Home / Questions / না বুঝে কুরআন (দেখে বা মুখস্থ) পড়া অর্থহীন-কথা কি সত্য?
Explanatory Question

না বুঝে কুরআন (দেখে বা মুখস্থ) পড়া অর্থহীন-কথা কি সত্য?

👁 105 Views
📘 Detailed Answer
🕒 Easy to Read
Read the answer carefully and go through the related questions on the right side to improve your understanding of this topic.

Answer with Explanation

প্রশ্নঃ না বুঝে কুরআন (দেখে বা মুখস্থ) পড়া অর্থহীন-কথা কি সত্য?

উত্তর : কুরআন মজীদ আল্লাহর বাণী। আল্লাহ পাক দুনিয়ার মানুষকে কুরআনের মারফতেই সত্য পথের সন্ধান দিয়েছেন। তাই কুরআন শুধু পাঠ বা তিলাওয়াত করার জিনিসই নয়, অনুসরণ করার উদ্দেশ্যেও পাঠ করা কর্তব্য। আল্লাহ পাক আমাদেরকে কী উপদেশ ও নির্দেশ দিয়েছেন তা না বুঝলে পালন করাই-বা কিভাবে সম্ভব? এদিক লক্ষ্য করেই কোনো কোনো লোক মন্তব্য করেন-'না বুঝে কুরআন পড়া একেবারেই বেহুদা কাজ।'

কিন্তু তারা যদি বিষয়টিকে আর একদিক হতে বিবেচনা করেন তাহলে এ ধরনের মন্তব্য কিছুতেই করতে পারবেন না। ধরুন, এমন এক ব্যক্তি মুসলমান হলো যার মাতৃভাষা আরবী নয় এবং তার পক্ষে আরবী ভাষা বুঝার মতো বিদ্যা অর্জন করাও সম্ভব নয়। এ ব্যক্তি কি বুঝতে অক্ষম বলে কুরআন পড়বে না? যদি না বুঝে পাঠ করা বা মুখস্থ পড়া অর্থহীন হয়, তাহলে কি নামাজে ক্বিরাআতও পড়বে না? এ অবস্থায় যারা আরবী ভাষা বুঝতে সক্ষম, একমাত্র তাদেরই মুসলমান হওয়া সম্ভব। অথচ মুসলমান হওয়াকে আরবী ভাষার জ্ঞানের শর্তাধীন করা হয়নি।

আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী জীবন যাপন করাই মুসলমান হওয়ার প্রকৃত উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য আরবী ভাষা জানা প্রত্যেকটি মুসলমানের জন্য ফরযে আইন নয়। মুসলিম সমাজে এরূপ কতক আলেম থাকা ফরযে আইন-যাঁদের নিকট হতে সাধারণ মুসলমানগণ আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের সুন্নাত কী তা জানতে পারে। এ হিসেবে আরবী ভাষা শিক্ষা করাকে মুসলমানদের উপর 'ফরযে কেফায়া' বলা যেতে পারে।

যারা আরবী ভাষা বুঝতে অক্ষম তারা আল্লাহর বিধান ও রাসূলের তরীকা মাতৃভাষার মাধ্যমে আলেমগণের নিকট হতে শিক্ষা করে মুসলিম হিসেবে জীবন যাপন করবেন। আল্লাহ পাক কোনো অসম্ভব কাজ মানুষের উপর চাপিয়ে দেন না। আরবী ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করলে অনেকের বেলায়ই তা অসম্ভব হতো। কিন্তু একথা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে অনুধাবন করতে হবে যে, যেসব মুসলমান ১৫/২০ বছর সময় ব্যয় করে বি.এ/এম.এ/ইঞ্জিনিয়ারিং/ ডাক্তারী ইত্যাদি ডিগ্রী হাসিল করলেন তাদের পক্ষে কুরআন বুঝার যোগ্যতা অর্জন করা অবশ্য কর্তব্য। কারণ তারাই সমাজের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্বের অধিকারী হন; সাধারণ মুসলমানগণ তাদের দ্বারাই পরিচালিত হয়। তাই কুরআনের ভাষা বুঝে সমাজকে আল্লাহর হুকুম ও রাসূলের সুন্নাত অনুযায়ী পরিচালনা করার দায়িত্ব ঐসব ডিগ্রিধারীদেরই। যারা কুরআন ও হাদীসের ইল্ম হাসিল করেন এবং অজ্ঞ সমাজকে ইসলামের আলো বিতরণ করেন তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব হতে দূরে থেকে এসব ডিগ্রিধারীর অবহেলিত দায়িত্ব পালনের-ই চেষ্টা করেন। তাই দায়িত্বের দিক দিয়ে হিসেব করলে ঐ ডিগ্রিধারী রাষ্ট্রনায়কগণের উপরই মুসলিম হিসেবে কুরআনকে ভালরূপে বুঝার চেষ্টা করা ফরযে আইন। আলেম সমাজে মুসলিম সমাজের সর্বসাধারণের উপর প্রযোজ্য ফরযে কেফায়ার দায়িত্ব পালন করছেন।

কিন্তু এর দ্বারা সমাজ পরিচালকদের ঐ ফরযে আইনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাঁদের দায়িত্ব তাদের উপর ন্যস্তই থাকবে।

