Home / Questions / ঔপনিবেশিক বাংলায় শ্রীরামপুর মিশন আধুনিক বিজ্ঞান-চর্চায় প্রচার ও প্রসারে কীভাবে অংশ নিয়েছিল তা পর্যালোচনা করো।
Explanatory Question

ঔপনিবেশিক বাংলায় শ্রীরামপুর মিশন আধুনিক বিজ্ঞান-চর্চায় প্রচার ও প্রসারে কীভাবে অংশ নিয়েছিল তা পর্যালোচনা করো।

👁 87 Views
📘 Detailed Answer
🕒 Easy to Read
Read the answer carefully and go through the related questions on the right side to improve your understanding of this topic.

Answer with Explanation

উত্তর শ্রীরামপুর মিশন ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়। জ্ঞানবিজ্ঞানের চর্চায় বা কারিগরিবিদ্যায় বাঙালির উদ্যোগী হয়ে ওঠার আগে ইউরোপীয় লেখকেরা ঔপনিবেশিক দেশের মানুষকে আধুনিক শিক্ষাদীক্ষায় গড়ে তোলার - কাজে ব্রতী হন। বাংলা ভাষায় শিক্ষার ক্রমবিকাশে ফেলিক্স কেরি, জন ক্লার্ক - মার্শম্যান এবং রেভারেন্ড জন ম্যাকের কথা স্মরণীয়। বাংলা ভাষায় পূর্ণাঙ্গ - বিজ্ঞান গ্রন্থ ব্যবচ্ছেদ বিদ্যা (১৮১৯) ফেলিক্স কেরির রচনা। বইটির বিষয় শারীরবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিদ্যা। বাংলায় বিদ্যাহারাবলী নামে বিশ্বকোশ প্রকাশের সঙ্গে তাঁর নাম যুক্ত আছে। গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে লেখক কবিরত্ন তর্কশিরোমণির সাহায্য নেন। মার্শম্যান লিখিত বহু গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ∎ জ্যোতিষ ও গোলাধ্যায়। তাঁর সম্পাদিত দিগ্দর্শন ও সমাচার দর্পণ (১৮১৮) ■ পত্রিকায় বিজ্ঞান আলোচনা নিয়মিত প্রকাশিত হত। উইলিয়াম কেরি, পাশ্চাত্য ধারায় যে বিজ্ঞানচর্চার সূত্রপাত করেন, মার্শম্যান তাকেই বিস্তৃত করে তোলেন। = তাঁরই প্রচেষ্টায় শ্রীরামপুর কলেজে রসায়নের বীক্ষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। । কিমিয়াবিদ্যার সার তাঁর লেখা বাংলা ভাষায় রসায়নের প্রথম বই। বইটি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় লেখা। উইলিয়াম ওয়ার্ডের নেতৃত্বে শ্রীরামপুর চু মিশনের উদ্যোগে আধুনিক মুদ্রণ এবং কাগজ নির্মাণ শিল্পের বনিয়াদ গড়ে ওঠে। ক্রমে এদেশে কাগজের কল তৈরি শুরু হয়। এদেশে যন্ত্র যুগের সূচনায় শ্রীরামপুরের কাগজের কলে বাষ্পের ইঞ্জিনকে উৎপাদনের কাজে লাগানো হয় ও ক্রমে বৃহৎ কাগজ শিল্প গড়ে ওঠে। আর এভাবেই পুথিনির্ভর সাহিত্য ও মৌখিক ধারা ক্রমশ ছাপা বইয়ের বৃহত্তর আত্মপ্রকাশের সামর্থ্য অর্জন করে।