উত্তর: Database Management System বা DBMS-এ ডেটা কীভাবে সংরক্ষণ, সংগঠিত, সম্পর্কযুক্ত এবং ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডেটা মডেল ব্যবহার করা হয়। ডেটা মডেলের মাধ্যমে ডেটাবেজের গঠন বা structure সহজভাবে বোঝা যায়।
সাধারণভাবে DBMS-এ ডেটা মডেলকে কয়েকটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো—


DBMS-এ ডেটা মডেলের প্রধান প্রকারভেদ হলো Hierarchical Data Model, Network Data Model, Relational Data Model, Entity-Relationship Model এবং Object-Oriented Data Model। এগুলোর মাধ্যমে ডেটা কীভাবে সাজানো হবে, কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে এবং ডেটার মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে তৈরি হবে তা নির্ধারণ করা হয়।
Hierarchical Data Model হলো এমন একটি ডেটা মডেল যেখানে ডেটা গাছের মতো বা tree structure আকারে সাজানো হয়। এই মডেলে একটি parent record-এর অধীনে এক বা একাধিক child record থাকতে পারে। অর্থাৎ, এখানে parent-child relationship থাকে।
এই মডেলে উপরের স্তরের ডেটা নিচের স্তরের ডেটাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এটিকে hierarchy বা স্তরভিত্তিক ডেটা মডেল বলা হয়।
উদাহরণ: একটি স্কুলের তথ্য নিচের মতো সাজানো যেতে পারে—
এখানে School হলো parent, Class হলো child এবং Class-এর অধীনে Student থাকে।
সহজভাবে: পরিবারের বংশতালিকার মতো যেখানে একজন parent-এর অধীনে অনেক child থাকে, Hierarchical Model-ও তেমনভাবে কাজ করে।
Network Data Model হলো এমন একটি ডেটা মডেল যেখানে ডেটাগুলো network বা graph structure-এর মতো সাজানো হয়। এই মডেলে একটি child record একাধিক parent record-এর সাথে যুক্ত থাকতে পারে।
Hierarchical Model-এ সাধারণত একটি child-এর একটি parent থাকে। কিন্তু Network Model-এ একটি child একাধিক parent-এর সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। তাই এটি Hierarchical Model-এর তুলনায় বেশি flexible।
উদাহরণ: একজন ছাত্র একাধিক subject পড়তে পারে এবং একটি subject একাধিক ছাত্র পড়তে পারে।
এখানে Student এবং Subject-এর মধ্যে many-to-many relationship রয়েছে।
সহজভাবে: অনেকগুলো রাস্তা একে অপরের সাথে যুক্ত থাকলে যেমন একটি network তৈরি হয়, তেমনি এই মডেলে ডেটাগুলো একাধিক পথে যুক্ত থাকে।
Relational Data Model হলো DBMS-এর সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বেশি ব্যবহৃত ডেটা মডেল। এই মডেলে ডেটা table বা relation আকারে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতিটি table row এবং column নিয়ে গঠিত হয়।
এখানে row-কে record এবং column-কে field বা attribute বলা হয়। বিভিন্ন table-এর মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করার জন্য Primary Key এবং Foreign Key ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ: Student table:
| Roll | Name | Class |
|---|---|---|
| 1 | Rahul | 10 |
| 2 | Sima | 10 |
| 3 | Amit | 10 |
এখানে Roll, Name এবং Class হলো column; আর প্রতিটি ছাত্রের তথ্য হলো row বা record।
সহজভাবে: Excel sheet-এর মতো row এবং column ব্যবহার করে ডেটা রাখাই Relational Data Model-এর মূল ধারণা।
Entity-Relationship Model বা ER Model হলো একটি conceptual data model, যার মাধ্যমে বাস্তব জগতের বস্তু, তাদের বৈশিষ্ট্য এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক চিত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
ER Model-এ প্রধানত তিনটি বিষয় থাকে—
