উত্তর: ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী মৃত ব্যক্তিকে অত্যন্ত সম্মানের সাথে গোসল দেওয়া জীবিত মুসলমানদের ওপর একটি আবশ্যিক দায়িত্ব বা ফরজে কিফায়া [২১৫, ৩০৪]। উৎসসমূহ থেকে এর বিস্তারিত পদ্ধতি ও নিয়মাবলি নিচে তুলে ধরা হলো:
১. গোসলের প্রস্তুতি: মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত দাফন করার সুবিধার্থে গোসলের কাজ যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা উচিত [১৪৯, ২৯৭]। গোসলের স্থানটি নির্জন হওয়া উত্তম যাতে সেখানে অনাহূত ভিড় না হয় [২৮]। গোসলের খাটিয়া বা তক্তাকে তিন, পাঁচ বা সাতবার আগরবাতি বা লোবান দিয়ে ধোঁয়া দিয়ে সুগন্ধযুক্ত করা মুস্তাহাব [২৯৬]।
২. সতর ঢাকা: মৃত ব্যক্তির নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত একটি মোটা কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যাতে পানি ঢাললেও সতর বা লজ্জাস্থান দেখা না যায় [২৮, ৩২৮]। এরপর তাঁর পরিধেয় কাপড়গুলো খুলে নিতে হবে [২৮, ২৯৬]।
৩. ইস্তিঞ্জা করানো: গোসল প্রদানকারী হাতে কাপড় জড়িয়ে মৃত ব্যক্তিকে আলতোভাবে বসিয়ে পেটে ধীরে ধীরে মালিশ করবেন এবং শৌচকর্ম বা ইস্তিঞ্জা সম্পন্ন করাবেন [২৮, ২৯, ২৯৬]।
৪. অজু করানো: নামাজের অজুর মতো মৃত ব্যক্তিকে অজু করাতে হয়। তবে নাকে ও মুখে পানি প্রবেশ না করিয়ে তুলা বা কাপড়ের টুকরো ভিজিয়ে দাঁত, মাড়ি ও নাকের ছিদ্র পরিষ্কার করে দিতে হবে [২৯৬]। এরপর মুখমণ্ডল ও কনুইসহ হাত ধুয়ে মাথা মাসাহ করতে হবে এবং পা ধুইয়ে অজু শেষ করতে হবে [২৯৬]।
৫. সুন্নাহসম্মত গোসল:
৬. বর্জনীয় কাজ ও সতর্কতা: মৃত ব্যক্তির চুল আঁচড়ানো, নখ কাটা বা শরীরের কোনো লোম কাটা জায়েজ নেই [৩০, ২৯৬]। গোসল শেষে শরীর শুষ্ক কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে দিতে হবে [২৯, ২৯৬]। গোসল প্রদানকারীকে অবশ্যই পর্দা বজায় রাখতে হবে এবং মৃত ব্যক্তির কোনো শারীরিক ত্রুটি বা গোপনীয় বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করা যাবে না [২৯১, ৩২৮]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. মুফতী মেসূরুল হক রচিত "জীবনের শেষ দিন", প্যাসেজ ইনডেক্স: (২৮, ২৯, ৩০)। ২. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন...", প্যাসেজ ইনডেক্স: (২৯১, ২৯২, ২৯৬, ২৯৭, ৩২৮)। ৩. আ.শ.ম. শফীকুল ইসলাম রচিত ও ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া সম্পাদিত "মৃত-ব্যক্তির জন্য করণীয় কাজের মাসনূন পদ্ধতিসমূহ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (২১৫)।