উত্তর: ইসলামি বিধান অনুযায়ী কবরের আযাব অত্যন্ত কঠিন, তবে কিছু বিশেষ আমল এবং পদ্ধতির মাধ্যমে এই আযাব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। কুরআন ও হাদিসের আলোকে এর প্রধান উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. তাওবা ও নেক আমল: মৃত্যুর আগে সমস্ত গুনাহ থেকে খাঁটি অন্তরে তাওবা করা কবরের শাস্তি থেকে বাঁচার প্রধান উপায় [২৬৮, ৪৬২]। এছাড়া দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় বেশি বেশি নেক কাজ করা এবং প্রতিটি মুহূর্তকে মূল্যবান মনে করে পরকালের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি [২৬১, ৪৪৫]।
২. সদকায়ে জারিয়া ও সন্তানের দোয়া: মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া তিনটি জিনিস তাকে কবরে সাহায্য করে- সদকায়ে জারিয়া (জনকল্যাণমূলক কাজ), মানুষের উপকারে আসে এমন জ্ঞান এবং নেক সন্তান যে তার জন্য নিয়মিত দোয়া করে [১৮৮, ১৮৯]। এছাড়া মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দান-সদকা করা হলে তার গুনাহ মাফ হয় এবং কবরে প্রশান্তি আসে [১৯১, ১৯৪]।
৩. ঋণ পরিশোধ করা: মৃত ব্যক্তির কোনো ঋণ থাকলে তা দ্রুত পরিশোধ করা উচিত। হাদিস অনুযায়ী, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে কবরে জান্নাতের নিয়ামত থেকে বঞ্চিত রাখা হয় বা তাকে বন্দি অবস্থায় থাকতে হয়। ঋণ শোধ করলে সে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পায় [৬১]।
৪. আহাদ নামা ও বিশেষ দোয়া: দাফনের সময় মৃত ব্যক্তির কাফনে 'আহাদ নামা' লিখে রাখা বা নির্দিষ্ট কিছু দোয়া লিখে মৃত ব্যক্তির বুকের ওপর (কাফনের নিচে) রাখা কবরের আযাব থেকে নিরাপত্তা এবং মুনকার-নাকিরের সওয়াল-জওয়াব সহজ হওয়ার অন্যতম উপায় হিসেবে বর্ণিত হয়েছে [৩৪৯, ৩৫১, ৩৫২]।
৫. কালিমা খতম: কোনো মৃত ব্যক্তির কল্যাণে সত্তর হাজার বার 'কালিমা তৈয়্যবা' (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করে সওয়াব বকশিশ করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন বলে বর্ণনায় এসেছে [৪১৬, ৪১৭]। এছাড়া মৃত্যুর সময় শেষ কথা যেন কালিমা হয়, সেই চেষ্টা করা উচিত [১৭]।
৬. জীবিতদের ইস্তিগফার: মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিতদের ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তিগফার তাদের জন্য কবরের শ্রেষ্ঠ হাদিয়া স্বরূপ। এর মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির মর্যাদা বৃদ্ধি পায় এবং আযাব মাফ হয় [৫৬, ৫৭, ৪১৪]।
৭. বিশেষ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা: পরনিন্দা (গিবত), প্রস্রাবের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে না থাকা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং পাপাচার কবরের আযাবের প্রধান কারণ। তাই দুনিয়াতে এসব থেকে বেঁচে থাকা কবর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় [২৬৬, ২৬৮, ৩২১]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন, ইছালে সাওয়াব এবং ফিদিয়া ইত্যাদির বিধানাবলী", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৩৪৯, ৩৫১, ৩৫২, ৪১৬, ৪১৭)। ২. মুফতী মেসূরুল হক রচিত "জীবনের শেষ দিন", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৭, ৫৬, ৫৭, ৬১)। ৩. আ.শ.ম. শফীকুল ইসলাম রচিত ও ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া সম্পাদিত "মৃত-ব্যক্তির জন্য করণীয় কাজের মাসনূন পদ্ধতিসমূহ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৮৮, ১৮৯, ১৯১, ১৯৪)। ৪. মাওলানা মুহাম্মদ ইলয়াস আত্তার কাদেরী রযবী রচিত "মৃত্যুর স্বাদ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (২৬১, ২৬৬, ২৬