শিশুর জেদ, মরে যাওয়ার ভয় দেখানো ও বাহানা করার সমাধান
আমার ভাতিজী। বয়স ৮ বছর। সে অনেক জেদি যখন যা বলে তখন তা না দিলে অনেক জোরে জোরে গলা ফাটিয়ে কান্না করে। আর ইদানীং সে কিছু হলেই মরে যাওয়ার কথা বলে। মরে যাওয়ার ভয় দেখায়। আমি পানিতে পরে যাবো এই করবো সেই করবো। আবার সে মা বাবা ভাই বোনের সাথে রাগ করে এখনি আলাদা রান্না করে খেতে চায়। তার সবকিছু আলাদা করে ফেলে।। আরেকজনের বয়স ৬। সে পড়াশোনা নিয়ে অনেক অজুহাত দেখায়। সবকিছু নিয়ে শুধু বাহানা। খাবারের ক্ষেত্রে যেটা থাকবেনা সেটা নিয়ে খেতে চায়। আবার পড়াশোনার ক্ষেত্রে অজুহাত দেখায় শুধু।
শিশুর জেদ, মরে যাওয়ার ভয় দেখানো ও বাহানা করার সমাধান
শিশুরা বড় হওয়ার সময় বিভিন্ন ধরনের আচরণ পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়। কিছু শিশু জেদি হয়, কিছু ভয় দেখিয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করতে চায়, আবার কেউ বাহানা করে পছন্দের কাজ বা খাবার আদায় করতে চায়। এসব সমস্যা নিরসনের জন্য অভিভাবকদের ধৈর্য ধরে সঠিক উপায়ে শিশুকে বোঝাতে হবে।
৮ বছর বয়সী শিশুর জেদ ও "মরে যাওয়ার ভয়" দেখানো
সমস্যার কারণ:
✔ আত্মনিয়ন্ত্রণের অভাব: ছোট শিশুরা তাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তাই হুট করে চিৎকার বা কান্নাকাটি করে।
✔ মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা: সে হয়তো পরিবারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত মনোযোগ পাচ্ছে না বা চায় যে সবাই তার প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল করুক।
✔ ক্ষমতার লড়াই: সে হয়তো মনে করছে, ভয় দেখিয়ে বা জেদ করে সে যা চায় তা আদায় করতে পারবে।
✔ ভেতরের কোনো কষ্ট বা ভয়: অনেক সময় শিশুরা মানসিক চাপের কারণে "মরে যাব" বা "আলাদা থাকবো" জাতীয় কথা বলে, যদিও তারা এসবের প্রকৃত অর্থ বোঝে না। তবে এসব কথা গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত।
সমাধান:
১. জোর নয়, শান্তভাবে বোঝানো
✔ ধমক বা শাস্তি না দিয়ে শান্তভাবে তার কথা শোনার চেষ্টা করুন। ✔ যখন সে চিৎকার করে, তখন বলুন-
"আমি তোমার কথা বুঝতে চাই, কিন্তু তুমি যদি এত জোরে বলো, তাহলে আমি বুঝতে পারছি না। আসো, একটু শান্ত হয়ে কথা বলি।"
২. "মরে যাব" বললে অবহেলা নয়, কৌশলে বোঝানো
✔ যদি সে বলে, "আমি পানিতে পড়ে যাব" বা "আমি মরে যাব," তখন তাকে গুরুত্ব দিয়ে বলুন-
"তুমি যখন এমন বলো, আমি সত্যিই কষ্ট পাই। আমি চাই না তুমি কষ্ট পাও। তুমি যদি মন খারাপ হও, তাহলে আমাকে বলো, আমি তোমার পাশে আছি।"
