Table of Contents

    উদ্ভিদদেহে ও প্রাণীদেহে কোশের কাজের বিশেষত্ব ও কলার প্রকারভেদ

    উদ্ভিদদেহে ও প্রাণীদেহে কোষের কাজের বিশেষত্ব ও কলার প্রকারভেদ

    জীবদেহের গঠন ও কার্যক্রম পরিচালনার মূল একক হলো কোষ। বহু কোষ একত্রিত হয়ে কলা বা টিস্যু গঠন করে।

    উদ্ভিদদেহ ও প্রাণীদেহে কোষের গঠন, কাজ এবং কলার ধরনে অনেক পার্থক্য দেখা যায়। কারণ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনযাত্রা এবং কাজের ধরন ভিন্ন।


    কোষের কাজের বিশেষত্ব

    জীবদেহের বিভিন্ন কোষ নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য বিশেষ আকৃতি ও গঠন ধারণ করে। এই বৈশিষ্ট্যকে কোষের কাজের বিশেষত্ব বলা হয়।

    উদাহরণস্বরূপ:

    • স্নায়ুকোষ তথ্য আদান-প্রদান করে।
    • পেশিকোষ সংকোচন ও প্রসারণ ঘটায়।
    • রক্তকণিকা অক্সিজেন পরিবহন করে।

    উদ্ভিদদেহে কোষের কাজের বিশেষত্ব

    উদ্ভিদের বিভিন্ন কোষ বিভিন্ন বিশেষ কাজ সম্পন্ন করে।

    কোষের নাম বিশেষ কাজ
    ক্লোরেনকাইমা কোষ সালোকসংশ্লেষণ
    জাইলেম কোষ পানি ও খনিজ পরিবহন
    ফ্লোয়েম কোষ খাদ্য পরিবহন
    রন্ধ্ররক্ষী কোষ রন্ধ্র খোলা ও বন্ধ নিয়ন্ত্রণ
    মূলরোম কোষ মাটি থেকে পানি শোষণ

    প্রাণীদেহে কোষের কাজের বিশেষত্ব

    প্রাণীদেহের কোষগুলোও নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য বিশেষভাবে গঠিত।

    কোষের নাম বিশেষ কাজ
    লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন পরিবহন
    শ্বেত রক্তকণিকা রোগ প্রতিরোধ
    স্নায়ুকোষ সংবেদন পরিবহন
    পেশিকোষ সংকোচন ও চলন
    প্রজনন কোষ বংশবিস্তার

    কলা বা টিস্যু কী?

    একই ধরনের গঠন ও কাজবিশিষ্ট একগুচ্ছ কোষ একত্রে মিলিত হয়ে কলা বা টিস্যু গঠন করে।

    কলা জীবদেহের নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করে।


    উদ্ভিদ কলার প্রকারভেদ

    উদ্ভিদ কলা প্রধানত দুই প্রকার:

    1. বিভাজ্য কলা (Meristematic Tissue)
    2. স্থায়ী কলা (Permanent Tissue)

    ১. বিভাজ্য কলা

    যেসব কলার কোষ ক্রমাগত বিভাজিত হতে পারে, তাদের বিভাজ্য কলা বলা হয়।

    বৈশিষ্ট্য

    • কোষ বিভাজন ঘটে
    • ছোট ও ঘন কোষ
    • বৃদ্ধিতে সাহায্য করে

    প্রকারভেদ

    • অগ্রস্থ বিভাজ্য কলা
    • মধ্যস্থ বিভাজ্য কলা
    • পার্শ্বীয় বিভাজ্য কলা

    ২. স্থায়ী কলা

    বিভাজন ক্ষমতা হারানো কলাকে স্থায়ী কলা বলা হয়।

    স্থায়ী কলার প্রকারভেদ

    • সরল স্থায়ী কলা
    • জটিল স্থায়ী কলা

    ক) সরল স্থায়ী কলা

    একই ধরনের কোষ দ্বারা গঠিত কলাকে সরল স্থায়ী কলা বলা হয়।

    উদাহরণ
    • প্যারেনকাইমা
    • কোলেনকাইমা
    • স্ক্লেরেনকাইমা

    খ) জটিল স্থায়ী কলা

    বিভিন্ন ধরনের কোষ নিয়ে গঠিত কলাকে জটিল স্থায়ী কলা বলা হয়।

    উদাহরণ
    • জাইলেম
    • ফ্লোয়েম

    প্রাণী কলার প্রকারভেদ

    প্রাণীদেহের কলা প্রধানত চার প্রকার:

    1. আবরণী কলা
    2. যোজক কলা
    3. পেশি কলা
    4. স্নায়ু কলা

    ১. আবরণী কলা (Epithelial Tissue)

    দেহের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অংশ আবৃত করে রাখে।

    কাজ

    • সুরক্ষা প্রদান
    • শোষণ
    • নিঃসরণ

    ২. যোজক কলা (Connective Tissue)

    বিভিন্ন অঙ্গকে সংযুক্ত ও সমর্থন করে।

    উদাহরণ

    • রক্ত
    • অস্থি
    • তরুণাস্থি

    ৩. পেশি কলা (Muscular Tissue)

    সংকোচন ও প্রসারণের মাধ্যমে চলন ঘটায়।

    প্রকারভেদ

    • ডোরাকাটা পেশি
    • মসৃণ পেশি
    • হৃদপেশি

    ৪. স্নায়ু কলা (Nervous Tissue)

    স্নায়ুবার্তা আদান-প্রদান করে।

    এটি দেহের নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন করে।


    উদ্ভিদ ও প্রাণী কলার পার্থক্য

    উদ্ভিদ কলা প্রাণী কলা
    বৃদ্ধি প্রধান কাজ চলন ও সংবেদন প্রধান কাজ
    কোষপ্রাচীর থাকে কোষপ্রাচীর থাকে না
    জাইলেম ও ফ্লোয়েম থাকে রক্ত ও স্নায়ু কলা থাকে
    চলন কম চলন বেশি

    কলার গুরুত্ব

    • জীবদেহের বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে
    • অঙ্গ গঠনে সাহায্য করে
    • দেহের সমন্বয় বজায় রাখে
    • বৃদ্ধি ও সুরক্ষা প্রদান করে

    উপসংহার

    উদ্ভিদদেহ ও প্রাণীদেহে কোষের কাজের বিশেষত্বের কারণে বিভিন্ন ধরনের কলা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি কলা নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের জন্য বিশেষভাবে গঠিত।

    জীবদেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোষ ও কলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।