উত্তর: ইসলামি শরীয়তে আখেরাতকে স্মরণ করার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো কবর জিয়ারত করা [৭০, ৩৩২]। কবর জিয়ারতের নিয়ম ও ফজিলত সম্পর্কে উৎসগুলোতে নিম্নোক্ত তথ্যসমূহ পাওয়া যায়:
১. মৃত্যু ও আখেরাতের স্মারক: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "তোমরা কবর জিয়ারত করো! কেননা, তা মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়" [৭০, ৩৩২, ৪৯০]। এটি হৃদয়ের কঠোরতা দূর করে এবং পরকালের প্রস্তুতি নিতে সাহায্য করে [৭০, ৩১৯]।
২. সুন্নাহসম্মত সালাম ও দোয়া: কবরের কাছে গিয়ে কবরবাসীদের উদ্দেশ্যে সালাম দেওয়া সুন্নাহসম্মত আমল [৩১৭, ৩৯]। নবীজি (সা.) সাহাবীদের জিয়ারতের সময় এই দোয়াটি পড়তে শিখিয়েছেন: "السَّلَامُ عَلَى أَهْلِ الدِّيَارِ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُسْلِمِينَ، وَإِنَّا إِنْ شَاءَ اللهُ بِكُمْ لَلَاحِقُونَ..." (উচ্চারণ: আসসালামু আলা আহলিদ দিয়ারি মিনাল মু'মিনীনা ওয়াল মুসলিমিনা ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লালাহিকুন...) [৩৩২, ৪৯২]। এর অর্থ: "হে মুমিন ও মুসলিম কবরবাসীগণ, আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। ইনশাআল্লাহ আমরাও আপনাদের সাথে মিলিত হবো। আমি আমাদের জন্য এবং আপনাদের জন্য আউাহর নিকট মাফ ও নিরাপত্তা কামনা করছি" [৩৩২, ৪৯২]।
৩. পিতা-মাতার কবর জিয়ারত: সম্ভব হলে প্রতি জুমআর দিনে পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করা উত্তম, এতে আখেরাতের স্মরণ হয় এবং পরকালের পাথেয় সংগ্রহের স্পৃহা বৃদ্ধি পায় [৩৮, ৬৭]।
৪. জিয়ারতের আদব: কবর জিয়ারতের সময় কবরের ওপর বসা, পা রাখা বা কবরের ওপর দিয়ে হাঁটা যাবে না [৪৪০]। এছাড়া কবরের ওপর মোমবাতি বা আগরবাতি জ্বালানো সুন্নাহ পরিপন্থী এবং বেয়াদবি হিসেবে গণ্য [১৩৫, ৩৩৪]। জিয়ারতের সময় জুতা বা স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে কবরের মাঝখানে হাঁটা থেকে বিরত থাকা উচিত [৪৪০]।
৫. মহিলাদের কবর জিয়ারত: মহিলারাও কবর জিয়ারত করতে পারেন, তবে শর্ত হলো সেখানে কোনো প্রকার উচ্চস্বরে বিলাপ বা শরীয়ত পরিপন্থী কাজ করা যাবে না [৪২৪, ৪৯৮]।
৬. বর্জনীয় আচরণ: কবরের কাছে গিয়ে কোনো কিছু মানত করা বা কবরবাসীর কাছে সাহায্য চাওয়া শিরকের অন্তর্ভুক্ত এবং কিয়ামত পর্যন্ত ডাকলেও তারা সেই ডাকে সাড়া দিতে পারবে না [৪৭৫, ৪৭৬]।
এই উত্তরের তথ্যসূত্রসমূহ: ১. আব্দুল্লাহিল হাদী আব্দুল জলীল রচিত "মৃত্যু ও কবর সম্পর্কে করণীয় ও বর্জনীয়", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৩৩২, ৪৯০, ৪৯১, ৪৯২, ৪৪০, ৪২৪, ৪৯৮, ৪৭৫, ৪৭৬)। ২. দাওয়াতে ইসলামি কর্তৃক প্রকাশিত "মৃতের গোসল, কাফন, দাফন...", প্যাসেজ ইনডেক্স: (১৩৫, ৩৩৪)। ৩. মুফতী মেসূরুল হক রচিত "জীবনের শেষ দিন", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৩৮, ৩৯, ৬৭)। ৪. ইমাম কুরতুবি রচিত "মৃত্যুর ওপারে: অনন্তের পথে", প্যাসেজ ইনডেক্স: (৭০)।