সন্তানদের সামনে অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত থাকা
Table of Content:
সন্তানদের সামনে অন্যায় কাজ করা থেকে বিরত থাকা
আরো একটি ক্ষতিকর বিষয় হলো সন্তানদের সামনে অন্যায় কাজ করা ও তা নিয়ে আলোচনা করা। এতে কচি ছেলেমেয়েদের কোমল মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। ফলে তারা অন্যায় কাজ করার মনমানসিকতা নিয়ে বড় হয়। পরবর্তীতে মা-বাবারা অবাক হয়ে দেখেন কিভাবে সন্তানরা অন্যায় কাজ করছে। প্রকৃত কথা হলো সন্তানগণ এ অন্যায়গুলি শিখেছে তাদের মা-বাবার কাছ থেকে।
যেমন: মা-বাবারা অবৈধ ইনকাম করে থাকেন, সরকারকে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে থাকেন, মিথ্যা কথা বলে থাকেন, সবসময় অন্যের সমালোচনা বা গীবত করে থাকেন, অন্য পরিবারের ক্ষতি করে থাকেন, স্বামী-স্ত্রী প্রায়ই ঝগড়া-ঝাটি করে থাকেন, টিভিতে আপত্তিকর অনুষ্ঠান দেখে থাকেন ইত্যাদি।
উদাহরণ ১: যেমন কেউ একজন ফোন করেছে আমার কাছে, আমার সন্তান ফোন রিসিভ করে আমাকে বলছে বাবা তোমার ফোন। আমি আমার সন্তানকে বলছি 'বল বাবা বাসায় নেই'। এতে সন্তান অবাক হয়ে চিন্তা করে এটা কেমন কথা! বাবা বাসায় থেকে বলছে সে নেই! সন্তান তখন অংক মিলাতে পারে না।
উদাহরণ ২: যেমন কেউ একজন আমাকে ফোন করেছে রাত ১১টার দিকে। আমি ফোন রিসিভ করেছি এবং যিনি ফোন করেছেন অপর প্রান্ত থেকে তিনি বলছেন 'এতো রাতে ফোন করে বিরক্ত করলাম না তো?' আমি উত্তরে বলছি 'না না বিরক্ত হইনি'! কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল ফোনে কথোপকথোন শেষে স্ত্রী- সন্তানদের সামনে বিরক্ত হয়ে মন্তব্য করছি যে 'ব্যাটা ফোন করার আর সময় পেল না!' এখানেও সন্তান অবাক হয়ে বাবাকে দেখে যে বাবা ভদ্রলোককে ফোনে বলল 'না বিরক্ত হইনি' কিন্তু এখন বলছে পুরো বিপরীত! এখানেও সে জীবনের অংক মিলাতে পারে না।
উদাহরণ ৩ : বাসায় সাধারণত মেহমান আসলে ছেলেমেয়েরা খুশি হয়। কিন্তু
কোন কোন মা-বাবারা বিরক্ত হন। মেহমানদের সামনে এক রকম আচরণ করেন এবং মেহমান চলে গেলে সন্তানদের সামনে মেহমানদের নিয়ে খারাপ মন্তব্য করেন। এতে সন্তানরা অবাক হয়, কেন এমন আচরণ? মেহমানদের সামনে বাবা বলছেন 'আপনারা আসাতে আমরা খুব খুশি হয়েছি, আবার আসবেন কিন্তু'। আবার মেহমান চলে যাওয়ার পর সন্তানরা দেখছে আসলে বাবা অখুশি!