ইসলামি উৎসসমূহের বর্ণনা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মুমিন এবং পাপিষ্ঠ ব্যক্তিদের আমলনামা সংরক্ষণের দুটি ভিন্ন স্থান হলো ইল্লিয়্যিন ও সিজ্জিন। নিচে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হলো:
ইল্লিয়্যিন (ইল্লিয়্যিন)
ইল্লিয়্যিন হলো নেককার মুমিন বান্দাদের আমলনামা সংরক্ষণের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ স্থান [৪১৮, ৪২৯]।
-
অবস্থান: এটি সপ্তম আসমানে অবস্থিত [৪১৮, ৪২৯]।
-
রুহের যাত্রা ও নিবন্ধন: মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর পর ফেরেশতারা যখন তাঁর রুহ নিয়ে আসমানের দিকে যান, তখন আসমানের অধিবাসী ফেরেশতারা একে স্বাগত জানান [৪১১]। আল্লাহ তাআলা তখন নির্দেশ দেন, "আমার বান্দার আমলনামা সপ্তম আসমানের 'ইল্লিয়্যিনে' লিপিবদ্ধ করো" [৪১৮, ৪২৯]।
-
কবরে প্রত্যাবর্তন: আমলনামা ইল্লিয়্যিনে নথিবদ্ধ করার পর আল্লাহ তাআলার নির্দেশে রুহকে পুনরায় জমিনে তাঁর দেহের কাছে বা কবরে ফিরিয়ে আনা হয়, যাতে মুনকার ও নাকির ফেরেশতার জিজ্ঞাসাবাদের উত্তর দেওয়া যায় [৪১১, ৪১৮]।
সিজ্জিন (সিজ্জিন)
সিজ্জিন হলো কাফির, পাপিষ্ঠ ও অবাধ্য ব্যক্তিদের আমলনামা বা নাম নথিভুক্ত করার একটি নিকৃষ্ট স্থান [৪২৪]।
-
অবস্থান: এটি সর্বনিম্ন জমিনে অবস্থিত [৪২৪]।
-
রুহের যাত্রা ও নিবন্ধন: পাপিষ্ঠ বা কাফির ব্যক্তির রুহ কবজ করার পর যখন তা আসমানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন আসমানের দরজা তার জন্য খোলা হয় না এবং তাকে অভিশাপ দেওয়া হয় [৪২৪]। তখন আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন, "এই পাপিষ্ঠের আমলনামা সর্বনিম্ন জমিনের 'সিজ্জিনে' লিখে রাখো" [৪২৪]।
-
পরিণতি: আমলনামা সিজ্জিনে নিবন্ধন করার পর রুহকে অবজ্ঞা ও শাস্তির সাথে পুনরায় কবরে তার দেহের সাথে ফিরিয়ে আনা হয় [৪২৪]।
সারসংক্ষেপে, ইল্লিয়্যিন হলো মুমিনদের সফলতার ও উচ্চমর্যাদার প্রতীক, আর সিজ্জিন হলো পাপিষ্ঠদের কারাবন্দি দশা ও অপমানের স্থান [৪১৮, ৪২৪]। উভয় ক্ষেত্রেই আমলনামা বা নাম নিবন্ধিত হওয়ার পর রুহকে পুনরায় কবরে ফিরিয়ে আনা হয় বরজখের জীবনের পরীক্ষার মুখোমুখি করার জন্য [৪১১, ৪২৪]।