ইসলামি উৎসসমূহ অনুযায়ী, বরজখের জীবনে মুমিন ব্যক্তিদের জন্য অসংখ্য বিশেষ নেয়ামত ও শান্তির ব্যবস্থা রয়েছে [৪৫০]। মুমিন ব্যক্তি যখন কবরে মুনকার ও নাকির ফেরেশতার প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেন, তখন তাঁর জন্য জান্নাতের দিকে একটি জানালা বা দরজা খুলে দেওয়া হয় [৪৩২, ৪৪৮]। এই দরজা দিয়ে জান্নাতের সুঘ্রাণ এবং আরামদায়ক হাওয়া মুমিনের কবরে আসতে থাকে [১৯, ৪৩২]। আল্লাহ তাআলার নির্দেশে মুমিন ব্যক্তিকে জান্নাতের পোশাক পরানো হয় এবং জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দেওয়া হয় [১৯, ৪৩৯]। মুমিনের কবরকে সত্তর হাত পর্যন্ত অথবা দৃষ্টি যতদূর যায় ততদূর প্রশস্ত করে দেওয়া হয় [৪৩৯, ২৪৫]। এছাড়া তাঁর কবরটি চতুর্দশ রাত্রির চাঁদের মতো নূরের আলোয় আলোকিত করে দেওয়া হয় [২৪৫, ৪৪৮]। মুমিন ব্যক্তির নেক আমল তাঁর কবরে একজন সুশ্রী ও সুগন্ধযুক্ত মানুষের সূরতে হাজির হয়ে তাঁকে সঙ্গ দেয় এবং সুসংবাদ দান করে [৪৩৯]। কোনো কোনো বর্ণনা অনুযায়ী, মুমিন ব্যক্তির রুহ জান্নাতে পাখির মতো উড়ে বেড়ায় এবং জান্নাতের বৃক্ষ থেকে আহার গ্রহণ করে [৪৪৮]। সামগ্রিকভাবে, মুমিনের কবরটি জান্নাতের একটি সবুজ শ্যামল বাগানে পরিণত হয়, যেখানে সে পরম শান্তিতে কিয়ামত পর্যন্ত অবস্থান করে [১৫৬, ২৪৫]।