ইসলামি উৎসসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, কবরে বাতি জ্বালানো এবং নাম ফলক লাগানো সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও বিধিনিষেধ রয়েছে। আপনার প্রশ্নের উত্তর নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. কবরে বাতি বা মোমবাতি জ্বালানো:
-
সাধারণ বিধান: কবরের ওপর প্রদীপ, মোমবাতি বা আগরবাতি জ্বালানোকে ইসলামি উৎসগুলোতে 'বেয়াদবি ও মন্দ কাজ' হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে [১৩৫, ২০৬, ২২৭, ২৫০]। এটি একটি বর্জনীয় আমল।
-
ব্যতিক্রম: যদি রাতে পথচারীদের পথ চলার সুবিধার জন্য বা কবরস্থান আলোকিত করার প্রয়োজন হয়, তবে কবরের ওপর না রেখে পাশে কোনো খালি জায়গায় মাটিতে মোমবাতি বা প্রদীপ রাখা জায়েজ আছে [১৩৫, ২২৭, ২৫০]।
-
আগুনের সংশ্রব ত্যাগ: সাহাবী হযরত আমর বিন আস (রা.) তাঁর ইন্তেকালের সময় অসিয়ত করেছিলেন যেন তাঁর লাশের সাথে কোনো আগুনের সংশ্রব না থাকে [১৩৫]।
২. কবরে নাম ফলক লাগানো বা নাম লেখা:
-
পরিচিতির জন্য: মৃত ব্যক্তির কবরের পরিচিতি বা চেনার সুবিধার জন্য কেবল নাম সম্বলিত ফলক লাগানো জায়েজ বলা হয়েছে [১৯২, ২৫৩]।
-
কুরআনের আয়াত ও পবিত্র নাম: কবরের ফলকে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম বা কোনো পবিত্র নাম লেখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এর কারণ হলো, কালক্রমে সেই ফলক ভেঙে পড়তে পারে বা অবমাননা হতে পারে, যা হবে চরম বেয়াদবি [১৯২, ২৫৩]।
-
আড়ম্বরপূর্ণ লিখন: কবরে মৃত ব্যক্তির জন্ম-মৃত্যুর তারিখ বা বিস্তারিত জীবনী সম্বলিত বড় ও দামী ফলক লাগানোকে অনেক আলেম বিদআত বা শরিয়ত পরিপন্থী কাজ হিসেবে গণ্য করেছেন [২৫৩]। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে বা সাহাবীদের যুগে কবরে নাম লেখার প্রচলন ছিল না [২৫৪, ২৫৫]।
সারসংক্ষেপে, কেবল চেনার উদ্দেশ্যে কবরে সাধারণ নাম ফলক লাগানো যেতে পারে, কিন্তু তাতে কুরআনের আয়াত লেখা যাবে না। আর কবরের ওপর বাতি বা আগরবাতি জ্বালানো একটি মন্দ অভ্যাস যা পরিহার করা উচিত [১৩৫, ১৯২, ২৫৩]।
উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ:
১. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন, ইছালে সাওয়াব এবং ফিদিয়া ইত্যাদির বিধানাবলী", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৩৫, ১৯২)।
২. আব্দুল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল রচিত "মৃতু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বজনীয়", প্যাসেজ ইনডেক্স: (২০৬, ২২৭, ২৫০, ২৫৩, ২৫৪, ২৫৫)।