- Aহযরত আদম (আলাইহিস সালাম)
- Bহযরত নূহ (আলাইহিস সালাম)
- Cহযরত ইদরীস (আলাইহিস সালাম)
- Dহযরত হূদ (আলাইহিস সালাম)
Time Taken:
Correct Answer:
Wrong Answer:
Percentage: %
হযরত আদম (আলাইহিস সালাম)
প্রথম মানুষ আদি পিতা আদম (আঃ)-কে আল্লাহ সর্ব বিষয়ের জ্ঞান ও যোগ্যতা দান করেন এবং বিশ্বে আল্লাহর খেলাফত পরিচালনার মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন।
আদম (আঃ) ছিলেন বিশ্বের প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী। তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। আল্লাহ পাক তাঁকে সর্বোচ্চ খেলাফতের মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন। এটি ছিল একটি বিশেষ মর্যাদা যা শুধুমাত্র আদম (আঃ)-কেই দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহ পাক জিন-ফিরিশতাদেরকে আদম (আঃ)-কে সিজদা করার আদেশ দিয়েছিলেন মানুষের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য।
প্রথম মানুষ আদি পিতা আদম (আঃ)-কে আল্লাহ সর্ব বিষয়ের জ্ঞান ও যোগ্যতা দান করেন এবং বিশ্বে আল্লাহর খেলাফত পরিচালনার মর্যাদায় অভিষিক্ত করেন। সাথে সাথে সকল সৃষ্ট বস্ত্তকে করে দেন মানুষের অনুগত (লোকমান ৩১/২০) ও সবকিছুর উপরে দেন মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব (ইসরা ১৭/৭০)। আর সেকারণেই জিন-ফিরিশতা সবাইকে মানুষের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য আদমকে সিজদা করার আদেশ দেন। সবাই সে নির্দেশ মেনে নিয়েছিল। কিন্তু ইবলীস অহংকার বশে সে নির্দেশ অমান্য করায় চিরকালের মত অভিশপ্ত হয়ে যায় (বাক্বারাহ ২/৩৪)। অথচ সে ছিল বড় আলেম ও ইবাদতগুযার। সেকারণ জিন জাতির হওয়া সত্ত্বেও সে ফিরিশতাদের সঙ্গে বসবাস করার অনুমতি পেয়েছিল ও তাদের নেতা হয়েছিল। [1] কিন্তু আদমের উচ্চ মর্যাদা দেখে সে ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে। ফলে অহংকার বশে আদমকে সিজদা না করায় এবং আল্লাহ ভীতি না থাকায় সে আল্লাহর গযবে পতিত হয়।
[1]. ইবনু কাছীর, আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ (বৈরুত:দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ, তাবি) ১/৬৭।
উত্তর: B) ইবলিস আল্লাহর সৃষ্টিকুলের সেরা বলে গণ্য হত।
ইবলিস ছিলেন একজন অত্যন্ত জ্ঞানী ফেরেশতা। তিনি আল্লাহর জ্ঞানের অনেক বিষয় জানতেন। কিন্তু তার জ্ঞান ছিল তাকওয়া বিহীন। তিনি আল্লাহর ভয় না করে নিজের ইচ্ছা পূরণের জন্য চেষ্টা করতেন। এই কারণেই তিনি আল্লাহর আদেশ অমান্য করেন এবং আদমকে সিজদা করতে অস্বীকার করেন।
আল্লাহ পাক ইবলিসের এই অবাধ্যতায় ক্রুদ্ধ হন এবং তাকে শাস্তি দেন। তিনি ইবলিসকে জান্নাত থেকে বের করে দেন এবং তাকে অভিশপ্ত করেন।
এই ঘটনা থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি যে জ্ঞান যতই বেশি হোক না কেন, তাকওয়া ছাড়া তা কোন কাজে আসে না। তাকওয়াই হলো ঈমানের মূল ভিত্তি। তাকওয়া বিহীন জ্ঞান শুধুমাত্র অহংকার এবং বিপদ বয়ে আনে।
উত্তর: A) পরীক্ষা স্বরূপ
ইবলিসকে আল্লাহ মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে আল্লাহর পথে চলতে হলে ইবলিসকে প্রতিহত করতে হবে। ইবলিস মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে। মানুষকে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
উত্তর: A) মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুৎ করা এবং তাকে ধোঁকা দেওয়া।
ইবলিস বা শয়তানের একমাত্র কাজ হল মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুৎ করা এবং তাকে ধোঁকা দেওয়া। তিনি মানুষকে বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে, তাদেরকে পাপের দিকে ধাবিত করে। তিনি মানুষকে এমন কাজ করতে প্ররোচিত করে যা আল্লাহর নির্দেশের বিরুদ্ধে।
