উত্তরঃ হাদীস শাস্ত্রের বিশিষ্ট ইমাম আল্লামা ইবনে আসাকির পৃথিবীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এরূপ লিখেছেন, হযরত আদম আ. ও নূহ আ. এর মাঝে ১২০০ (এক হাজার দুইশত) বছরের ব্যবধান, হযরত নূহ আ. হতে ইবরাহীম (আ.) এর পর্যন্ত ১১৪২ (এক হাজার একশত বিয়াল্লিশ) বছর, হযরত ইবরাহীম (আ.) হতে মুসা (আ.) পর্যন্ত ৫৬৫ (পাঁচশত পয়ষাটি) বছর, হযরত মুসা আ. হতে হযরত দাউদ (আ.) পর্যন্ত ৫৬৯ (পাঁচশত ঊনসত্তর) বছর, দাউদ আ. হতে ঈসা আ. পর্যন্ত ১৩৫৬(এক হাজার তিনশত ছাপ্পান্ন) বছর এবং ঈসা আ. হতে সর্বশেষ নবী (সা.) এর মাঝে ৬০০ (ছয়শত) বছরের ব্যবধান। এ হিসাবে হযরত আদম আ. থেকে আমাদের রাসূলে মকবুল (সা.) এর মাঝে ৫৪৩২ (পাঁচ হাজার চারশত বত্রিশ) বছর হলো। আর প্রসিদ্ধ বর্ণনা মতে হযরত আদম (আ.) এর বয়স ছিল ৯৬০ (চল্লিশ কম এক হাজার) বছর। তাই আদম আ. পৃথিবীতে আগমনের প্রায় ছয় হাজার বছর পরে অর্থাৎ সপ্তম সহস্রাব্দে হযরত খাতামুল আম্বিয়া (সা.) পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। (তারীখে ইবনে আসাকির, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক, প্রথম খন্ড-১৯-২০ পৃঃএর বরাত মতে মোটকথা, যে বছর হস্তিবাহিনীর আক্রমণ হয়েছিল ঐ বছরেরই রবিউল আউয়াল মাসের ১২ (বার) তারিখ সোমবার, এদিনটি পৃথিবীর ইতিহাসে এক বিরল দিন। কেননা এ দিনটিতে পৃথিবীর সৃষ্টির মূল লক্ষ্য, দিন-রাত পরিক্রমের আসল উদ্দেশ্য, আদম এবং আদম সন্তানের গৌরব নূহ (আ.) এর কিশতী সংরক্ষণের রহস্য, ইব্রাহীম (আ.) এর দু'আ এবং মুসা ও ঈসা (আ.) এর ভবিষ্যত বাণীর যথাযথ স্বীকৃতি তথা আমাদের আর্কায়ে নামদার মুহাম্মাদ (সা.) পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হন ।