✔ তার কথাকে ছোট করে উড়িয়ে দেবেন না, কারণ এটা ভবিষ্যতে আরও বড় সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
৩. বিকল্প দিন, কিন্তু নিয়ম ঠিক রাখুন
✔ সে যদি আলাদা রান্না করে খেতে চায়, তাহলে বলুন-
"তুমি যদি আলাদা কিছু খেতে চাও, তাহলে আমরা একসাথে রান্না করতে পারি। তবে পরিবারের সবাই একসাথে খাওয়া সবচেয়ে ভালো।"
✔ সে আলাদা কিছু করতে চাইলে সেটা ভালো কিছু দিয়ে প্রতিস্থাপন করুন।
৪. বিশেষ সময়ে বিশেষ মনোযোগ দিন
✔ প্রতিদিন ১৫-২০ মিনিট তার সাথে শুধু খেলা করুন বা গল্প করুন, যাতে সে মনে করে সে বিশেষ ও ভালোবাসার মানুষ। ✔ জেদি হলে সঙ্গে সঙ্গে না দিয়ে বলুন-
"আমি তোমাকে এটা দেব, কিন্তু তুমি যদি শান্ত হয়ে বলো, তাহলে আরও দ্রুত পাবে।"
৬ বছর বয়সী শিশুর পড়াশোনায় অনীহা ও খাবার নিয়ে বাহানা
সমস্যার কারণ:
✔ পড়াশোনায় চাপ অনুভব করা: শিশুর মনে হতে পারে পড়াশোনা কঠিন বা বিরক্তিকর, তাই বাহানা দেখায়।
✔ মনোযোগ আকর্ষণ: যখন সে অজুহাত দেয়, তখন হয়তো সবাই বেশি মনোযোগ দেয়, যা তাকে উৎসাহিত করছে।
✔ খাবারের ক্ষেত্রে অবাধ্যতা: কিছু শিশু খাবার নিয়ে বাহানা দেখিয়ে বাড়তি মনোযোগ পেতে চায়।
সমাধান:
১. পড়াশোনাকে মজার কিছু বানিয়ে তুলুন
✔ গেমিফিকেশন পদ্ধতি ব্যবহার করুন-
"চলো, দেখি কে আগে একটা শব্দ পড়তে পারে?"
✔ পড়ার সময় কমিয়ে দিন-
"আজ আমরা শুধু ১০ মিনিট পড়বো, তারপর একটা মজার খেলা খেলবো।"
২. খাবার নিয়ে বাহানা কমানোর কৌশল
✔ তাকে দুটো বিকল্প দিন:
"তুমি কি ভাতের সাথে ডিম খাবে, নাকি মাছ?"
✔ যখন সে কিছু চায়, তখন সরাসরি না না বলে বলুন-
"এটা এখন নেই, কিন্তু আমরা কাল এটা খেতে পারি। এখন তোমার জন্য এইটা আছে, চলো দেখি কে আগে খেতে পারে!"
সংক্ষেপে করণীয়:
৮ বছর বয়সীর জন্য:
-
চিৎকার বা জেদ করলে শান্ত থাকুন, ধমক দেবেন না।
-
"মরে যাব" বললে গুরুত্ব দিয়ে ভালোবাসার মাধ্যমে বোঝান।
-
আলাদা কিছু চাইলেও পরিবারের নিয়ম মেনে চলতে শেখান।
-
তাকে বিশেষ সময় দিন, যাতে সে বাড়তি মনোযোগ পেতে জেদ না করে।
৬ বছর বয়সীর জন্য:
-
পড়াশোনাকে মজার ও ছোট ছোট অংশে ভাগ করুন।
-
খাবার নিয়ে বাহানা কমানোর জন্য দুটো অপশন দিন।
-
বাহানা করলে সরাসরি না না বলে বিকল্প কিছু দিন।
শিশুর আচরণ পরিবর্তন করতে সময় লাগবে, তাই ধৈর্য ধরুন ও ভালোবাসার মাধ্যমে তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন।
Related Questions
Get প্যারেন্টিং - Parenting updates by email
Short, practical lessons and course updates from Rumman Ansari. No spam.