উত্তর: ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি তাঁর মৃত্যুর পর কার্যকর হবে—এমন কোনো দান বা নির্দেশ দিয়ে যাওয়াকে ওসীয়ত বলা হয় [১৫]। ওসীয়তের গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:
১. ওসীয়তের সীমা: একজন ব্যক্তি তাঁর মোট সম্পদের সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পর্যন্ত ওসীয়ত করতে পারেন [১৫, ২১, ৪১৬]। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "তিন ভাগের এক ভাগ; আর এই এক-তৃতীয়াংশও অনেক বেশি" [৪১৬]। এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওসীয়ত করলে তা ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারীদের) অনুমতি ছাড়া কার্যকর হবে না [১৫, ২১, ৪১৬]।
২. ওয়ারিশদের জন্য ওসীয়ত: শরিয়ত অনুযায়ী নির্ধারিত ওয়ারিশ বা উত্তরাধিকারীদের (যাঁরা সরাসরি মিরাস পান) জন্য আলাদা করে কোনো ওসীয়ত করা জায়েজ নয় [১৫, ২১, ৭২]। হাদিসে এসেছে, "কোনো ওয়ারিশের সপক্ষে ওসীয়ত নেই" [১৫, ২১]।
৩. কখন ওসীয়ত করা জরুরি: যদি কোনো ব্যক্তির ওপর আল্লাহর হক (যথা: কাজা নামাজ, কাজা রোজা, অনাদায়ী হজ্জ বা জাকাত) বা বান্দার হক (ঋণ বা আমানত) বাকি থাকে, তবে মৃত্যুর আগে সেই পাওনাগুলো পরিশোধের জন্য ওসীয়ত করে যাওয়া ওয়াজিব বা জরুরি [১৬, ৬৭]। ওসীয়ত না করে গেলে ওই ব্যক্তি গুনাহগার হতে পারেন [১৬]।
৪. নাজায়েজ ওসীয়ত:
৫. ওসীয়ত বাস্তবায়ন: মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের খরচ মেটানো এবং তাঁর যাবতীয় ঋণ পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে ওসীয়ত পূরণ করতে হয় [১৫, ৪১]। এরপর যা বাকি থাকবে তা ওয়ারিশদের মধ্যে বণ্টিত হবে [১৫]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. মুফতী মেসূরুল হক রচিত "জীবনের শেষ দিন", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৫, ১৬, ২১, ২২, ৪১, ৫৩, ৬৭, ৭২, ৭৩)। ২. আব্দুল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল রচিত "মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৪১৬)।