উত্তর: ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় মালাকুল মওত বা মৃত্যুর ফেরেশতার আগমন এবং তাঁর আচরণ মানুষের আমলের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. মুমিন বান্দার ক্ষেত্রে: যখন একজন মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন উজ্জ্বল সূর্যের মতো জ্যোতির্ময় চেহারার একদল ফেরেশতা আকাশ থেকে জান্নাতি কাফন এবং সুগন্ধি নিয়ে অবতীর্ণ হন [১৬৫]। এরপর মালাকুল মওত (আজরাইল আ.) উপস্থিত হয়ে মুমিনের মাথার কাছে বসেন এবং অত্যন্ত কোমলভাবে ডাক দিয়ে বলেন, "হে প্রশান্ত আত্মা! তোমার রবের ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে চলো" [১৬৫, ৬৫৩]। এই ডাক শোনার পর মুমিনের আত্মা শরীর থেকে এত সহজে বেরিয়ে আসে, যেমনটি পানির পাত্র থেকে পানির ধারা গড়িয়ে পড়ে [১৬৫, ১৮৫]। ফেরেশতারা সেই আত্মাকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গ্রহণ করেন এবং তা জান্নাতি কাফনে জড়িয়ে নিয়ে যান [১৬৫]।
২. পাপিষ্ঠ বা অবিশ্বাসী ব্যক্তির ক্ষেত্রে: অন্যদিকে, একজন পাপিষ্ঠ বা কাফির ব্যক্তির মৃত্যুর সময় অত্যন্ত কুৎসিত ও ভয়ংকর চেহারার একদল ফেরেশতা উপস্থিত হন, যাদের হাতে থাকে দুর্গন্ধযুক্ত চট বা নিকৃষ্ট কাপড় [১৯১, ৬৫৫]। মালাকুল মওত তাঁর মাথার কাছে বসে অত্যন্ত কর্কশ কণ্ঠে গর্জন দিয়ে বলেন, "হে পাপিষ্ঠ আত্মা! তোমার রবের রাগ ও ক্রোধের দিকে বেরিয়ে এসো" [১৬৯, ৬৫৫]। এই কথা শোনার পর আত্মা ভয়ে শরীরের ভেতরে লুকিয়ে পড়ে এবং পালাতে চেষ্টা করে [১৬৯]। তখন অত্যন্ত নির্দয়ভাবে সেই আত্মাকে শরীর থেকে টেনে বের করা হয়, যেমন ভেজা পশমের ওপর থেকে ঝোপঝাড়ের কাঁটা টেনে বের করলে পশম ছিঁড়ে যায় [১৬৯, ১৯১]। এরপর সেই দুর্গন্ধযুক্ত আত্মাকে লাঞ্ছিত অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তার জন্য আকাশের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় [১৭৪, ১৯৩]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত "মৃত্যুকে স্মরণ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৬৫, ১৬৯, ১৭৪, ৬৫৩, ৬৫৫)। ২. ইমাম বাইহাকি রচিত ও জিয়াউর রহমান মুন্সী অনূদিত "মৃত্যু থেকে কিয়ামাত", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৮৫, ১৯১, ১৯৩)। ৩. মাওলানা মুহাম্মদ ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযবী রচিত "মৃত্যুর স্বাদ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১১)।