ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কবর পাকা করা, চুনকাম করা বা কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও বিদআত [২৮০, ২৮১]। উৎসসমূহ থেকে এর প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা: সহীহ হাদিস (হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত) অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরে চুনকাম করতে, কবরের ওপর বসতে এবং কবরের ওপর কোনো ইমারত বা বিল্ডিং নির্মাণ করতে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন [২৮২]।
২. উঁচু কবর সমান করার নির্দেশ: হযরত আলী (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন তিনি কোনো উঁচু কবর দেখলে তা সাধারণ কবরের সমান করে দেন এবং কোনো প্রাণীর ছবি দেখলে তা মুছে ফেলেন [২৮৪]। অর্থাৎ কবরকে আড়ম্বরপূর্ণ করা সুন্নাহ পরিপন্থী [২৮৩]।
৩. বিদআত ও বিজাতীয় অনুকরণ: কবরের ওপর গম্বুজ বা ঘর তৈরি করা মূলত ইহুদি ও নাসারাদের রীতি ছিল, যারা তাদের নবিদের কবরকে সিজদার জায়গায় বা মসজিদে পরিণত করেছিল [২৫১]। ইসলামে এ জাতীয় কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে কারণ এগুলো মানুষকে কবর পূজার দিকে ধাবিত করতে পারে, যা তাওহীদের মূল চেতনার পরিপন্থী [২৫১]।
৪. কবরবাসীকে অপমান ও কষ্ট দেওয়া: কবরের ওপর ঘর তৈরি করে বসবাস করা বা ঘর তোলা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, যার মাধ্যমে কবরবাসীকে অপমান করা হয় [২৫০]। এছাড়া কবরের ওপর বাতি বা মোমবাতি জ্বালানোকেও ইসলামি উৎসগুলোতে বেয়াদবি ও মন্দ কাজ বলা হয়েছে [১৭০]।
৫. প্রয়োজনহীন কাজ ও অপচয়: বিনা প্রয়োজনে কবরের চারপাশ পাকা করা ইসলামে মকরুহ বা অপছন্দনীয় [২১১]। রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগে কোনো সাহাবীর কবরই উঁচু বা পাকা করা হয়নি, এমনকি তাতে নামও লেখা হতো না [২৮২, ২৮৩]।
সারসংক্ষেপে, কবরের স্বাভাবিক ও সাদাসিধে অবস্থা বজায় রাখাই হলো ইসলামের বিধান, যাতে তা কেবল পরকালের স্মারক হিসেবে থাকে এবং কোনোভাবেই ইবাদত বা শিরকের বিষয়ে পরিণত না হয় [২৮৩, ২৯৩]।