদ্যগ্রহণ: জীবন্ত দেহ খাদ্য গ্রহণ করে মুখ দিয়ে।
পরিপাক: খাদ্যকে ভেঙে ছোট ছোট অংশে পরিণত করতে এনজাইম ব্যবহার করা হয়।
শোষণ: পরিপাককৃত খাদ্য ক্ষুদ্রান্ত্র থেকে রক্তে শোষিত হয়।
আত্তীকরণ: শোষিত খাদ্য রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন কোষে পৌঁছে দেওয়া হয়।
অপাচ্য খাদ্য বহিষ্করণ: পরিপাক হয়নি এমন খাদ্য মলদ্বার দিয়ে বহিষ্কৃত হয়।
পুষ্টির এই পাঁচটি ধাপ জীবন্ত দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য। পুষ্টির অভাবের কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিতে পারে।
Answer: শ্বসন
Explanation:
শ্বসন হলো একটি জৈবিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে শরীরে প্রবেশ করে অক্সিজেন এবং শরীর থেকে বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয় কার্বন ডাই অক্সাইড। শ্বসনের মাধ্যমে শরীরে শক্তি উৎপন্ন হয়।
শ্বসন দুই ধরনের হয়:
বাহ্যিক শ্বসন: বায়ুমণ্ডল থেকে শরীরে অক্সিজেন গ্রহণ এবং শরীর থেকে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমকে বলা হয় বাহ্যিক শ্বসন।
অভ্যন্তরীণ শ্বসন: কোষের সাইটোপ্লাজমে গ্লুকোজের অক্সিডেশন প্রক্রিয়াকে বলা হয় অভ্যন্তরীণ শ্বসন।
বাহ্যিক শ্বসন মূলত ফুসফুসের মাধ্যমে হয়। ফুসফুসে বায়ুথলি থাকে যাকে অ্যালভিওলি বলা হয়। অ্যালভিওলিতে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের আদানপ্রদান হয়।
অভ্যন্তরীণ শ্বসন কোষের সাইটোপ্লাজমের মাইটোকন্ড্রিয়ায় হয়। মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিকেন্দ্র বলা হয়। মাইটোকন্ড্রিয়ায় গ্লুকোজ অক্সিডাইজ হয়ে শক্তি উৎপন্ন হয়।
Answer: (ক) সংবহন
Explanation:
সংবহন হলো দেহের বিভিন্ন অংশে রক্তের মাধ্যমে খাদ্যের সারাংশ, শ্বাসবায়ু (O2) এবং বর্জ্য পদার্থ পরিবহনের প্রক্রিয়া। রক্ত হৃৎপিণ্ড দ্বারা দেহের বিভিন্ন অংশে পাম্প করা হয় এবং রক্তনালী দিয়ে প্রবাহিত হয়।
খাদ্যের সারাংশ খাদ্যনালী দিয়ে পাকস্থলীতে যায়, যেখানে এটি ভাঙা হয় এবং শোষণের জন্য ক্ষুদ্র অন্ত্রে পাঠানো হয়। ক্ষুদ্র অন্ত্র থেকে, খাদ্যের সারাংশ রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে এবং দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো হয়।
শ্বাসবায়ু (O2) ফুসফুসে শোষিত হয় এবং রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে। রক্তের মাধ্যমে, O2 দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছানো হয়, যেখানে এটি কোষগুলির শক্তি উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বর্জ্য পদার্থ কোষগুলিতে উৎপন্ন হয় এবং রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে। রক্তের মাধ্যমে, বর্জ্য পদার্থ কিডনী, ফুসফুস এবং ত্বকের মতো নিঃসরণকারী অঙ্গগুলিতে পৌঁছানো হয়, যেখানে এটি দেহ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
Answer: (খ) রেচন
Explanation:
রেচন হলো দেহ থেকে ক্ষতিকারক বর্জ্যকে বার করে দেওয়ার প্রক্রিয়া। দেহে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলে যে বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তাকে রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ থেকে বার করে দেওয়া হয়। রেচন প্রক্রিয়াটি দুই ভাগে বিভক্ত: মূত্রব্যবস্থা এবং পাচনতন্ত্র।
Answer: (গ) গমন
Explanation:
গমন হলো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থান পরিবর্তন করার প্রক্রিয়া। গমন প্রক্রিয়াটি প্রাণীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গমন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাণীরা খাদ্য ও পানি সংগ্রহ করতে পারে, শিকারীদের থেকে রক্ষা পেতে পারে এবং প্রজনন করতে পারে।
গমন প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন প্রাণীর জন্য বিভিন্ন রকম হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, স্তন্যপায়ী প্রাণীরা চার পা ব্যবহার করে গমন করে, পাখিরা দুই পা এবং দুই ডানা ব্যবহার করে গমন করে এবং সরীসৃপ প্রাণীরা পেটের উপর সরিয়ে সরিয়ে গমন করে।