কুরআনে ইবলিসকে "আস-সাইয়্যাত" বা "শয়তান" নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হল "প্রতারক" বা "ধোকাবাজ"। ইবলিস নিজেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু তিনি আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছিলেন এবং আদমকে সিজদা করতে অস্বীকার করেছিলেন। এই কারণেই তিনি অভিশপ্ত হয়েছিলেন এবং তাকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।
ইবলিস এখন কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য একটি পরীক্ষা। মানুষকে আল্লাহর পথে চলতে হলে ইবলিসকে প্রতিহত করতে হবে। ইবলিস মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করে। মানুষকে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
উত্তর: A) এক লক্ষ চবিবশ হাজার
আদম থেকে শুরু করে শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) পর্যন্ত এক লক্ষ চবিবশ হাযার পয়গাম্বর দুনিয়াতে এসেছেন[1] এবং বর্তমানে সর্বশেষ এলাহীগ্রন্থ পবিত্র কুরআনের ধারক ও বাহক মুসলিম ওলামায়ে কেরাম শেষনবীর ‘ওয়ারিছ’ হিসাবে[2] আল্লাহ প্রেরিত অহীর বিধান সমূহ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেবার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন (মায়েদাহ ৫/৬৭)।
ইসলামী পরিভাষায়, খলীফা হলেন এমন ব্যক্তি যিনি মুহাম্মদ (সা.) এর পর মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্ব দেন। তিনি ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী মুসলিম উম্মাহকে পরিচালনা করেন। খলীফা মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা ও আদর্শের আলোকে মুসলিম উম্মাহকে পরিচালনা করেন। সুতরাং, ‘খলীফা’ শব্দটির বাংলা অর্থ হল ‘প্রতিনিধি’।
হযরত আদম (আঃ) ছিলেন মানব জাতির প্রথম মানুষ এবং প্রথম নবী। তিনি কোনো পিতা-মাতার মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেননি। বরং আল্লাহ তাআলা তাঁকে সরাসরি সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। কুরআনে উল্লেখ আছে, "নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট ঈসা (আঃ)-এর দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্তের মত। তাঁকে তিনি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তাকে বলেছেন 'হও', সুতরাং সে হয়ে গেছে।" (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৫৯)। এই আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, হযরত ঈসা (আঃ)-এর জন্ম পিতা ছাড়া হলেও তাঁর মা ছিলেন, কিন্তু হযরত আদম (আঃ)-এর কোনো পিতা-মাতা কেউই ছিলেন না। আল্লাহ তাআলা সরাসরি তাঁকে সৃষ্টি করেন এবং পরবর্তীতে হযরত হাওয়া (আঃ)-কে তাঁর সঙ্গিনী হিসেবে সৃষ্টি করেন আদম (আঃ)-এর একটি পাঁজরের হাড় থেকে। সুতরাং ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে এটি পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত যে আদম (আঃ) হলেন সেই নবী যাঁর পিতা-মাতা কেউই ছিল না। এই কারণেই তিনি মানব জাতির 'আদি পিতা' হিসেবে পরিচিত। তিনি ছিলেন প্রথম মানব এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে পৃথিবীতে প্রেরিত প্রথম নবী, যাঁকে হেদায়েত ও নির্দেশনার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল। তাঁর মাধ্যমে মানবজাতির যাত্রা শুরু হয় এবং সকল নবী-রাসূলের ধারা তাঁর মাধ্যমেই সূচিত হয়। এই প্রশ্নের উত্তর ও ব্যাখ্যা ইসলামি বিশ্বাস ও কুরআনের আলোকে একদম স্পষ্ট ও সঠিক।