উদাহরণ: একটি school database-এ Student এবং Subject দুটি entity হতে পারে। Student একটি Subject পড়ে—এটি একটি relationship।
সহজভাবে: ডেটাবেজ তৈরি করার আগে diagram-এর সাহায্যে ডেটার পরিকল্পনা দেখানোই ER Model-এর কাজ।
Object-Oriented Data Model হলো এমন একটি ডেটা মডেল যেখানে ডেটা object আকারে উপস্থাপন করা হয়। এটি object-oriented programming concept-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি।
এই মডেলে একটি object-এর মধ্যে ডেটা এবং সেই ডেটার উপর কাজ করার method একসাথে থাকতে পারে। বড় ও জটিল application-এর ক্ষেত্রে এই model ব্যবহার করা হয়।
উদাহরণ: একটি Student object-এর মধ্যে student name, roll number, class এবং result সংক্রান্ত method থাকতে পারে।
সহজভাবে: কোনো বাস্তব বস্তু বা object-এর মতো ডেটাকে চিন্তা করে সংরক্ষণ করার পদ্ধতিই Object-Oriented Data Model।
DBMS-এ ডেটা মডেলকে abstraction বা design level অনুযায়ী আরও তিন ভাগে আলোচনা করা হয়:
| ক্রমিক নং | ডেটা মডেলের নাম | মূল ধারণা | সহজ উদাহরণ |
|---|---|---|---|
| ১ | Hierarchical Data Model | Tree structure-এ ডেটা সাজানো হয় | School → Class → Student |
| ২ | Network Data Model | Graph বা network-এর মতো ডেটা যুক্ত থাকে | Student ↔ Subject |
| ৩ | Relational Data Model | Table আকারে ডেটা সংরক্ষণ করা হয় | Student Table |
| ৪ | ER Model | Entity, Attribute ও Relationship diagram-এ দেখানো হয় | Student — studies — Subject |
| ৫ | Object-Oriented Data Model | Object আকারে ডেটা উপস্থাপন করা হয় | Student Object |
শিক্ষক ছাত্রদের এভাবে বোঝাতে পারেন:
ডেটা মডেল হলো ডেটা সাজানোর নিয়ম। যেমন বই রাখার জন্য লাইব্রেরিতে বিভিন্ন পদ্ধতি থাকতে পারে—কেউ বই বিষয় অনুযায়ী সাজায়, কেউ লেখক অনুযায়ী সাজায়, আবার কেউ শ্রেণি অনুযায়ী সাজায়। ঠিক তেমনি ডেটাবেজেও ডেটা সাজানোর বিভিন্ন পদ্ধতি আছে। এই বিভিন্ন পদ্ধতিকেই ডেটা মডেলের প্রকারভেদ বলা হয়।
যদি ডেটা গাছের মতো সাজানো হয়, সেটি Hierarchical Model। যদি ডেটা network-এর মতো যুক্ত থাকে, সেটি Network Model। যদি ডেটা table-এর মাধ্যমে সাজানো হয়, সেটি Relational Model। আর যদি entity ও relationship diagram-এর মাধ্যমে দেখানো হয়, সেটি ER Model।
প্রথমে লিখবে যে ডেটা মডেল DBMS-এ ডেটা সংগঠনের পদ্ধতি।
তারপর প্রধান প্রকারভেদগুলোর নাম লিখবে।
প্রতিটি model-এর ২-৩ লাইনের ব্যাখ্যা দেবে।
প্রতিটি model-এর সাথে একটি করে সহজ উদাহরণ দেবে।
শেষে Relational Model সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত—এ কথা উল্লেখ করলে উত্তরটি আরও ভালো হবে।
ডেটা মডেলের প্রকারভেদ মনে রাখার সহজ উপায়: H-N-R-E-O
DBMS-এ ডেটা মডেলের মাধ্যমে ডেটা কীভাবে সংরক্ষণ, সংগঠিত এবং সম্পর্কযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করা হয়। ডেটা মডেলের প্রধান প্রকারভেদ হলো Hierarchical Data Model, Network Data Model, Relational Data Model, Entity-Relationship Model এবং Object-Oriented Data Model। Hierarchical Model-এ ডেটা tree structure আকারে সাজানো হয়। Network Model-এ ডেটা graph বা network-এর মতো যুক্ত থাকে। Relational Model-এ ডেটা table আকারে সংরক্ষণ করা হয় এবং এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত model। ER Model-এ entity, attribute এবং relationship চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়। Object-Oriented Model-এ ডেটা object আকারে উপস্থাপন করা হয়। এই মডেলগুলোর সাহায্যে ডেটাবেজের গঠন সহজে বোঝা যায় এবং ডেটা সঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়।