উত্তর: ইসলামি শরয়ি বিধান অনুযায়ী কবর পাকা করা, এর ওপর ইমারত বা গম্বুজ নির্মাণ করা এবং চুনকাম করা নিষিদ্ধ এবং একে বিদআত বা শরিয়ত পরিপন্থী কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে [৪১২, ৪৪৬]। এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিষেধ: সহীহ হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) কবর চুনকাম করতে, কবরের ওপর বসতে এবং তার ওপর কোনো ইমারত বা ঘর তৈরি করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন [৪৪৭]। ২. উঁচু কবর সমান করা: হযরত আলী (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে এমন এক অভিযানে পাঠিয়েছিলেন যেখানে তাঁর নির্দেশ ছিল- কোনো উঁচু কবর দেখলে তা সাধারণ কবরের সমান করে দেওয়া এবং কোনো প্রাণীর ছবি দেখলে তা মুছে দেওয়া [৪৪৬, ৪৪৭]। ৩. বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা: কবরের ওপর গম্বুজ বা ঘর তৈরি করা এবং আড়ম্বরপূর্ণভাবে সাজানো মূলত ইহুদি ও নাসারাদের রীতি ছিল, যারা তাদের নবিদের কবরকে সিজদার জায়গায় বা মসিজেদে পরিণত করেছিল [৪৩৩]। ইসলামে এ জাতীয় কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে কারণ এগুলো মানুষকে কবর পূজার দিকে ধাবিত করতে পারে এবং এটি তাওহীদের মূল চেতনার পরিপন্থী [৪৩৩, ৪৪৬]। ৪. কবরের ওপর বসবাস: কবরের ওপর ঘর তৈরি করে বসবাস করা বা ঘর তোলা অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ, যার মাধ্যমে কবরবাসীকে অপমান করা হয় [৪৩২]। এছাড়া কবরের ওপর বাতি বা মোমবাতি জ্বালানোকেও ইসলামি উৎসগুলোতে নিষিদ্ধ বলা হয়েছে [৪৪৯]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. আব্দুল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল রচিত "মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৪১২, ৪৩২, ৪৩৩, ৪৪৬, ৪৪৭, ৪৪৯)।