উত্তর: ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর কঠিন মুহূর্তে শয়তান মানুষের ঈমান হরণ করার জন্য যে চূড়ান্ত চেষ্টা চালায়, তাতে সে অনেকের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের রূপ ধারণ করে। তবে এটি সবার জন্য অবধারিত নয়, বরং এটি একটি বড় পরীক্ষা যা মূলত আমল ও ঈমানের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। এর বিস্তারিত বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ধোঁকার কৌশল: অনেক নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, মৃত্যুর সময় শয়তান মুমূর্ষু ব্যক্তির শিয়রে তাঁর সবচাইতে হিতাকাঙ্ক্ষী বাবা ও মায়ের আকৃতি ধারণ করে উপস্থিত হয় [৫২৭, ২৭৫]। শয়তান তখন বাবার বেশে ডান দিকে এবং মায়ের বেশে বাম দিকে বসে অত্যন্ত মমতার সাথে বলতে থাকে যে, "হে সন্তান! আমরা তোমাকে অনেক স্নেহ করি, আমাদের উপদেশ শোনো- ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করে ইহুদি বা খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করো, কারণ সেটিই সত্য ধর্ম" [৫২৭, ২৭৫]। এভাবে সে ব্যক্তির শেষ মুহূর্তের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করে।
২. মুমিন বান্দাদের সুরক্ষা: যারা দুনিয়াতে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করেছেন এবং ঈমানের ওপর অটল ছিলেন, এই কঠিন সময়ে আল্লাহ তাঁদের সাহায্যের জন্য ফেরেশতা পাঠান [৫২৮, ৫৩৩]। যেমন অনেক বর্ণনায় এসেছে, হযরত জিবরাঈল (আ.) এসে শয়তানকে তাড়িয়ে দেন এবং মুমিন ব্যক্তিকে কালিমার ওপর অটল থাকার সান্ত্বনা ও খোশখবর শোনান [৫২৮, ৫৩৩]। ফলে শয়তান তাঁদের কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
৩. কাদের ক্ষেত্রে এটি ঘটে: এই ভয়াবহ ধোঁকা মূলত তাঁদের ওপর কার্যকর হয় যারা দুনিয়াতে গাফেল বা উদাসীন অবস্থায় জীবন কাটিয়েছে অথবা যাদের ঈমান ছিল দুর্বল ও ত্রুটিযুক্ত [৫৩৪, ৫৩৯]। যারা নিয়মিত গুনাহে লিপ্ত থাকত এবং তাওবা করেনি, শেষ মুহূর্তে শয়তানের এই ষড়যন্ত্রে তাঁদের লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচাইতে বেশি থাকে [৫৩৯]।
৪. পরিনাম: চূড়ান্ত বিচারে দেখা যায়, যারা সারাজীবন আল্লাহর অনুগত থেকেছেন, তাঁদের শেষ পরিণতি আল্লাহ অত্যন্ত সম্মানজনক করেন এবং শয়তানের এ জাতীয় ধোঁকা থেকে তাঁদের মুক্ত রাখেন [৫৩৯]। তাই এটি কোনো সাধারণ নিয়ম নয় যে সবার সাথেই এমনটি ঘটবে, বরং এটি একটি ভয়াবহ ফিতনা বা পরীক্ষা যা থেকে বাঁচার জন্য নেক আমল এবং আল্লাহর রহমত একান্ত প্রয়োজন [৫৩৪, ৫৩৯]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. মুফতি মুহাম্মদ শফী উসমানী রচিত "মৃত্যুশয্যায় শয়তানের ধোঁকা", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৫২৭, ৫২৮, ৫৩৩, ৫৩৪, ৫৩৯)। ২. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন, ইছালে সাওয়াব এবং ফিদিয়া ইত্যাদির বিধানাবলী", প্যাসেজ ইনডেক্স: (২৭৫)।