আমি যা চাই, এখনই পাব
Table of Content:
আজকের শিশু কেন ভাবে "আমি যা চাই, এখনই পাব"? কীভাবে এই মানসিকতা বদলানো যায়?
আজকের অনেক শিশুদের মধ্যে একটা সাধারণ মানসিকতা দেখা যায়—
"আমি যা চাই, এখনই চাই, আর এখনই পাব।"
এই প্রবণতাকে বলা হয় ইনস্ট্যান্ট গ্রাটিফিকেশন (Instant Gratification), যা শিশুর ধৈর্যহীনতা, জেদ এবং অধিকারবোধ তৈরি করতে পারে।
🧠 কেন এমনটা হচ্ছে?
-
ফোন, ট্যাব এবং ইউটিউবের মতো জিনিসে খুব দ্রুত আনন্দ পাওয়া যায়।
-
বাবা-মা অনেক সময় শিশুর কান্না বা জেদের ভয়ে সব চাওয়া মেনে নেন।
-
চারপাশের বন্ধুদের থেকে প্রভাবিত হয়—“ওর আছে, আমারও চাই।”
✅ কীভাবে এই অভ্যাস বদলাবেন?
১. ভালোভাবে “না” বলতে শিখান
সব চাওয়া মেনে নেয়া যাবে না — সেটা শিশুকে বুঝিয়ে বলুন।
🗣 “আমি জানি তুমি এটা চাও, কিন্তু এখন সেটা সম্ভব না।”
২. দেরিতে পাওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন
যা চায়, সেটা পাওয়ার জন্য কিছু কাজ করতে বলুন।
🧩 “তুমি যদি এক সপ্তাহ হোমওয়ার্ক করো, তবে আমরা ওটা কিনবো।”
৩. স্পষ্ট নিয়ম তৈরি করুন
কোনটা চলবে আর কোনটা চলবে না, সেটা পরিষ্কারভাবে বলুন। এবং সেটা ধরে রাখুন।
৪. প্রতিটি চাওয়ার পেছনে কারণ জানতে চান
👉 “তুমি এটা কেন চাও?”
এর মাধ্যমে তারা চিন্তা করতে শেখে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
৫. ধৈর্য শেখানোর জন্য ধীরে ধীরে বদল আনুন
একদিনেই সব বদলাবে না। ধৈর্যের সঙ্গে শিশুর মানসিকতা গড়ে তুলুন।
📖 উদাহরণ গল্প:
শুভ প্রতিদিন একটা নতুন খেলনা চাইত। মা বললেন,
“তুমি যদি তোমার খেলার জিনিসগুলো গুছিয়ে রাখো, তবে আমরা সপ্তাহে একটা খেলনা কিনবো।”
শুভ শিখল— চাওয়ার আগে কাজ করতে হয়।
নিচে শিশুদের খাওয়ার অভ্যাস (Food Habit) ভিত্তিক একটি উদাহরণ যোগ করা হলো, যা এই “আমি যা চাই এখনই চাই” মানসিকতা বুঝতে ও সামলাতে সাহায্য করবে।
🍔 খাবারের অভ্যাসের মাধ্যমে উদাহরণ:
অনেক শিশুই বলে—
"আমি আজ শুধু পিজ্জা খাব!"
অথবা
"ভাত-তরকারি খেতে ইচ্ছে করছে না, শুধু আইসক্রিম দাও!"
যদি বাবা-মা বারবার এই চাওয়া মেনে নেন, তাহলে শিশুর মনে গেঁথে যায়—
"আমি যা চাই, তাই খাব। আমার ইচ্ছে না হলে কোনো কিছু খাব না!"
✅ কীভাবে সামলাবেন?
🎯 ধৈর্য ধরে ব্যাখ্যা করুন:
🗣 “আইসক্রিম খাওয়া যাবে, কিন্তু আগে পেট ভরে ভাত খেতে হবে। তারপরই মিষ্টি খাবার।”
🍱 মজার উপায়ে পুষ্টিকর খাবার পরিবেশন:
-
সবজি বা ভাতকে রঙিন ও আকর্ষণীয় করে তুলুন (ডিমের স্মাইলি, সবজির কার্টুন আকৃতি)।
-
শিশুকে খাওয়ার সময় ছোট গল্প বলুন বা গানে গানে পরিবেশন করুন।
🧠 শেখান ভালো-মন্দের পার্থক্য:
🗣 “পিজ্জা মাঝে মাঝে খাওয়া যায়, কিন্তু প্রতিদিন খেলে পেট খারাপ হবে। শক্তি পেতে হলে ভাত, সবজি খেতে হয়।”
📌 বাস্তব গল্প উদাহরণ:
রাফি প্রতিদিন চিপস খেতে চাইত। মা প্রথমে মেনে নিতেন, কিন্তু পরে রাফির খাওয়ার অভ্যাস খারাপ হয়ে যায়।
এরপর মা প্রতিদিন রাফিকে তার প্রিয় কার্টুনের প্লেট ও রঙিন চামচে ভাত পরিবেশন করেন।
সেইসঙ্গে বলেন, "ভাত খেলে রাফি হবে পোকেমন!"
ধীরে ধীরে রাফি বুঝতে শেখে, পুষ্টিকর খাবার খেলে শরীর শক্ত হয়।
💡 উপসংহার:
খাবারের মাধ্যমেও আমরা শিশুদের শেখাতে পারি—
-
সব চাওয়া এখনই পাওয়া যায় না
-
আগে প্রয়োজনীয় জিনিস, তারপর পছন্দের জিনিস
-
স্বাস্থ্য ও সুখের মাঝে বুদ্ধিমত্তার চর্চা জরুরি
🎯 শেষ কথা:
শিশুরা স্বভাবতই চাওয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু তাদের শেখাতে হবে:
-
সবকিছু এখনই পাওয়া যায় না
-
ধৈর্য রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ
-
প্রত্যেক জিনিসের একটা মূল্য আছে
শিশু ছোট হলেও, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে সে ধীরে ধীরে সহনশীল, ধৈর্যশীল এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।