✏️ Explanatory Question

মৃত্যুশয্যায় বা অন্তিম মুহূর্তে শয়তান কীভাবে মুমিন বান্দাকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং এ থেকে বাঁচার উপায় কী?

👁 5 Views
📘 Detailed Answer
🟢 Easy
💡

Answer with Explanation

উত্তর: ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মানুষের মৃত্যুর ঠিক পূর্বমুহূর্তে শয়তান তার ঈমান হরণ করার জন্য শেষ ও চূড়ান্ত চেষ্টা চালায়। এটি একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। এই সময় শয়তানের ধোঁকার কৌশলগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

১. প্রিয়জনদের বেশ ধারণ: অনেক বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুর সময় শয়তান মুমূর্ষু ব্যক্তির বাবা-মায়ের আকৃতি ধারণ করে তার সামনে উপস্থিত হয় [৫১৩, ৬৯৫]। শয়তান তখন বাবার বেশে ডান দিকে এবং মায়ের বেশে বাম দিকে বসে অত্যন্ত মমতার সাথে বলতে থাকে যে, "হে সন্তান! আমরা তোমাকে অনেক স্নেহ করি, আমাদের উপদেশ শোনো- ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে ইহুদি বা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করো, কারণ সেটিই সত্য ধর্ম" [৫১৩, ৬৯৫]। এভাবে সে ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।

২. বিখ্যাত ইমামদের অভিজ্ঞতা: এমনকি বড় বড় বুজুর্গ ও আলেমদেরও এই কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়েছে। যেমন, ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) এর ইন্তেকালের সময় দেখা গেছে, তিনি ঘোরের মধ্যে 'না' 'না' বলছিলেন [৭০০, ৭১৬]। জ্ঞান ফেরার পর তিনি জানিয়েছিলেন যে, শয়তান তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আঙুল কামড়ে বলছিল, "আহমদ! তুমি আমার হাত থেকে বেঁচে গেলে," আর তিনি উত্তর দিচ্ছিলেন, "না, এখনও না" (অর্থাৎ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে পর্যন্ত শয়তানের ধোঁকা থেকে কেউ নিরাপদ নয়) [৭০০, ৭১৬]।

৩. ফেরেশতাদের সহায়তা: যারা দুনিয়াতে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং ঈমানের ওপর অটল ছিলেন, এই কঠিন সময়ে আল্লাহ তাঁদের সাহায্যের জন্য ফেরেশতা পাঠান [৬৯৬, ৬৯৯]। যেমন জিবরাঈল (আ.) এসে শয়তানকে তাড়িয়ে দেন এবং মুমিন ব্যক্তিকে কালিমার ওপর অটল থাকার সান্ত্বনা ও খোশখবর শোনান [৬৯৬, ৬৯৯, ৭১৫]।

৪. বাঁচার উপায়: এই ভয়াবহ ধোঁকা থেকে বাঁচতে হলে জীবিতদের উচিত রোগীর পাশে বসে অত্যন্ত ধৈর্য ও স্নেহের সাথে কালিমার তালক্বীন করা [১০৩, ৪৭৫, ৭০৪]। এছাড়াও মুমূর্ষু ব্যক্তির শিয়রে বসে সূরা ইয়াসীন বা সূরা রা'দ তিলাওয়াত করা উচিত, কারণ এর বরকতে শয়তানের জাল ও ফন্দি থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং মৃত্যুযন্ত্রণা লাঘব হয় [১৪, ৭০৫]।

এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. মুফতি মুহাম্মদ শফী উসমানী রচিত "মৃত্যুশয্যায় শয়তানের ধোঁকা", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৬৯৪, ৬৯৫, ৬৯৬, ৬৯৯, ৭০০, ৭০৪, ৭০৫, ৭১৫, ৭১৬)। ২. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন, ইছালে সাওয়াব এবং ফিদিয়া ইত্যাদির বিধানাবলী", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৫১৩, ৪৭৫)। ৩. মুফতী মেসূরুল হক রচিত "জীবনের শেষ দিন", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৪)। ৪. ইমাম কুরতুবি রচিত "মৃত্যুর ওপারে: অনন্তের পথে", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১০৩)।