গমন প্রক্রিয়াটি দেহের বিভিন্ন পেশির সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়। গমন প্রক্রিয়ার সময় পেশিগুলো সঙ্কুচিত ও শিথিল হয়ে দেহকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নিতে সাহায্য করে।
Answer: (ক) স্নায়বিক সমন্বয়
Explanation:
স্নায়বিক সমন্বয় হলো পরিবেশের উদ্দীপনায় সাড়া দেওয়া ও পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলার প্রক্রিয়া। স্নায়বিক সমন্বয় প্রক্রিয়ায় স্নায়ুকোষ এবং স্নায়ুতন্ত্রের অন্যান্য কোষগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
স্নায়ুকোষগুলি দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে সংবেদনশীল তথ্য গ্রহণ করে এবং সেই তথ্য মস্তিষ্কে পাঠায়। মস্তিষ্কটি সংবেদনশীল তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং দেহকে সঠিকভাবে সাড়া দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নির্দেশ অনুযায়ী স্নায়ুকোষগুলি পেশিকোষগুলিকে সংকেত পাঠায়, যার ফলে পেশিকোষগুলি সঙ্কুচিত ও শিথিল হয়ে দেহকে সঠিকভাবে সারা দেয়।
স্নায়বিক সমন্বয় প্রক্রিয়াটি দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্নায়বিক সমন্বয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহ বিভিন্ন উদ্দীপকের প্রতি সাড়া দিতে পারে এবং পরিবর্তিত পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে চলতে পারে।
Answer: (ক) জনন
Explanation:
জনন হলো সংখ্যাবৃদ্ধি করা ও অস্তিত্বরক্ষা করার প্রক্রিয়া। জনন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টি হয় এবং কোনো প্রজাতির অস্তিত্ব বজায় থাকে। জনন প্রক্রিয়াটি দুই ভাগে বিভক্ত: অযৌন জনন ও যৌন জনন।
অযৌন জননে একটি জীব থেকে নতুন জীব সৃষ্টি হয়। অযৌন জননের উদাহরণ হলো বিভাজন, কুঁড়ি গজানো, স্পোর গঠন ইত্যাদি।
যৌন জননে দুটি জীবের প্রজনন কক্ষের সংযুক্তির মাধ্যমে নতুন জীব সৃষ্টি হয়। যৌন জননের উদাহরণ হলো মানুষ, প্রাণী, উদ্ভিদ ইত্যাদির জনন।
জনন প্রক্রিয়াটি দেহের বিভিন্ন পেশির সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়। জনন প্রক্রিয়ার সময় পেশিগুলো সঙ্কুচিত ও শিথিল হয়ে নতুন জীব সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে।
Answer: প্রত্যেকটি অঙ্গ একাধিক কলা নিয়ে গঠিত।
প্রাণীদেহে নানা কাজ করতে পাকস্থলী, যকৃৎ, ফুসফুস, হূৎপিণ্ড, বৃক্ক, মস্তিষ্কের মতো অঙ্গ ব্যবহৃত হয়। উদ্ভিদদেহে একইভাবে মূল, কাণ্ড ও পাতার মতো অঙ্গ ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেকটি অঙ্গ একাধিক কলা নিয়ে গঠিত। প্রত্যেকটি কলা আবার একইরকম কাজ করতে পারে এরকম কোশের সমষ্টিমাত্র। অর্থাৎ জীবদেহ গঠনের ধাপগুলো হলো— (জীবদেহ → অঙ্গতন্ত্র → অঙ্গ → কলা → কোশ)।
Answer: (ঘ) খাদ্য সঞ্চয় ও পরিবহণ করা
Explanation: উদ্ভিদদেহে সারাদিন ধরে চলতে থাকা কাজগুলির মধ্যে খাদ্য সঞ্চয় ও পরিবহণ করা প্রাণীদেহেও দেখা যায়। প্রাণীদেহে খাদ্য সঞ্চয় ও পরিবহণ করা হয় শর্করা, গ্লাইকোজেন, চর্বি ইত্যাদির মাধ্যমে। উদ্ভিদদেহে খাদ্য সঞ্চয় ও পরিবহণ করা হয় শর্করা, স্টার্চ, তেল, প্রোটিন ইত্যাদির মাধ্যমে।
উদ্ভিদদেহে অন্যান্য কাজগুলি প্রাণীদেহে দেখা যায় না। মাটি থেকে জল তোলা ও পাতায় পরিবহণ করা, সূর্যের আলো শোষণ করা ও খাদ্য তৈরি করা, অতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে বের করে দেওয়া ইত্যাদি কাজগুলি উদ্ভিদদেহেই কেবল দেখা যায়।
Answer: সবগুলি
উদ্ভিদদেহেও প্রাণীদেহের মতো না হলেও অন্যান্য নানা কাজ সারাদিন ধরে চলতে থাকে। যেমন—
• মাটি থেকে জল তোলা ও পাতায় পরিবহণ করা। সূর্যের আলো শোষণ করা ও খাদ্য তৈরি করা।
• অতিরিক্ত জল বাষ্পাকারে বের করে দেওয়া।
• খাদ্য সঞ্চয় ও পরিবহণ করা।
• ফুল, ফল ও বীজ তৈরি করা।
• সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা।