✏️ Explanatory Question

সাকারাত বা মৃত্যুযন্ত্রণা কি সবার জন্য সমান হয়?

👁 0 Views
📘 Detailed Answer
🟢 Easy
💡

Answer with Explanation

ইসলামি উৎসসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, সাকারাত বা মৃত্যুযন্ত্রণা সবার জন্য সমান হয় না, বরং এটি ব্যক্তির ঈমান এবং আমলের ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে [১৬৫, ১৬৯, ৪৯৩, ৪৯৬]।

১. মুমিন ব্যক্তির ক্ষেত্রে: মুমিন বান্দার রুহ বা আত্মা শরীর থেকে অত্যন্ত সহজে এবং শান্তিতে বের হয়ে আসে [১৬৫, ১৮৫]। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁদের প্রাণ বের হওয়ার প্রক্রিয়াটি এমন সাবলীল হয়, যেমন পানির পাত্রের মুখ থেকে পানির ধারা অনায়াসে গড়িয়ে পড়ে [১৬৫, ১৮৫, ৫৩০, ৫৪৩]। ফেরেশতারা তাঁদেরকে অত্যন্ত কোমল স্বরে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাতের সুসংবাদ দেন, যা তাঁদের মৃত্যুক্ষণকে প্রশান্তিময় করে তোলে [১৬৫, ৫৩০, ৫৪৮]। অনেক সময় মুমিনের সামান্য মৃত্যুযন্ত্রণা তাঁর ছোটখাটো গুনাহ মাফ এবং পরকালে মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গণ্য হয় [৫]।

২. পাপিষ্ঠ বা কাফির ব্যক্তির ক্ষেত্রে: অন্যদিকে, একজন পাপিষ্ঠ বা অবিশ্বাসী ব্যক্তির জন্য মৃত্যুযন্ত্রণা হয় অত্যন্ত কঠোর, ভয়াবহ এবং অবর্ণনীয় [১৬৯, ৪৯৪, ৫৩১]। তাদের রুহ শরীরের ভেতরে লুকিয়ে পড়ে এবং বের হতে চায় না, তখন ফেরেশতারা অত্যন্ত নির্দয়ভাবে তা টেনে বের করেন [১৬৯, ৫৩১]। এই রুহ বের করার প্রক্রিয়াকে বর্ণনা করা হয়েছে ভেজা পশমের ভেতর থেকে কাঁটাযুক্ত লোহার শিক টেনে বের করার সাথে, যার ফলে শরীরের শিরা-উপশিরা ও স্নায়ু ছিঁড়ে যাওয়ার উপক্রম হয় [১৬৯, ৪৯৪, ৫৩১]। একই সাথে ফেরেশতারা তাঁদেরকে আল্লাহর ক্রোধ ও জাহান্নামের শাস্তির দুঃসংবাদ শোনান, যা তাঁদের আত্মিক ও শারীরিক যন্ত্রণাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় [১৬৯, ৫৩১, ৫৩৫]।

সুতরাং, সাকারাতের তীব্রতা সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির আধ্যাত্মিক অবস্থার ওপর নির্ভরশীল [১৬৫, ১৬৯, ৫৩০, ৫৩১]।

উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব রচিত "মৃত্যুকে স্মরণ", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৬৫, ১৬৯, ১৮৫)। ২. ইমাম বাইহাকি রচিত ও জিয়াউর রহমান মুন্সী অনূদিত "মৃত্যু থেকে কিয়ামাত", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৪৯৩, ৪৯৪, ৪৯৬, ৫৩০, ৫৩১, ৫৩৫, ৫৪৩)। ৩. মুফতী মেসূরুল হক রচিত "জীবনের শেষ দিন", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৫, ২৩)। ৪. ইমাম কুরতুবি রচিত "অনন্তের পথে - মৃত্যু।। কবর।। হাশর।। জান্নাত।। জাহান্নাম", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৫৪৮)।