উত্তরঃ হযরত হালীমা সাদিয়া বর্ণনা করেন- আমি তায়েফ থেকে বনু সাদের মহিলাদের সঙ্গে দুগ্ধপায়ী শিশুদের খোঁজে মক্কায় গেলাম। সে বছরটি ছিলো দুর্ভিক্ষের। আমার কোলেও একটি শিশু ছিলো। ক্ষুধা ও অভাবের তাড়নায় আমার এতটুকু দুধ ছিলনা যা তার জন্যেই যথেষ্ট হয়। সারারাত সে ক্ষুধায় ছটফট করত। এজন্য আমরা বসে বসে রাত কাটাতাম। আমাদের একটি উষ্টা ছিলো কিন্তু তারও দুধ ছিলোনা । মক্কার সফরে আমি যে গাধায় আরোহী ছিলাম, সেটিও এতো দুর্বল ছিল যে, অন্যদের সঙ্গে সমান তালে চলতে সক্ষম ছিলনা। আমার সঙ্গীরাও এ কারণে বিরক্ত হচ্ছিল। অবশেষে দারুণ কষ্টে এ সফর অতিক্রান্ত হলো। মক্কা পৌছলাম। রাসূল (সা.) কে যে মহিলাই দেখতো এবং শুনতো যে, তিনি ইয়াতীম তখন কেউ তাকে গ্রহণ করত না। কেননা এতে তাদের বেশী সম্মানী ও পুরস্কার পাওয়ার ভরসা ছিলনা। এদিকে হালীমা সাদিয়ার ভাগ্যের তারকা ঝলমল করছিল। তাঁর দুধের স্বল্পতাই তাঁর জন্য রহমত হয়ে গেলো। কেননা তার দুধের স্বল্পতা দেখে কেউ তাঁর কাছে স্বীয় সন্তানকে দিতে রাজী হলো না। হযরত হালীমা (রা.) বর্ণনা করেন, আমি আমার স্বামীকে বললাম- শুণ্য হাতে ফিরে যাওয়া ঠিক হবে না। খালি যাওয়ার চেয়ে ভাল হবে এ ইয়াতীম শিশুটিকে নিয়ে চলুন। স্বামী এতে সম্মত হলেন এবং ইয়াতীম রত্নটিকে নিয়ে এলেন। যার আলোকচছটায় কেবলমাত্র হালীমা ও আমিনার গৃহই নয়; বরং পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত উদ্ভাসিত হওয়ার প্রতীক্ষায় ছিলো ।