- Aউচ্চ ও সচ্ছল পরিবার গুলোতে
- Bনিম্ন পরিবার গুলোতে
- Cমধ্যবিত্ত পরিবার গুলোতে
- Dব্রাহ্মণদের পরিবার গুলোতে
Time Taken:
Correct Answer:
Wrong Answer:
Percentage: %
ইরানের লোকেরা আগুনের দিকে মুখ করে পূজা করত। ইরানের শেষ সম্রাট ইয়াযদাগিদ একবার সূর্যের কসম খেয়ে একথা বলেছিলেন :
“আমি সূর্যের কসম খাচ্ছি যিনি সবচেয়ে বড় উপাস্য।” তিনি সেইসব খৃস্টানকে, যারা খৃস্ট ধর্ম থেকে তওবা করেছিল, বাধ্য করেছিলেন তাদের ধর্মনিষ্ঠা প্রমাণের জন্য সূর্যের পূজা করতে। ইরানের লোকেরা সর্বকালে ও সর্বযুগেই দ্বিত্ববাদের শিকার ছিল অর্থাৎ তারা দুই খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাসী ছিল । এমন কি এটাই তাদের আলামত ও পরিচয়জ্ঞাপক চিহ্নে পরিণত হয়। তারা দুই খোদার সমর্থক ছিল। এক খোদা আলোর বা কল্যাণের যাকে তারা আহূরমাযদা বা য়াযদান বলত। দ্বিতীয় খোদা অন্ধকার বা মন্দের যার নাম রেখেছিল তারা আহরিমান । তাদের বিশ্বাস ছিল যে, এই দুই খোদার মধ্যে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও শক্তি পরীক্ষা আগাগোড়া চলে আসছে।
“ইরানী ধর্মের এসব ঐতিহাসিক তাদের উপাস্য মা'বূদদের সম্পর্কে যেসব কাহিনী লিখেছেন এবং গোটা পৌরাণিক উপাখ্যান তৈরি করেছেন তা তাদের অত্যুদ্ভুত বিস্ময়প্রিয়তা এবং বিস্তারিত ও খুঁটিনাটি বিষয়ে গ্রীক কিংবা ভারতীয় পৌরাণিক কাহিনী থেকে কোনভাবেই কম নয়।”
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 49]
থাকল হিন্দু ধর্ম! এ হিন্দু ধর্ম তো দেবদবীর আধিক্যের ক্ষেত্রে অপরাপর ধর্মের তুলনায় অনেক অগ্রসর। খৃস্টীয় ষষ্ঠ শতাব্দীতে মূর্তি পূজার ছিল রমরমা রাজত্ব । এই শতকে তাদের উপাস্য দেবতার সংখ্যা তেত্রিশ কোটিতে গিয়ে উপনীত হয়েছিল। মোটের ওপর প্রতিটি বৃহৎ কিংবা ভয়াবহ অথবা উপকারী বস্তুই ছিল তাদের উপাস্য দেবতা। মূর্তি নির্মাণ ও ভাস্কর্য তৈরি বিদ্যা চরমোৎকর্ষ লাভ করেছিল এবং এ ক্ষেত্রে নিত্য-নতুন কলাকৌশল উদ্ভাবিত হচ্ছিল ।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 50]
আরবদের সম্পর্কে যতটুকু জানা যায় তাতে দেখা যায় যে, প্রাচীন কালে তারা দীনে ইবরাহীম (আ)-এর ধারক-বাহক ছিল এবং তাদের ভূখণ্ডেই আল্লাহ্র সর্বপ্রথম ঘর নির্মিত হয়। কিন্তু নবুওয়াত ও আম্বিয়ায়ে কিরামের সঙ্গে কালের দূরত্ব এবং আরব উপদ্বীপে বৃত্তাবদ্ধ হবার কারণে তারা খুবই নিম্নস্তরের পৌত্তলিকতার মধ্যে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল যাদের দৃষ্টান্ত ভারতবর্ষের মূর্তিপূজক ও মুশরিক ছাড়া আর কোথাও পাওয়া যেত না। তারা শিরক ও মূর্তি পূজার ক্ষেত্রে বহু দূর এগিয়ে গিয়েছিল এবং এক আল্লাহর পরিবর্তে বহু উপাস্য দেবতায় তারা বিশ্বাস করত । এসব স্বনির্মিত উপাস্য দেবতা গোটা সৃষ্টি জগতের ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা বিধানে আল্লাহ্র সঙ্গে শরীক, কল্যাণ-অকল্যাণ ও লাভ-ক্ষতির মালিক এবং কাউকে জীবিত রাখার বা মারার ব্যক্তিগত ক্ষমতার অধিকারী বলে বিশ্বাস করত। গোটা আরব জাতিগোষ্ঠী পৌত্তলিকতার মধ্যে আকন্ঠ নিমজ্জিত হয়ে গিয়েছিল । প্রতিটি গোত্র ও প্রতিটি এলাকার পৃথক উপাস্য দেবতা ছিল। যদি বলা হয় যে, আরবের প্রতিটি ঘরই একেকটি পুতুল গৃহে পরিণত হয়েছিল তবে তা অত্যুক্তি হবে না ।
স্বয়ং কা'বা শরীফের অভ্যন্তরে ও এর প্রাঙ্গণে, যে গৃহ হযরত ইবরাহীম (আ) কেবল আল্লাহ্ ইবাদত-বন্দেগীর জন্যই নির্মাণ করেছিলেন, তিন শত ষাটটি মূর্তি স্থান পেয়েছিল ।
তারা মূর্তিপূজা ও দেবদেবীর পূজা-অর্চনা থেকে অগ্রসর হয়ে শেষাবধি সব ধরনের পাথরকেই পূজা করতে শুরু করেছিল। তারা ফেরেশতা, জিন ও তারকারাজিকেও তাদের উপাস্য জ্ঞান করত । তারা বিশ্বাস করত যে, ফেরেশতারা আল্লাহ্র কন্যা সন্তান এবং আল্লাহর অংশীদার। এজন্য তারা এসবের শক্তি ও প্রভাবে বিশ্বাসী ছিল এবং এর পূজা-অর্চনাকে অপরিহার্য জ্ঞান করত ।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 51-52]
এই জীবন-সংহিতা তথা সংবিধান ভারতবর্ষের অধিবাসীদেরকে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করেছিল :
১. ধর্মের ইজারাদার ও পুরোহিতশ্রেণী যাদেরকে ‘ব্রাহ্মণ' বলা হত ।
২. সেনাদলে কর্মরত লোকজন যাদেরকে ‘ক্ষত্রিয়’ বলা হত ।
৩. কৃষিজীবী ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় যাদেরকে বৈশ্য' বলা হত ।
৪. চাকর-বাকর ও সেবক শ্রেণী অর্থাৎ অচ্ছ্যুৎ বা শূদ্র সম্প্রদায় ।
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 59]
আলেকজান্দ্রিয়া
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 88]
আমর ইবনে লুআই
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 98]
বিবি হাজেরা ও পুত্র ইসমাঈল
[তথ্যসূত্র: নবীয়ে রহমত - সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম - সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী - আবু সাঈদ মুহাম্মদ ওমর আলী অনূদিত - পৃষ্ঠা নম্বর: 92]