উত্তর : যুদ্ধ শুরু হলো এবং দীর্ঘক্ষণ প্রচন্ড সংঘর্ষের পর শত্রু পক্ষ যখন পালাতে আরম্ভ করলো, তখন মুসলমানদের বিজয় স্পষ্ট হয়ে গেলো। কুরাইশরা দিশাহারা হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেলো। মুসলমানগণ গণীমতের মাল জমা করতে শুরু করলো। এ অবস্থা দেখে পাহাড়ের পাদদেশে পাহারার সাহাবীগণও স্থান ত্যাগ করে চলে আসলেন। তাঁদের আমীর হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.) তাদেরকে স্থান ত্যাগ করতে নিষেধ করলেন। কিন্তু তাঁরা তখন আর অবস্থানের প্রয়োজন নেই মনে করে অধিকাংশই সেখান থেকে চলে আসলেন ।
অবশিষ্ট কয়েকজন সেখানে রয়ে গেলেন। এ সুযোগ দেখে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (তখন পর্যন্ত মুসলমান হননি) কাফিরদের পক্ষে থেকে যুদ্ধ করছিলেন। পিছনে দিক থেকে অতর্কিত আক্রমণ করলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.) এবং তাঁর সাথীগণ মরণপণ যুদ্ধ করে পরিশেষে সকলেই শাহাদত বরণ করেন।
এখন রাস্তা পরিস্কার হয়ে গেলো। খালিদ ইবনে ওয়ালীদ নিজ বাহিনী নিয়ে মুসলমানদের উপর ঝাপিয়ে পড়লেন। উভয় বাহিনী এমনভাবে মিশ্রিত হয়ে গেলো যে, মুসলমানগণ নিজেরাই নিজেদের হাতে মারা যেতে লাগলো। মুসআব ইবনে উমাইর (রা.) শহীদ হলেন। যেহেতু হুযূর (সা.) এর গঠনাকৃতির সাথে তাঁর বেশ সামঞ্জস্য ছিলো, তাই প্রচার হয়ে গেলো, আল্লাহর রাসূল ইন্তিকাল করেছেন। কোন কোন বর্ণনা মতে শয়তান বা কোন মুশরিকরা মিথ্যা অপপ্রচার করেছিল যে, মুহাম্মাদ (সা.) নিহত হয়েছেন। -যরকানী শারহে মাওয়াহিব ২য় খন্ড ৩৩ পূঃ । এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে মুসলিম বাহিনীর মধ্যে হতাশা ছেয়ে গেলো। বড় বড় বীর যোদ্ধাদের পা ও যেন ফসকে গেলো । অবশ্য অনেক আত্মোৎসর্গী সে মূহুর্তেও প্রচন্ড যুদ্ধরত ছিলেন। তবে সবার দৃষ্টি কাবায়ে মাকসুদ রাসূলে করীম (সা.) কে এক মহা আগ্রহে খোঁজ করতেছিলো। সর্বাগ্রে হযরত কা'ব ইবনে মালিক (রা.) এর দৃষ্টি পড়লো রাসূলে মকবুল (সা.) এর উপর। তিনি মহানন্দে বললেন- মুবারক হোক! আল্লাহর রাসূল (সা.) সুস্থ ও নিরাপদে এখানেই আছেন। এ সংবাদ শোনামাত্র সবাই রাসূল (সা.) এর প্রতি ছুটে এলেন। কিন্তু সাথে সাথে কাফিররাও সব দিক ছেড়ে এ দিকে অগ্রসর হলো। কয়েকবার রাসূলে করীম (সা.) এর উপর হামলা করল; কিন্তু তিনি নিরাপদে রইলেন ।
একবার কাফিররা যখন চতুরদিক হতে ঘিরে ফেললো, হুযূর (সা.) ইরশাদ করলেন- কে আমার জন্য জান দিতে প্রস্তুত ? তখন হযরত যিয়াদ ইবনে সাকান ও আরো চার জন সাথী সহ অগ্রসর হলেন। সকলে অত্যন্ত বীরত্বের সাথে লড়ে শহীদ হলেন। হযরত যিয়াদ যখন আহত হয়ে পড়ে গেলেন, রাসূল (সা.) বললেন- তাঁকে নিকটে নিয়ে এসো। তাঁকে নিকটে নিয়ে আসা হলো, তখন তাঁর প্রাণ কিছুটা বাকী আছে। তিনি আল্লাহর রাসূলের কদম মুবারকের উপর মুখ রাখলেন এবং ঐ অস্থায় মৃত্যুবরণ করলেন। সুবহানাল্লাহ!
First read the answer fully, then try to explain it in your own words. After that, open a few related questions and compare the concepts. This method helps you remember the topic for a longer time and improves exam preparation.