ইসলামি উৎসসমূহ অনুযায়ী, মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা এবং এ নিয়ে আলোচনা করার অনেক বড় ফজিলত ও উপকারিতা রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, "তোমরা স্বাদ বিনাশকারী তথা মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করো" [১০৩, ১০৪]। এর ফজিলতগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. প্রকৃত বুদ্ধিমানের পরিচয়: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, মুমিনদের মধ্যে সবচাইতে বেশি বুদ্ধিমান ও সচেতন কে? উত্তরে তিনি বলেন, "যারা মৃত্যুকে অধিকহারে স্মরণ করে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করে, তারাই সবচাইতে বুদ্ধিমান" [১০৩]।
২. তিনটি বিশেষ সম্মান লাভ: ইমাম আল-লাফফাফ (রহ.)-এর মতে, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে বেশি স্মরণ করে তাকে আল্লাহ তিনটি বিশেষ বস্তু দ্বারা সম্মানিত করেন:
৩. পার্থিব মোহ ত্যাগ: মৃত্যুর আলোচনা মানুষের অন্তর থেকে দুনিয়ার স্বাদ-আহ্লাদ এবং বিলাসিতার আকর্ষণ কমিয়ে দেয় [১০৫, ১৬৮]। এটি মানুষকে দুনিয়ার মোহ থেকে বিরাগী করে তোলে এবং পরকালের পাথেয় সংগ্রহের দিকে ধাবিত করে [১০৪, ২১৬]।
৪. হৃদয়ের কঠোরতা দূর হওয়া: সালাফ বা পূর্ববর্তী মনীষীরা বলেছেন, রুগ্ন বা কঠোর হৃদয়ের সর্বোত্তম চিকিৎসা হলো মৃত্যুকে স্মরণ করা [১০৬]। এটি হৃদয়কে কোমল ও বিগলিত করে এবং মানুষের মনে আল্লাহর ভয় ও পরকালের আশা জাগ্রত করে [১০৬, ২১৬]।
৫. গাফেল হওয়া বা ভুলে থাকার পরিণতি: পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি মৃত্যুকে ভুলে যায় তাকে তিনটি শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়: তাওবা করতে বিলম্ব করা, জীবন-জীবিকার ওপর অসন্তুষ্ট থাকা এবং ইবাদতে অলসতা প্রদর্শন করা [১০৫]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. ইমাম কুরতুবি রচিত "মৃত্যুর ওপারে: অনন্তের পথে" (অনুবাদক: আবদুন নূর সিরাজী), প্যাসেজ ইনডেক্স: (১০৩, ১০৪, ১০৫, ১০৬)। ২. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন, ইছালে সাওয়াব এবং ফিদিয়া ইত্যাদির বিধানাবলী", প্যাসেজ ইনডেক্স: (২১৬)। ৩. আব্দুল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল রচিত "মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৬৮)।
First read the answer fully, then try to explain it in your own words. After that, open a few related questions and compare the concepts. This method helps you remember the topic for a longer time and improves exam preparation.