হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সালামের জন্মের আগে
হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের আগের সময়টি আরব সমাজে "জাহিলিয়াত" নামে পরিচিত। এই সময়কালটি অজ্ঞতা ও অন্ধকার যুগ হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ এটি ছিল সামাজিক, ধর্মীয় ও নৈতিক বিচ্যুতির সময়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিম্নরূপ:
১. ধর্মীয় অবস্থা:
মক্কার অধিকাংশ মানুষ মূর্তিপূজা করত। কাবা শরীফে শত শত মূর্তি স্থাপন করা ছিল, এবং বিভিন্ন গোত্রের নিজস্ব দেবতা ছিল। তবে কিছু মানুষ হানিফ ধর্মে বিশ্বাস করত, যা একত্ববাদের উপর ভিত্তি করে ছিল। ইব্রাহীম (আঃ)-এর ধর্ম অনুসরণকারী কয়েকজন লোক এক আল্লাহকে মানত, যদিও তারা সংখ্যায় খুব কম ছিল।
২. সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়:
আরব সমাজে প্রচুর সামাজিক অবক্ষয় ছিল। নারীদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। কন্যা সন্তানদের জীবিত সমাধিস্থ করার মত নিষ্ঠুর প্রথা চালু ছিল। এছাড়া, বংশ ও গোত্রের গৌরব নিয়ে প্রচুর যুদ্ধ-বিগ্রহ হত।
৩. অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অবস্থা:
মক্কা ও তার আশেপাশের এলাকাগুলো বাণিজ্যিক কেন্দ্র ছিল। এখানকার লোকেরা দীর্ঘ দূরত্বের বাণিজ্যে নিযুক্ত ছিল, যেমন শীতকালে ইয়েমেন এবং গ্রীষ্মকালে সিরিয়া পর্যন্ত বাণিজ্য পরিচালনা করত।
৪. রাজনৈতিক অবস্থা:
আরবরা সাধারণত স্বাধীন ছিল এবং কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা ছিল না। প্রত্যেক গোত্র ছিল স্বায়ত্তশাসিত, এবং গোত্রের প্রধানই ছিল সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব। গোত্রপ্রীতি ছিল প্রধান সামাজিক বন্ধন।
৫. নৈতিক মূল্যবোধ:
যদিও অনেক ক্ষেত্রে অন্ধকার যুগ হিসেবে বিবেচিত হয়, কিছু ভালো গুণাবলীও ছিল। আরবরা তাদের অতিথিপরায়ণতা, সাহসিকতা ও কবিতা প্রতিভার জন্য খ্যাত ছিল। তারা কথা রাখার গুরুত্ব দিত এবং বীরত্বের উচ্চমূল্য ছিল।
এই পরিস্থিতির মধ্যে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন মানবজাতির জন্য একটি বিশাল পরিবর্তনের সূচনা করেছিল। ইসলামের প্রচার ও বিস্তার শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরব সমাজের ধর্মীয়, সামাজিক এবং নৈতিক পরিকাঠামোতে বিপুল পরিবর্তন আসে।