ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী সন্তান হিসেবে মৃত মা-বাবার জন্য দোয়া করা কেবল একটি দায়িত্ব নয়, বরং এটি তাঁদের প্রাপ্য হক বা পাওনা [২১, ৫৩]। উৎসসমূহ অনুযায়ী, মা-বাবার জন্য সর্বোত্তম দোয়া ও আমলগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. কুরআন মাজিদে বর্ণিত দোয়া: মা-বাবার জন্য আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে নিজেই দোয়া শিখিয়ে দিয়েছেন, যা পাঠ করা সবচেয়ে উত্তম:
-
রাব্বি রহামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগীরা: (رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا) অর্থ: "হে আমার পালনকর্তা! আপনি তাঁদের প্রতি দয়া করুন, যেমনটি তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন" [১৯, ২০, ৫১, ৫২]।
-
রাব্বানাগফিরলী ওয়ালি ওয়ালিদাইয়া...: (رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ) অর্থ: "হে আমাদের পালনকর্তা! আমাকে, আমার পিতা-মাতাকে এবং সকল মুমিনকে হিসাব দিবসে ক্ষমা করুন" [২০, ৫২]।
২. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনা: এক ব্যক্তি নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, মা-বাবার মৃত্যুর পর তাঁদের জন্য কোনো সদ্ব্যবহার বা সেবা বাকি আছে কি না। উত্তরে নবীজি (সা.) চারটি কাজের কথা বলেন:
- তাঁদের জন্য দোয়া করা ও ক্ষমা (ইস্তিগফার) প্রার্থনা করা [১৬৮, ১৬৯]।
- তাঁদের কৃত অসিয়ত বা ওয়াদা পূর্ণ করা [১৬৮, ১৬৯]।
- তাঁদের বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিতদের সম্মান করা [১৬৮, ১৬৯, ২৩, ৫৫]।
- তাঁদের মাধ্যমে সম্পৃক্ত আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা, যা তাঁদের জীবনদ্দশায় রক্ষার দায়িত্ব ছিল [১৬৮, ১৬৯, ২৩, ৫৫]।
৩. ইস্তিগফারের ফজিলত: সূত্র অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তিরা কবরে তাঁদের নেক আমল বৃদ্ধি পেতে দেখে অবাক হবেন এবং আল্লাহকে জিজ্ঞাসা করবেন যে এগুলো কোত্থেকে এল। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, "তোমার নেক আওলাদরা (সন্তানরা) তোমার জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করেছে" [২০, ৫২]। জীবিতদের ইস্তিগফার মৃতদের জন্য 'উপহার' স্বরূপ [১৯, ৫১]।
৪. অন্যান্য কার্যকর আমল:
-
দান-সদকা করা: মা-বাবার পক্ষ থেকে দান-সদকা বা কুয়া খনন (পানির ব্যবস্থা) করা হলে তার সওয়াব তাঁদের কবরে পৌঁছে [১৬৬, ১৬৭, ১৭০, ৩৯০]।
-
নফল ইবাদত: তাঁদের পক্ষ থেকে নফল নামাজ, রোজা বা হজ্জ-উমরাহ পালন করা এবং এর সওয়াব পৌঁছে দেওয়া জায়েজ [২১, ৫৩, ১৭০]।
-
কবর জিয়ারত: সম্ভব হলে প্রতি জুমআ বা অন্য যেকোনো দিনে মা-বাবার কবর জিয়ারত করা উত্তম, যা আখেরাতকে স্মরণ করিয়ে দেয় [২৫, ২৬, ৫৭, ৫৮]।
সারসংক্ষেপে, সন্তান হিসেবে মা-বাবার জন্য সর্বদা ক্ষমা ও রহমতের দোয়া করা এবং তাঁদের পক্ষ থেকে সদকায়ে জািরয়া (যেমন- মসজিদ, মাদ্রাসা বা টিউবওয়েল স্থাপন) করা হলো তাঁদের প্রতি শ্রেষ্ঠ সদ্ব্যবহার [১৭৮, ১৭৯]।