আত্মসম্মান (Self-Esteem): কুরআন দৃষ্টিকোণ
Table of Content:
আত্মসম্মান কী?
আত্মসম্মান বা Self-Esteem হলো নিজের প্রতি সম্মানবোধ, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের মূল্য সম্পর্কে সচেতনতা। ইসলামিক দর্শনে, আত্মসম্মান এমন এক গুণ যা একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কুরআন ও হাদিসে আত্মসম্মানের গুরুত্ব বারবার তুলে ধরা হয়েছে।
কুরআনের আলোকে আত্মসম্মান
কুরআন মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত (সৃষ্টির সেরা) হিসেবে ঘোষণা করেছে। আল্লাহ বলেন:
"নিশ্চয়ই আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি এবং তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে চলাচলের ব্যবস্থা করেছি এবং তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দিয়েছি এবং আমি তাদেরকে আমার বহু সৃষ্টির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।"
(সুরা বনী ইসরাঈল, ১৭:৭০)
এই আয়াত দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, আল্লাহ আমাদের সম্মান দিয়েছেন, কিন্তু আমরা নিজেরাই যদি নিজেদের ছোট ভাবি, তবে আত্মসম্মান নষ্ট হয়ে যায়।
দৃষ্টিকোণ
আত্মসম্মান বৃদ্ধি পায় সঠিক জ্ঞান, ইনসাফ (ন্যায়পরায়ণতা), সাহস এবং যোগ্যতা (Hikmah) অর্জনের মাধ্যমে। আত্মসম্মানের উপর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
১. কুরআনের উদ্দেশ্য ও আত্মসম্মান
কুরআনের উদ্দেশ্য হলো মানুষের আত্মসম্মানকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। যদি কেউ সত্যিকার অর্থে কুরআনের শিক্ষা অনুশীলন করে, তবে তার আত্মসম্মান বৃদ্ধি পায়। কিন্তু অনেক মুসলমান কুরআন পড়ে নিজেদের অক্ষম মনে করেন, যা তাদের আত্মসম্মান কমিয়ে দেয়।
২. জ্ঞান ও আত্মসম্মান
নির্ভুল আত্মসম্মানের জন্য সঠিক জ্ঞান থাকা জরুরি। যদি কেউ নিজের বিশ্বাস ও দর্শনের ভিত্তিতে দৃঢ় না হন, তাহলে আত্মসম্মান টেকসই হয় না। ইসলামের গভীর জ্ঞান ছাড়া কেউ আত্মবিশ্বাসী হতে পারে না।
৩. সহজাত স্বভাব (ফিতরাহ) ও আত্মসম্মান
আল্লাহ মানুষকে সহজাত গুণাবলি (ফিতরাহ) দিয়েছেন, যেমন ন্যায়বোধ, দয়া ও সাহস। যদি বাবা-মা ও শিক্ষকেরা সন্তানদের এসব গুণাবলি বিকাশে সাহায্য না করেন, তাহলে তাদের আত্মসম্মান দুর্বল হয়ে পড়ে।
৪. সাহস ও আত্মসম্মান
আত্মসম্মানের সঙ্গে সাহসের সম্পর্কের ওপর জোর দেন।
"যখন একজন মানুষ জানে কোনটি সঠিক আর কোনটি ভুল, কিন্তু সাহসের অভাবে কাজ করতে পারে না, তখন তার আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়।"
৫. যোগ্যতা (Hikmah) ও আত্মসম্মান
শুধু সাহস থাকলেই হবে না, জ্ঞান অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার যোগ্যতাও থাকতে হবে। যথাযথভাবে আচরণ করতে না পারলে আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন হতে পারে।
৬. নিম্ন আত্মসম্মান ও নেতিবাচক আচরণ
নিম্ন আত্মসম্মানের ফলে মানুষ দুর্বলদের ওপর রাগ ঝাড়ে, কিন্তু ক্ষমতাশালীদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়। এটি আত্মসম্মানের অভাবের লক্ষণ। সাহিল আদীম এই সমস্যার সমাধানে ইসলামের সঠিক বোঝাপড়া ও আত্মবিশ্বাস অর্জনের পরামর্শ দেন।
৭. বর্তমান মুসলিম সমাজ ও আত্মসম্মান
বর্তমান মুসলিম সমাজের আত্মসম্মান কমে যাচ্ছে কারণ ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ না করে শুধু বাহ্যিকভাবে ধর্ম পালন করা হয়। ফলে মানুষ নিজেদের দুর্বল ও অক্ষম মনে করে।
আত্মসম্মান বৃদ্ধির উপায়
১. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তাওয়াক্কুল (ভরসা) বৃদ্ধি করুন – "নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।" (সুরা ইউনুস, ১০:৬২)
-
সঠিক জ্ঞান অর্জন করুন – সঠিক জ্ঞান মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
-
সাহসী হোন – যা সত্য, তা প্রকাশ করুন ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান।
-
নিজেকে ছোট মনে করা বন্ধ করুন – আপনি আল্লাহর সৃষ্টি, তাই নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন।
-
সঠিক কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করুন – শুধু ইচ্ছা থাকলে হবে না, কার্যকর পরিকল্পনা ও দক্ষতাও থাকতে হবে।
উপসংহার
আত্মসম্মান হলো ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, যা মানুষের ব্যক্তিত্ব ও জীবনযাত্রায় বড় প্রভাব ফেলে। কুরআন আমাদের আত্মসম্মান শেখায়, সাহিল আদীম এই বিষয়টি আরও গভীরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আত্মসম্মান বাড়ানোর জন্য আমাদের উচিত সঠিক ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করা, সাহসী হওয়া, এবং নিজেকে উন্নত করার জন্য প্রচেষ্টা চালানো।