উত্তর: ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিকে যখন কবরে রাখা হয়, তখন কবর তাকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলে যা মানুষের জন্য এক বড় শিক্ষা। এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. কবরের সম্বোধন ও তিরস্কার: যখন কোনো মানুষকে কবরে রাখা হয়, তখন কবর তাকে ডেকে বলে, "হে মানুষ! তোমার প্রতি আফসোস! আমার ব্যাপারে কোন বিষয়টি তোমাকে ধোঁকায় রেখেছিল? তুমি কি জানতে না যে, আমি হলাম পরীক্ষার ঘর, অন্ধকারের ঘর, একাকীত্বের ঘর এবং কীটপতঙ্গের ঘর? যখন তুমি আমার ওপর দিয়ে (দুনিয়াতে) দর্পভরে চলাচল করতে, তখন তোমার কিসের এত অহংকার ছিল?" [৫০৯]।
২. নেককার মুমিনের ক্ষেত্রে কবরের রূপান্তর: মৃত ব্যক্তি যদি নেককার বা পুণ্যবান হন, তবে তাঁর পক্ষ থেকে একজন উত্তর প্রদানকারী ফেরেশতা কবরের কথার জবাবে বলেন যে, এই ব্যক্তি সর্বদা নেক কাজের আদেশ দিতেন এবং মন্দ কাজে বাধা দিতেন [৫০৯]। এই সাক্ষ্য শোনার পর কবরের সংকীর্ণতা ও অন্ধকার দূর হয়ে যায়। তখন কবর বলে, "তাহলে আমি তোমার জন্য সবুজ শ্যামল বাগানে পরিণত হব" [৫০৯]। এরপর আল্লাহর কুদরতে তাঁর পুরো শরীর নূরের আলোতে আলোকিত হয়ে ওঠে এবং তাঁর আত্মা আল্লাহর রহমতের নিকটবর্তী হয়ে প্রশান্তি লাভ করে [৫০৯]।
৩. পাপিষ্ঠ প্রতিবেশীদের শিক্ষা: যদি কোনো অবাধ্য বা পাপিষ্ঠ ব্যক্তিকে কবরে রেখে শাস্তি দেওয়া হয়, তখন তাঁর আশেপাশে থাকা মৃত ব্যক্তিরা তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, "হে দুনিয়ার জীবনে অবস্থানকারী প্রতিবেশী! তুমি কি আমাদের মৃত্যু দেখে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করোনি? আমাদের আমল করার সুযোগ শেষ হওয়া দেখে কি তোমার মনে কোনো চিন্তা আসেনি? আল্লাহ তোমাকে নেক আমল করার জন্য দীর্ঘ সময় দিয়েছিলেন, কিন্তু তুমি সেই সুযোগ কাজে না লাগিয়ে আজ এই পরিণতির মুখোমুখি হয়েছ" [৫১০]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্র: ১. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন, ইছালে সাওয়াব এবং ফিদিয়া ইত্যাদির বিধানাবলী", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৫০৯, ৫১০)।