✏️ Explanatory Question

মৃত্যুর পর আমাদের সমাজে প্রচলিত কোন কাজগুলো ইসলামি শরিয়ত বিরোধী এবং মৃত ব্যক্তির উপকারের জন্য সুন্নাহসম্মত বা সঠিক পদ্ধতিগুলো কী কী?

👁 0 Views
📘 Detailed Answer
🟢 Easy
0
Total Views
10
Related Qs
0%
Progress
💡

Answer with Explanation

উত্তর: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মৃত্যুর পর এমন অনেক কাজ সমাজে প্রচলিত আছে যেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই এবং যা বর্জন করা জরুরি। একই সাথে মৃত ব্যক্তির কল্যাণে কিছু সুন্নাহসম্মত কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

১. বর্জনীয় বা বিদআত কাজ: মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ করে যেমন-৩ দিন, ৭ দিন বা ৪০ দিন (চেহলাম) উপলক্ষে ভোজের আয়োজন করা বা কুলখানির আয়োজন করা ইসলামি শরিয়তসম্মত নয় [২০, ৭৭]। টাকার বিনিময়ে কুরআন খতম করানো বা মীলাদ পড়ানো শরিয়তে নিষিদ্ধ; এতে মৃত ব্যক্তির আমলনামায় কোনো সওয়াব পৌঁছে না, বরং আয়োজনকারী ও পাঠকারী উভয়েই গুনাহগার হন [৭৭, ৭৮, ৭৯]। এছাড়া উচ্চস্বরে বিলাপ করা, নিজের শরীর বা কাপড় ছেঁড়া এবং শোক প্রকাশের জন্য মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা অন্য ধর্মের সংস্কৃতি যা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ [২০, ৪২, ৭৫]।

২. সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি: মৃত ব্যক্তির জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো একাকী বা নিরিবিলিতে তাঁর মাগফিরাত বা ক্ষমার জন্য আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা [৫৮, ৬০]। তাঁর পক্ষ থেকে দান-সদকা করা বিশেষ করে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে পানির ব্যবস্থা (নলকূপ স্থাপন) বা জনকল্যাণমূলক কাজ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ [৬২, ৮১, ৫৯৬]। মৃত ব্যক্তির কোনো ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা এবং তাঁর বৈধ ওসিয়ত পূরণ করা জীবিতদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব [৬৪, ৬৬]।

৩. প্রতিবেশীদের দায়িত্ব: মৃত ব্যক্তির পরিবার যখন শোকাচ্ছন্ন থাকেন, তখন তাঁদের রান্নাবান্নার দিকে খেয়াল থাকে না। এমতাবস্থায় প্রতিবেশীদের দায়িত্ব হলো খাবারের আয়োজন করে তাঁদের বাসায় পৌঁছে দেওয়া [৪১]।

এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. মুফতী মেসূরুল হক রচিত "জীবনের শেষ দিন", প্যাসেজ ইনডেক্স: (২০, ৪১, ৪২, ৬৬, ৭৫, ৭৭, ৭৮, ৭৯, ৮১)। ২. আ.শ.ম. শফীকুল ইসলাম রচিত ও ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া সম্পাদিত "মৃত-ব্যক্তির জন্য করণীয় কাজের মাসনূন পদ্ধতিসমূহ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৬, ৭, ৪৯, ৫৯৬)। ৩. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত "মৃত্যুকে স্মরণ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৭)।