উত্তর: সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এর আত্মোৎসর্গের বিবরণ-
এ যুদ্ধে নবী করীম (স.) একটি গর্তে পড়ে গিয়েছিলেন যা কাফিররা মুসলমানদের তাতে পতিত হওয়ার জন্য তৈরী করেছিল। এ অবস্থা দেখে নিবেদিত প্রাণ সাহাবীগণ নবী করীম (সা.) এর পার্শ্বে সমবেত হলেন। চতুর্দিক হতে বৃষ্টির ন্যায় তীর ও তলোয়ারের আঘাত আসতে লাগলো; কিন্তু সাহাবীগণ এ সমস্ত আঘাতকে নিজেদের উপর গ্রহণ করতে লাগলেন। হযরত আবু দুজানা (রা.) ঝুঁকে গিয়ে হুযূর (সা.) কে আঘাত মুক্ত রাখার জন্য ঢাল স্বরূপ দাঁড়িয়ে গেলেন। যে দিক থেকেই তীর আসছিল তিনি নিজ পিঠে গ্রহণ করছিলেন। হযরত আবু তালহা (রা.)ও তীর ও তলোয়ারের সমস্ত আঘাতকে নিজ শরীরে গ্রহণ করছিলেন। ফলে তাঁর একটি হাত কেটে মাটিতে পড়ে যায়। যুদ্ধ শেষে গণনা করে দেখা যায় তাঁর শরীরে সত্তরটিরও অধিক আঘাতের চিহ্ন বিদ্যমান রয়েছে। -ইবনে হাব্বান প্রভৃতি, কানযুল উম্মাল, ৫ম খ৪২৭৮ পৃঃ। হযরত আবু তালহা (রা.) একটি ঢালের সাহায্যে নবী করীম (স.) কে শত্রুদের হামলা থেকে হেফাযত করছিলেন। তিনি যখন ঘাড় উঁচু করে সৈন্যদের দিকে তাকাতে আবু তালহা (রা.) বলতেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি মাথা উঁচু করবেন না। হতভাগা পাপীষ্ঠদের তীর লাগতে পারে। এর জন্য আপনার পূর্বে আমার সীনা প্রস্তুত রয়েছে। -বুখারী: উহুদযুদ্ধ।
জনৈক সাহাবী আরয কররেন- ইয়া রাসূলুল্লাহ ! যদি আমি নিহত হলে আমার ঠিকানা কোথায় হবে? নবীজী (সা.) বললেন- বেহেশত। সে সময় তাঁর হাতে ছিল খেজুর তিনি তা খাচ্ছিলেন। একথা শোনামাত্র খেজুর ফেলে দিয়ে সোজা লড়াইয়ের মধ্যে প্রবেশ করলেন এবং তীব্র মুকাবিলা করতে করতে শহীদ হয়ে গেলেন। -বুখারী:উহুদ যুদ্ধ। এদিকে কুরাইশ পাপীষ্ঠরা নির্দয়ভাবে একের পর এক তীর নিক্ষেপ করে চলেছে। আর রাসূলে করীম (সা.) এর যবান থেকে বার বার উচ্চারিত হচ্ছে হে পরওয়ারদেগার! আমার কওমকে ক্ষমা করুন। কেননা তারা জানেনা ।
নূরানী চেহারা হতে রক্তধারা প্রবাহিত হচ্ছে, আর রহমাতুললিল আলামীন তা কাপড় ইত্যাদি দিয়ে মুছছেন। তিনি ইরশাদ করলেন- যদি রক্তের এক ফোটা মাটিতে পড়তো, তাহলে সকলের উপর আল্লাহর আযাব নাযিল হতো। ফতহুল বারী: উহুদ যুদ্ধ।