উত্তর: শরীর থেকে রুহ আলাদা করার পর ফেরেশতারা যখন সেই আত্মাকে নিয়ে আসমানের দিকে যাত্রা করেন, তখন মুমিন এবং পাপিষ্ঠদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা অভিজ্ঞতা হয়:
১. মুমিন বান্দার আত্মা: মুমিনের আত্মাকে যখন জান্নাতি সুগন্ধিযুক্ত কাফনে জড়িয়ে আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন তা থেকে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ মেশকের চেয়েও চমৎকার সুগন্ধ বের হতে থাকে [১৬৫]। আসমানের ফেরেশতারা এই সুঘ্রাণ পেয়ে জিজ্ঞাসা করেন, "এই পবিত্র আত্মাটি কার?" তখন ফেরেশতারা সম্মানের সাথে তাঁর নাম উল্লেখ করেন [১৬৫, ২৮]। মুমিনের জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং প্রতিটি আসমানের নিকটতম ফেরেশতারা তাঁকে পরবর্তী আসমান পর্যন্ত এগিয়ে দেন [১৬৫]। এভাবে সপ্তম আসমানে পৌঁছানোর পর আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, "আমার এই বান্দার আমলনামা 'ইল্লিয়্যিন'-এ লিখে রাখো এবং তাকে পুনরায় যমিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাও" [১৬৫, ২৮]।
২. পাপিষ্ঠ বা কাফির ব্যক্তির আত্মা: অন্যদিকে, পাপিষ্ঠ ব্যক্তির আত্মাকে যখন দুর্গন্ধযুক্ত চটে জড়িয়ে আসমানের দিকে নেওয়া হয়, তখন তা থেকে দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট পচা লাশের মতো দুর্গন্ধ বের হতে থাকে [১৬৯]। আসমানের ফেরেশতারা ঘৃণাভরে জিজ্ঞাসা করেন, "এই পাপিষ্ঠ আত্মাটি কার?" তখন তাঁর দুনিয়াবী সবচাইতে খারাপ নামটি ধরে তাঁর পরিচয় দেওয়া হয় [১৬৯, ২৮]। এই আত্মার জন্য আসমানের দরজাগুলো খোলা হয় না [১৭৪, ২৮]। তখন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন, "তার আমলনামা সর্বনিম্ন যমিনের 'সিজ্জিন'-এ লিখে রাখো" [১৭৪, ২৮]। এরপর সেই আত্মাকে আসমান থেকে সজোরে নিচের দিকে নিক্ষেপ করা হয় [১৭৪]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত "মৃত্যুকে স্মরণ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৬৫, ১৬৯, ১৭৪)। ২. ইমাম কুরতুবি রচিত "মৃত্যুর ওপারে: অনন্তের পথে" (অনুবাদক: আবদুন নূর সিরাজী), প্যাসেজ ইনডেক্স: (২৮)।