উত্তর: ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর উপস্থিত ব্যক্তিদের অত্যন্ত ধৈর্য ও সতর্কতার সাথে কিছু কাজ সম্পন্ন করতে হয়। সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হাত ও পা সোজা করা: মৃত্যুর পরপরই মৃত ব্যক্তির হাত ও পা সোজা করে দেওয়া উচিত [১৬, ৪১]। প্রয়োজনে উভয় পা ফিতা বা কাপড়ের টুকরো দিয়ে আলতো করে বেঁধে দেওয়া যায় যাতে তা সোজা থাকে [১৬, ৪১]। ২. চোখ ও মুখ বন্ধ করা: মৃতের চোখ দুটো আলতো করে বন্ধ করে দিতে হবে [১৬, ৪১]। যদি মুখ খোলা থাকে, তবে একটি চওড়া কাপড় চিবুকের নিচ দিয়ে মাথার ওপর নিয়ে বেঁধে দিতে হবে যাতে মুখটি বন্ধ হয়ে যায় [১৬, ৪১]। ৩. শরীরের ওপর চাদর দেওয়া: মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ শরীর একটি বড় চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে হবে [১৬, ৪১]। তাঁকে সরাসরি মাটিতে না রেখে কোনো খাট বা চৌকির ওপর শোয়ানো উত্তম [১৬, ৪১]। ৪. পেটে হালকা ওজন রাখা: পেটে কোনো হালকা ওজনের বস্তু (যেমন- তালা বা ইটের ছোট টুকরো) রাখা যেতে পারে যাতে ভেতরে বাতাস ঢুকে পেট ফুলে না যায় [১৬, ৪১]। ৫. দাফনে বিলম্ব না করা: কাফন ও দাফনের যাবতীয় কাজ যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে [১৭, ৪২, ৩৬০]। দূরবর্তী আত্মীয়দের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা দিনব্যাপী লাশ ফেলে রাখা সুন্নাহ পরিপন্থী এবং গুনাহের কাজ [২০, ৪৫, ৩৬০]। ৬. ঋণ পরিশোধের উদ্যোগ: মৃত ব্যক্তি যদি ঋণগ্রস্ত হন, তবে তাঁর পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে ওসীয়ত বা মিরাস বণ্টনের আগেই সেই ঋণ পরিশোধ করার দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে [৯, ৫৪, ৪০৯]। ৭. ধৈর্য ও দোয়া: উপস্থিত ব্যক্তিদের উচিত উচ্চস্বরে কান্নাকাটি বা বিলাপ না করে ধৈর্য ধারণ করা এবং মৃতের জন্য মনে মনে মাগফিরাত বা ক্ষমার দোয়া করা [১৬, ১৮, ৪১, ৪৩]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. মুফতী মেসূরুল হক রচিত "জীবনের শেষ দিন", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৯, ১৬, ১৭, ১৮, ২০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৫, ৫৪)। ২. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন, ইছালে সাওয়াব এবং ফিদিয়া ইত্যাদির বিধানাবলী", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৩৬০)। ৩. আব্দুল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল রচিত "মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৪০৯)।