Home / Questions / মুমিন ব্যক্তি ও পাপিষ্ঠদের মৃত্যুযন্ত্রণা বা রুহ কবজ করার প্রক্রিয়ার মূল পার্থক্যগুলো কী কী?
Explanatory Question

মুমিন ব্যক্তি ও পাপিষ্ঠদের মৃত্যুযন্ত্রণা বা রুহ কবজ করার প্রক্রিয়ার মূল পার্থক্যগুলো কী কী?

👁 0 Views
📘 Detailed Answer
🕒 Easy to Read
Read the answer carefully and go through the related questions on the right side to improve your understanding of this topic.

Answer with Explanation

উত্তর: ইসলামি উৎস এবং হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, মুমিন এবং পাপিষ্ঠদের মৃত্যু ও রুহ (আত্মা) কবজের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ আলাদা। এই পার্থক্যগুলো মূলত আমল এবং ঈমানের অবস্থার ওপর ভিত্তি করে হয়। এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

১. ফেরেশতাদের আগমন ও অবয়ব: মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর সময় উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় চেহারার একদল ফেরেশতা জান্নাতি কাফন এবং সুগন্ধি নিয়ে অবতীর্ণ হন [১৬৫, ৫০৩]। পক্ষান্তরে, পাপিষ্ঠ বা অবিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত কুৎসিত ও ভয়ংকর চেহারার একদল ফেরেশতা জাহান্নামের দুর্গন্ধযুক্ত চট বা খসখসে কাপড় নিয়ে উপস্থিত হন [১৬৯, ৪৯৩, ৪৯৬]।

২. মালাকুল মওতের ডাক: মৃত্যুর ফেরেশতা মুমিনের মাথার কাছে বসে অত্যন্ত কোমল স্বরে ডাক দিয়ে বলেন, "হে প্রশান্ত আত্মা! তোমার রবের ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে চলো" [১৬৫, ৪৯৩, ৪৯৬]। অন্যদিকে, পাপিষ্ঠ ব্যক্তির সামনে তিনি অত্যন্ত কর্কশ কণ্ঠে গর্জন দিয়ে বলেন, "হে অপবিত্র আত্মা! তোমার রবের ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির দিকে বেরিয়ে এসো" [১৬৯, ৪৯৩, ৪৯৬]।

৩. প্রাণ বা রুহ বের হওয়ার পদ্ধতি: মুমিনের প্রাণ শরীর থেকে অত্যন্ত সহজে এবং অনায়াসে বেরিয়ে আসে, যেমন পানির পাত্রের মুখ থেকে পানির ধারা গড়িয়ে পড়ে [১৬৫, ১৮৫]। এর বিপরীতে, পাপিষ্ঠ ব্যক্তির প্রাণ বের করতে ফেরেশতা অত্যন্ত কঠোরতা অবলম্বন করেন। আত্মা ভয়ে শরীরের ভেতরে লুকিয়ে পড়তে চায় এবং তখন তাকে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে টেনে বের করা হয়, যেমন ভেজা পশমের ভেতর থেকে কাঁটাযুক্ত লোহার শিক টেনে বের করলে পশম ছিঁড়ে যায় [১৬৯, ৪৯৪]। এতে তার শরীরের শিরা-উপশিরা ও স্নায়ু ছিঁড়ে যায় [৪৯৪]।

৪. সুগন্ধ ও দুর্গন্ধ: মুমিনের রুহ থেকে জান্নাতি মেশকের চমৎকার সুঘ্রাণ বের হতে থাকে, যা আসমানের ফেরেশতাদের মুগ্ধ করে [১৬৫, ৪৯৭]। কিন্তু পাপিষ্ঠ ব্যক্তির রুহ থেকে দুনিয়ার সবচেয়ে নিকৃষ্ট পচা লাশের মতো দুর্গন্ধ বের হতে থাকে, যা ফেরেশতারা অত্যন্ত ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেন [১৬৯, ৪৯৪, ৪৯৭]।

৫. আসমানে যাত্রা ও প্রত্যাখ্যান: মুমিনের জন্য আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং অত্যন্ত সম্মানের সাথে তাঁকে সপ্তম আসমানে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া হয় [১৬৫, ৪৯৮]। পক্ষান্তরে, পাপিষ্ঠ ব্যক্তির রুহের জন্য আসমানের দরজা খোলা হয় না এবং তাকে আসমান থেকে সজোরে নিচের দিকে নিক্ষেপ করা হয় [১৬৯, ৪৯৪, ৪৯৮]।

৬. শারীরিক লক্ষণ: মুমিনের মৃত্যুর একটি বিশেষ নিদর্শন হলো তাঁর কপালে ঘাম দেখা দেওয়া, যা তাঁর লজ্জা এবং আল্লাহর রহমতের একটি চিহ্ন হিসেবে গণ্য করা হয় [১২১, ১৪৬, ২০৯]।

এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত "মৃত্যুকে স্মরণ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৬৫, ১৬৯, ১৮৫, ২০৯)। ২. ইমাম বাইহাকি রচিত ও জিয়াউর রহমান মুন্সী অনূদিত "মৃত্যু থেকে কিয়ামাত", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৪৯৩, ৪৯৪, ৪৯৬, ৪৯৭, ৪৯৮, ৫০৩)। ৩. ইমাম কুরতুবি রচিত "অনন্তের পথে - মৃত্যু।। কবর।। হাশর।। জান্নাত।। জাহান্নাম", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১২১, ১৪৬)।