প্রশ্ন : কোনো কোনো আলেম বলে থাকেন-'কুরআনের তাফসীর সাধারণ মানুষের জন্য নয়। তাই সাধারণ মানুষের তাফসীর করা বা শোনা ঠিক নয়।' এ ব্যাপারে আপনার সুস্পষ্ট জবাব জানতে চাই।
উত্তর: কুরমানের আলো জনসাধারণের কাছে না দেয়ার ফলেই ইসলামের প্রতি মহব্বত থাকা সত্ত্বেও জনগণ ইসলাম সম্বন্ধে এতটা জাহেল রয়ে গেছে। যখন কুরআন নাযিল হয়েছিল তখন সব ধরনের মানুষের কাছেই এই কুরআন পেশ করা হয়েছিলো কিনা?
নবী করীম (সাঃ) নিজেই নির্দেশ করেছেন- 'তোমরা কুরআন শেখো এবং লোকদেরকে শেখাও।' তিনি আরো বলেছিলেন- 'তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে কুরআন নিজে শেখে এবং অন্যদেরকে শেখায়।' বলা বাহুল্য, এখানে কুরআন শেখানোর অর্থ শুধু তিলাওয়াত শিক্ষা দেয়া নয়।
সাহাবায়ে কেরামের মাঝে খুব অল্প লোকই লেখাপড়া জানতেন। অক্ষরজ্ঞান ছাড়াই তাঁরা কুরআনের বক্তব্য যোগ্যতার সঙ্গে বুঝতেন। আজ যারা-'সাধারণ লোকের জন্য কুরআনের তাফসীর নয়'-একথা বলেন তারা কি মনে করেন জ্ঞান-বুদ্ধি' ও বুঝার ক্ষমতা শুধু কেতাবী বিদ্যার উপরই নির্ভর করে। অতি অল্প শিক্ষিত লোককেও অনেক উচ্চ শিক্ষিত লোকের চেয়ে বেশী সমজদার দেখা যায়।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, ইংরেজ আমলে এক সময় কুরআন-হাদীস চর্চা করা এক প্রকার বন্ধই হয়ে গিয়েছিল। শুধু ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামকে পালন করার জন্য মাওলানা- মাশায়েখ তালাশ করার মধ্যেই ইসলামের চর্চা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। শাহ ওয়ালী উল্লাহ দেহলভী (রহঃ)-এর প্রচেষ্টার ফলে কুরআন-হাদীসের অধ্যয়নের রেওয়াজ বাড়তে থাকে। আর বর্তমান যুগে বিশেষতঃ 'মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী (রহঃ)- এর ইসলামী আন্দোলন ও তাঁর সহজ তাফসীর 'তাফহীমুল কুরআন'-এর বদৌলতে আজ সাধারণ লোকদের মধ্যেও কুরআন বুঝার ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার অশিক্ষিত লোক পর্যন্ত তাফসীর মাহফিলগুলোতে অত্যন্ত মজা ও তৃপ্তিসহকারে কুরআনের তাফসীর শুনে উপকৃত হচ্ছেন। এরপরও যদি কেউ ঐ রকম কথা বলেন তাহলে তাঁরা মানুষের কাছে হাস্যম্পদই হবেন।