মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
শুধু ইবাদাত করার উদ্দেশ্যেই আল্লাহ তাআলা এ বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন। যেমন কুরআন বলছে :
"আমি জ্বিন এবং মানুষকে একমাত্র আমার ইবাদাতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।”-সূরা আয যারিয়াত : ৫৬
যত রাসূল দুনিয়ায় আগমন করেছেন এ উদ্দেশ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্যই আগমন করেছেন। নূহ আলাইহিস সালাম নিজ জাতিকে উদ্দেশ করে বলেছেন:
“হে আমার জাতি! আল্লাহর বন্দেগী করো; তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো ইলাহ নেই।"-সূরা আল আরাফ : ৫৯
হুদ আলাইহিস সালাম, সালেহ আলাইহিস সালাম, শোয়ায়েব আলাইহিস সালাম- মোটকথা সকল নবী আলাইহিমুস সালাম তাঁদের নিজ নিজ জাতিকে এ আহবানই জানিয়েছিলেন।
কুরআন অকাট্যভাবে ঘোষণা করছে:
"আমি প্রত্যেক জাতির নিকট একজন পয়গাম্বর পাঠিয়েছি। তাঁরা মানুষের নিকট এ পয়গাম পৌছিয়েছে: হে মানুষেরা! তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাগুতকে পরিহার করো।" -সূরা আন নাহল: ৩৬
হে নবী! তোমার আগে আমি যেসব নবী দুনিয়ায় পাঠিয়েছি তাদের প্রতি আমি এ ওহীই নাযিল করেছিলাম। "আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো।" -সূরা আল আম্বিয়া: ২৫
"নিসন্দেহে তোমাদের এই উম্মাহ একই উম্মাহ, আর আমিই তোমাদের সকলের 'রব'। অতএব তোমরা আমার ইবাদাত করো।" -সূরা আল আম্বিয়া : ৯২
একথা সুস্পষ্ট হওয়া দরকার যে, এ আয়াতে "ইবাদাত করো” শুধু সাধারণ মানুষ অর্থাৎ উম্মতকে উদ্দেশ করেই বলা হয়নি। বরং এ দাওয়াতের দা'য়ী এবং পয়গামের মুবাল্লিগ আম্বিয়ায়ে কিরামও এর মধ্যে শামিল। অন্য জায়গায়ও এ সম্বন্ধে বলা হয়েছে:
"হে রাসূলগণ! পাক পবিত্র জিনিস খাও এবং নেক আমল করো, নিসন্দেহে আমি তোমাদের আমল সম্পর্কে অবহিত।" -সূরা মু'মিনূন : ৫১
আর এক আয়াতে এ ব্যাপারটিকে আরো স্পষ্ট করে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে। নবী করীম (সা)-কে উদ্দেশ করে এরশাদ হয়েছেঃ
"(হে মুহাম্মাদ!) আপনার রবের ইবাদাত করতে থাকুন। যতক্ষণ না নিশ্চিত ব্যাপারটির (মৃত্যু) সময় এসে যাবে।” -সূরা আল হিজর : ৯৯
এ ইবাদাতকে আম্বিয়া ও মালায়িকার পরম গুণাগুণ হিসেবে আল্লাহ তা'আলা প্রশংসা করে উল্লেখ করেছেন:
"আসমান ও যমীনে যা যা আছে সবই তাঁর। যেসব (ফেরেশতা) তাঁর দরবারে আছে তারা কখনো ইবাদাত থেকে মুখ ফিরায় না। না তারা ক্লান্ত হয়। রাতদিন অনবরত তার পবিত্রতা বর্ণনা করে। এতে একটু অবহেলা প্রদর্শন করে না।"-সূরা আল আম্বিয়া: ১৯-২০
"যারা (ফেরেশতা) তোমার রবের নিকট আছে তারা কখনো তাঁর নাফরমানী করে না। তারা তাঁর গুণগান করতে থাকে, তাঁর দরবারে সেজদায় রত থাকে।" -সূরা আল আ'রাফ: ২০৬
এর বিপরীত রয়েছে ওইসব লোক, যারা নিজেদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য পূরণ করে না এবং আল্লাহর সামনে মাথা নত করার পরিবর্তে অহমিকায় নিমজ্জিত হয়। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন:
"যারা আমার দাসত্ব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং হঠকারিতায় নিমজ্জিত হয়, তারা অবশ্যই বড় লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।”-সূরা আল মু'মিন : ৬০