সময়ের গুরুত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
Table of Content:
সময় একটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ, যা সবার জন্য সমানভাবে বরাদ্দ। ধনী-গরিব, ছাত্র-শিক্ষক, নেতা-শ্রমিক—প্রত্যেকেই প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা পেয়ে থাকেন। তবে কেউ সেই সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছায়, আবার কেউ তা অপচয় করে পিছিয়ে পড়ে। এই কারণেই সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করার দক্ষতা অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ।
খেলায় মজিয়া শিশু কাটাইও না বেলা
সময়ের প্রতি কভু করিওনা হেলা।
আজি যে সময় গত হইল তোমার
আসিবেনা পুণঃ তাহা আসিবেনা আর।
তাই বলি বৃথা কাল করিওনা ক্ষয়
আপন কাজ কর থাকিতে সময়।
(সংগৃহিত)
সময়ের শপথ আল-কোরআনে উল্লেখ ও হাদিসে সময়ের গুরুত্ব:
আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা পবিত্র কোরআনে সূরা আল-আসরে সময়ের কসম করে বলেছেন:
"সময়ের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত, তবে তারা নয় যারা ঈমান আনে, সৎকর্ম করে এবং সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দেয়।" (সূরা আল-আসর, আয়াত: ১-৩)
এটি ইঙ্গিত করে যে সময়ের অপচয় একজন ব্যক্তিকে ক্ষতির পথে নিয়ে যায়। যারা তাদের সময় সঠিকভাবে কাজে লাগায়, তারা সফল হয়।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"দুইটি জিনিস আছে যার ব্যাপারে অধিকাংশ মানুষ প্রতারিত হয়: স্বাস্থ্য ও অবসর।" (সহীহ বুখারি)( (আধুনিক প্রকাশনী- ৫৯৬৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৯৭০))
সকাল হলো বরকতময় সময়
স্বাখর ইবনে অদাআহ গামেদী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার উম্মতের জন্য তাদের সকালে বরকত দাও। ((আবূ দাঊদ ২৬০৮, তিরমিযী ১২১২, সহীহ তারগীর হা/১৬৯৩)) ফজরের পরে ঘুম না দিয়ে কাজ শুরু করলে দিনটি আরও ফলপ্রসূ হয়।
সফল ব্যক্তিদের অভ্যাস
বিশ্বের সফল ব্যক্তিদের জীবনধারা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে তারা দিন শুরু করে খুব ভোরে। ভোরের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তারা তাদের দিনটিকে সার্থক করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, বিখ্যাত ব্যক্তিরা যেমন বিল গেটস বা মার্ক জুকারবার্গ খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন এবং তাদের সময় পরিকল্পনা করেন।
জীবন ও সময়ের সম্পর্ক
আমাদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যে সময় তা-ই আমাদের জীবন। আমরা কলকাতা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা লন্ডনে থাকি না; আমরা সময়ের মধ্যে বসবাস করি। অতীতের মানুষ যেমন তাদের সময় শেষ করে চলে গেছেন, আমরাও একদিন চলে যাব। তাই সময়ই জীবনের অপর নাম।
সময় হলো জীবনের অপর নাম
আমাদের প্রতিটি মুহূর্তই সময়ের অংশ এবং সেই সময়টাই আমাদের জীবন। আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই সময়ের অন্তর্গত। সময়ের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।
সবার জন্য সমান সময়
ধনী-গরিব, সাধারণ মানুষ কিংবা নেতা—আল্লাহ প্রত্যেককে সমান ২৪ ঘণ্টার সময় দিয়েছেন। কিন্তু সময়ের সঠিক ব্যবহারে মানুষ তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।
টাইম ম্যানেজমেন্টের মূলনীতি
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মধ্যে সময় ব্যবস্থাপনার এক দারুণ উদাহরণ রয়েছে। প্রতিদিন সালাত আদায় করার মাধ্যমে সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।
যারা ফজরের সালাত পড়ে, তারা অনেক আগেই দিন শুরু করে এবং সঠিকভাবে সময় কাজে লাগাতে পারে।সময়ের সঠিক ব্যবহারে সফলতা
সময়ের প্রতিটি মুহূর্তকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো মানুষের ভবিষ্যৎ অবস্থান নির্ধারণ করে। যারা সময়কে গুরুত্ব দেয়, তারা জীবনকে সফলতার শিখরে পৌঁছে দেয়।
এইভাবে সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধি করে জীবন পরিচালিত করলে, তা আমাদের জন্য ইহকাল এবং পরকালে কল্যাণ বয়ে আনবে।
সময়ের যথাযথ ব্যবহার:
- রুটিন তৈরি করুন: প্রতিদিনের কাজগুলো একটি নির্দিষ্ট রুটিন অনুযায়ী করুন।
- অগ্রাধিকার নির্ধারণ করুন: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আগে সম্পন্ন করুন।
- সময়ের অপচয় পরিহার করুন: অপ্রয়োজনীয় কাজ বা ফেসবুক, টিভির অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- আত্ম-উন্নয়নের জন্য সময় দিন: নতুন দক্ষতা শেখা, বই পড়া বা ধ্যান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।