উত্তর: আমাদের দেশে সাধারণতঃ লোক মারা গেলে কুরআন খতম করে মৃতের
জন্য সওয়াব পাঠানো হয়। মৃতের সন্তানাদি, আত্মীয় স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধব স্বাভাবিকভাবেই মৃতের প্রতি মহব্বতের কারণে কুরআন খতম করে সওয়াব পৌঁছানোর চেষ্টা করে। কুরআন তিলাওয়াত খুবই ভালো কাজ। মানুষ দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে গেলে সওয়াব ছাড়া তাদেরকে আর কিছুই পাঠানো যায় না। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, ধনী লোকেরা কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য সময় খরচ করতে চায় না বা অনেকেই কুরআন ঠিকমতো পড়তে জানে না বলে আলেম-হাফেজ ও ক্বারীদের এনে কুরআন খতম করায়। যারা আত্মীয় নয় তারা নিজেদের গরজে কেন সময় খরচ করতে আসবে? তাই ধনী লোকেরা কুরআন খতমের বিনিময়ে তাদেরকে টাকা- পয়সা দেয়। এভাবে যারা টাকার বিনিময়ে কুরআন পড়ার জন্য দাওয়াত করে আনে তারা এটাকে রেওয়াজ বানিয়ে নিয়েছে।
যারা কুরআন তিলাওয়াত করতে জানে তারা যদি টাকা পাওয়ার নিয়তে আসে তাহলে এ তিলাওয়াতে কোনো সওয়াবই হবে না। যদি সওয়াব না হয়, তাহলে মৃতের জন্য কী পাঠাবে? আল্লাহর ওয়াস্তে নিঃস্বার্থভাবে যদি তিলাওয়াত না করা হয়, তাহলে এ দ্বারা মৃতের কোনো উপকার হবে না।
তা ছাড়া মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব পৌঁছানোর এ ধরনের রেওয়াজ বা পদ্ধতি নবী করীম (সাঃ), সাহাবায়ে কেরাম এমনকি তাবেঈদের যুগেও চালু ছিল বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই এটাকে অনেক আলেম এক ধরনের বিদয়াত বলেই মনে করেন।