যারা শুধু রোজগারের জন্য এতো গবেষণা ও পরাশুনা করতে সক্ষম, তারা ডিগ্রি হাসিলের জন্য এবং অর্থোপার্জনের প্রয়োজনে বহু বিদেশী ভাষাও শিক্ষা করেন। অথচ মূর্খ লোকেরা বহু টাকা-পয়সা উপার্জন করে। তাই মুসলিম হিসেবে শিক্ষিত ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের কুরআন বুঝতে চেষ্টা করা অপরিহার্য কর্তব্য। কেননা কুরআনকে না বুঝলে মুসলিম নেতৃত্বই গড়ে উঠতে পারে না।

এখন প্রশ্ন হলো, যারা কুরআন বুঝতে সম্পূর্ণ অক্ষম বা এখনও সেই যোগ্যতা অর্জন করেনি। তারা না বুঝে কুরআন তিলাওয়াত করবেন কিনা? এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল (সঃ) সুসংবাদ দিয়েছেন-'কুরআন তিলাওয়াতকারী প্রত্যেকটি অক্ষরের জন্য দশটি করে পুরস্কার পাবেন।' তিনি এখানে বুঝে পড়ার শর্ত আরোপ করেননি। কিন্তু সে রাসূলই আবার বলেছেন-'আলেম ব্যক্তি আবেদের চেয়ে ততখানি শ্রেষ্ট, পূর্ণ চন্দ্র সমস্ত তারকার উপর যতখানি শ্রেষ্ঠ।' এটা হতে বুঝা যায় যে, কুরআন বুঝে পড়লে অসীম পুরস্কার ও উন্নত মর্যাদার অধিকারী হবে, কিন্তু না বুঝে পড়লেও আল্লাহ তাকে বঞ্চিত করবেন না, যদিও পুরস্কার স্বাভাবিকভাবেই কম হবে। সে কমটুকুও এই যে, প্রতি অক্ষরের জন্য দশটি করে পুরস্কার দেয়া হবে। এ প্রসংগে এটুকু জেনে রাখা দরকার, কোনো বইয়ের কথা বুঝার অর্থ এই যে, পাঠক বা শ্রোতার মনে তার প্রভাব পড়ে। যে ব্যক্তি কুরআনকে আল্লাহর বাণী মনে করে অর্থ না বুঝেই পড়ে তার অন্তরে যে পবিত্রভাব জাগ্রত হয় এবং কোনো কোনো সময় যে চোখে পানি এসে পড়ে এর কি কোনোই মূল্য নেই? দুনিয়ার এই একটি কিতাবই রয়েছে যা না বুঝেও ভক্তিপূর্ণ হৃদয়ে লক্ষ লক্ষ লোক পাঠ করে-যারা আর কোনো বিদেশী ভাষাই পড়তে জানে না, কিন্তু কুরআন I পড়তে জানে। শুধু অর্থ বুঝে পড়ার রেওয়াজ যদি প্রথম হতেই চালু হতো, তাহলে দুনিয়ার অন্যান্য ধর্মগ্রন্থের ন্যায় মূল কুরআন মানুষ বহু পূর্বেই হারিয়ে বসতো এবং একমাত্র অনুবাদের উপর নির্ভর করার ফলে বিভিন্ন ধরনের কুরআন সৃষ্টি হতো।

সর্বশেষ কথা এই যে, যারা বুঝার চেষ্টা করার ক্ষমতা রাখে, তারা যদি না বুঝে পড়লেই চলবে মনে করে তাহলে অত্যন্ত অন্যায় হবে। এ বিষয়ে আখিরাতের আদালতে আল্লাহর কাছে তার অক্ষমতার ওজর টিকবে বলে বিবেক সাক্ষী দেয় কিনা তা-ও জিজ্ঞেস করা দরকার। আর যারা বুঝে না পড়া অর্থহীন বলে তিলাওয়াতই করেন না তারা আরও মারাত্মক ভুল করেন।

'যেদিন বুঝে পড়তে অবসর পাওয়া যায়, সেদিন কুরআন পাঠ করবো' -এ মনোভাব যাদের আছে তাদের কুরআন পাঠ হয়েই ওঠে না। প্রকৃত কথা এই যে, বুঝার যোগ্যতাসম্পন্ন লোকদেরও কেবল তাফসীর পড়া দ্বারাই কুরআন পাঠ শেষ করা উচিত নয়, কুরআনের তিলাওয়াতও প্রয়োজন। নবী করীম (সঃ) মানুষকে কুরআনের অর্থই শুধু শিখান নাই, তা তিলাওয়াত করেও শুনিয়েছেন। কুরআন তিলাওয়াত দ্বারা দীলে মহব্বত ও পবিত্র ভাবের উদয় হয়-তা শুধু তাফসীর পড়া বা অর্থ বুঝে পড়া দ্বারা সৃষ্টি হয় না। কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস যার নাই, তিনি অভ্যাস করে এই কথাটি যাচাই করতে পারেন।

না বুঝে কুরআন (দেখে বা মুখস্থ) পড়া অর্থহীন-কথা কি সত্য?
This image is related to the question topic and helps improve visual understanding.