উত্তর: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু বিশেষ কাজের সওয়াব মৃত ব্যক্তি কবরে থেকেও পেতে পারেন। প্রধানত তিনটি মাধ্যম থেকে মৃত ব্যক্তি ক্রমাগত সওয়াব পেয়ে থাকেন: সদকায়ে জারিয়া, তার রেখে যাওয়া মানুষের উপকারে আসে এমন জ্ঞান এবং এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে [১২, ২৪]। মৃত ব্যক্তির কল্যাণে জীবিতরা নিচের কাজগুলো করতে পারেন:
১. দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা: মৃত ব্যক্তির মাগফিরাত বা ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার [৪, ২৭]। বিশেষ করে নেক সন্তানের দোয়া মৃত ব্যক্তির কবরের মর্যাদা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে [২৪, ২৫]। ২. দান-সদকা: মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করলে তার সওয়াব সরাসরি মৃত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে [১৩, ২৫]। এর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম সদকা হলো মানুষের জন্য পানির ব্যবস্থা করা বা নলকূপ খনন করে দেওয়া [১৬, ৪৬]। ৩. ঋণ পরিশোধ ও ওসিয়ত পূরণ: মৃত ব্যক্তির ওপর কোনো ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা এবং তার বৈধ কোনো ওসিয়ত বা প্রতিশ্রুতি থাকলে তা পূরণ করা জীবিতদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব [২১, ২৫]। ৪. মৃতের আত্মীয় ও বন্ধুদের সাথে সুসম্পর্ক রাখা: মৃত ব্যক্তির বাবা-মায়ের আত্মীয়-স্বজনদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং তাদের বন্ধুদের সম্মান করাও মৃত ব্যক্তির প্রতি সদয় আচরণের অন্তর্ভুক্ত [২১, ২৫]। ৫. কাজা হজ ও রোজা আদায়: যদি মৃত ব্যক্তির ওপর কোনো ফরজ রোজা বা হজ কাজা থেকে থাকে, তবে তার পক্ষ থেকে তা আদায় করা হলে তিনি এর সওয়াব পাবেন [১৯, ২৫]।
তবে উল্লেখ্য যে, আমাদের সমাজে প্রচলিত মৃত্যুবার্ষিকী পালন, ৩ দিন, ৭ দিন বা ৪০ দিন উপলক্ষে ভোজের আয়োজন করা এবং টাকার বিনিময়ে কুরআন খতম করানোকে মাসনূন বা সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হয়নি [৬, ৭, ৪৯]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. আ.শ.ম. শফীকুল ইসলাম রচিত ও ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া সম্পাদিত "মৃত-ব্যক্তির জন্য করণীয় কাজের মাসনূন পদ্ধতিসমূহ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৪, ৬, ৭, ১২, ১৩, ১৬, ১৯, ২১, ২৪, ২৫, ২৭, ৪৬, ৪৯)। ২. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত "মৃত্যুকে স্মরণ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৭)।