প্রশ্ন : বিজ্ঞানের মতে সূর্য স্থির এবং পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে-এই মতটিই যুক্তিপূর্ণ মনে হয়। কিন্তু কুরআন এর বিপরীত মত পোষণ করে, কোনটি সত্য?
উত্তর: আপনার প্রশ্নটিই ভুল। কুরআন যে মত পোষণ করে বলে আপনি উল্লেখ করেছেন তা কুরআনের কোথাও পাওয়া যাবে না। আর বিজ্ঞানের মত সম্পর্কেও আপনার জ্ঞান বহু প্রাচীন। বৈজ্ঞানিকগণ এককালে বিশ্বাস করতেন-'পৃথিবী ঘোরে না, সূর্যই ঘোরে।' অতঃপর বিজ্ঞানের সাহায্যে প্রমাণিত হলো-সূর্য ঘোরে না, পৃথিবী ঘুরে। বেশ কিছুকাল পূর্বে বৈজ্ঞানিকগণ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান-সূর্য ও পৃথিবীর কোনোটিই স্থির নিশ্চল নয়; উভয়ে নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে।' এটাই আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানের সর্বশেষ মত।
আল-কুরআনের সূরা ইয়াসীনে বলা হয়েছে-সূর্য তার নির্ধারিত পথে পরিভ্রমণ করে, চন্দ্রের জন্যও মঞ্জিলসমূহ ঠিক করে দেয়া হয়েছে।' এর পরের আয়াতে কুরআন বলে 'কুলুন ফী ফালাকি-ই ইয়াসবাহুন'-সবই মহাশূন্যে বিচরণ করে। তাহলে
কুরআনের মতে সমস্ত গ্রহ-উপগ্রহই গতীশীল, কোনোটাই নিশ্চল নয়।
বিজ্ঞান সম্পর্কে এতটুকু জেনে রাখা প্রয়োজন যে, বিজ্ঞান সৃষ্টিলোকের কোনো শক্তিকেই তৈরি বা সৃষ্টি করতে পারে না। সৃষ্টিজগতে যা কিছু আছে বিজ্ঞান তা Discover করে মাত্র, Create করতে পারে না। মানুষ এককালে যা জানে না বিজ্ঞানের সাহায্যে পরবর্তীকালে তা জানতে পারে। পারমাণবিক শক্তিকে পূর্বে মানুষ নিজেদের কাজে লাগাতে জানতো না, বর্তমানে তা আয়ত্বে এনেছে। কিন্তু মানুষ এই শক্তি সৃষ্টি করতে সক্ষম নয়। বিজ্ঞান সৃষ্টিজগতের কোনো নিয়মকে বদলাতেও পারে না।
এতে বুঝা গেল, বিজ্ঞান সৃষ্টি রহস্য সম্বন্ধে সকল বিষয়ে জ্ঞান দান করতে পারে না। বিজ্ঞানের মাধ্যমে মানুষ যা করার জন্য চেষ্টা করে তা সকল সময় নির্ভুলও নয়। কিন্তু মানুষ বিজ্ঞানের মারফতে সঠিক তথ্য জানতে পারলেও সৃষ্টির তত্ত্বসমূহ ঠিক একই অবস্থায়ই আছে। মানুষ বিজ্ঞানের সাহায্য নিয়ে এক সময় যখন জানতে পারলো সূর্য স্থির, তখনও প্রকৃতপক্ষে সূর্য গতিশীল ছিল। সুতরাং বিজ্ঞান ভুল করলেও প্রকৃতির অবস্থা সেই ভুলের সাথে বদলিয়ে যায় না।
মানুষ সীমাবদ্ধ জ্ঞান ও শক্তি নিয়ে এরূপ ভুল সিদ্ধান্ত করতে পারে, কিন্তু অনন্ত অসীম জ্ঞানের অধিকারী আল্লাহ তাঁর বাণীতে ভুল করেন না। যারা কুরআনকে আল্লাহর বাণী বলে বিশ্বাস করে তারা কুরআনের কোনো কথার বিপরীত মত বৈজ্ঞানিকগণের নিকট শুনলে কুরআন সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ পোষণ করার পরিবর্তে বিজ্ঞানের সিদ্ধান্তকেই ভ্রান্ত বলে মনে করে। বিজ্ঞানের কোনো সিদ্ধান্ত যখন কুরআনের সঙ্গে মিলে তখনই নিশ্চিন্তে বলা যায় যে, এই মত নির্ভুল হয়েছে। কুরআনে বিশ্বাসী বৈজ্ঞানিক কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার পূর্বে জানতে চেষ্টা করবে যে, তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কুরআন কোনো মত পোষণ করে কিনা। গবেষণার ফল কুরআনের বিপরীত হলে সে নিজের সিদ্ধান্তকে ভ্রান্ত মনে করবে এবং সঠিক তত্ত্ব জানার জন্য আবার গবেষণা চালাবে, কিন্তু কুরআনকে ভ্রান্ত বলে ঘোষণা করার ন্যায় মূর্খতা প্রকাশ করবে না।
সবশেষে একথাও জেনে রাখা দরকার, কুরআন কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য পরিবেশন করার উদ্দেশ্যে নাযিল হয়নি। কুরআন জড় বিজ্ঞানের কিতাব নয়।
কুরআনের প্রত্যেকটি কথাকে তার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে মিলিয়ে অর্থ করতে হবে। চন্দ্র-সূর্য সম্পর্কে কুরআন যা বলেছে তা বিজ্ঞান শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে নয়, আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করার যুক্তি হিসেবেই বলা হয়েছে। 'চন্দ্র-সূর্য ইত্যাদি যে আল্লাহর নির্দেশে চলছে তাদেরকেও সেই আল্লাহর দাসত্বই গ্রহণ করা উচিত'-একথা বুঝাবার উদ্দেশ্যই সে সবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য পরিবেশনের উদ্দেশ্যে যদিও কুরআন নাযিল হয়নি, তবু কুরআনের কোনো কথাই বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে ভুল নয়। আজ পর্যন্ত বিজ্ঞানে এমন কোনো বিষয় প্রমাণিত হয়নি-যা কুরআনের বিপরীত। প্রমাণ সাপেক্ষে কিছু মত কুরআনের বিরুদ্ধে থাকলেও তা এখনও বাস্তবে প্রমাণিত হয়নি।
First read the answer fully, then try to explain it in your own words. After that, open a few related questions and compare the concepts. This method helps you remember the topic for a longer time and improves exam preparation.