Table of Contents

    অপারেটিং সিস্টেমের সংজ্ঞা - Definition of Operating System


    সিস্টেম সফটওয়্যার

    সিস্টেম সফটওয়্যার হলো সেই সকল সফটওয়্যার যা কম্পিউটার সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং তার সমস্ত কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে। এই সফটওয়্যারগুলো কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার এবং ব্যবহারকারীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং সিস্টেমকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে।

    উদাহরণ হিসেবে UNIX, LINUX, WINDOWS ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।


    সিস্টেম সফটওয়্যার-এর বিভাগ

    সিস্টেম সফটওয়্যারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়-

    1. অপারেটিং সিস্টেম

    2. ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসর

    অপারেটিং সিস্টেম কম্পিউটারের সমস্ত কার্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে, আর ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসর মানুষের লেখা প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোঝার উপযোগী ভাষায় রূপান্তর করে।


    ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসর

    মানুষ যে ভাষায় প্রোগ্রাম লিখে তা সরাসরি কম্পিউটার বুঝতে পারে না। কম্পিউটার কেবলমাত্র মেশিন ভাষা বোঝে। এই কারণে মানুষের ভাষাকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করার জন্য যে সফটওয়্যার ব্যবহৃত হয় তাকে ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসর বলা হয়।

    ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসরের মাধ্যমে প্রোগ্রাম লেখা, উন্নয়ন, অনুবাদ, সংশোধন এবং সংরক্ষণসহ বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন হয়।


    ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসরের উপাদানসমূহ

    🔹 এডিটর (Editor)

    এডিটর এমন একটি সফটওয়্যার যার সাহায্যে প্রোগ্রাম লেখা, সম্পাদনা এবং পরিবর্তন করা যায়। প্রোগ্রাম তৈরি করার সময় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


    ট্রান্সলেটর (Translator)

    ট্রান্সলেটর হলো এমন একটি প্রোগ্রাম যা উচ্চস্তরের ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। এটি সোর্স প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রামে পরিবর্তন করে।


    অ্যাসেম্বলার (Assembler)

    অ্যাসেম্বলার অ্যাসেম্বলি ভাষাকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। এটি নিম্নস্তরের ভাষার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।


    কম্পাইলার (Compiler)

    কম্পাইলার একটি সম্পূর্ণ প্রোগ্রামকে একবারে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে। এটি দ্রুত কাজ করে এবং প্রোগ্রামের সব ত্রুটি একসাথে প্রদর্শন করে।


    ইন্টারপ্রিটার (Interpreter)

    ইন্টারপ্রিটার প্রোগ্রামকে লাইন বাই লাইন অনুবাদ করে। এটি প্রতিটি লাইনের ত্রুটি আলাদা করে শনাক্ত করতে সাহায্য করে।


    লিংকার (Linker)

    লিংকার বিভিন্ন অবজেক্ট প্রোগ্রাম বা মডিউলকে একত্র করে একটি সম্পূর্ণ প্রোগ্রামে রূপান্তর করে। এটি প্রোগ্রামের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে।


    লোডার (Loader)

    লোডার প্রোগ্রামকে মেমোরিতে লোড করে এবং তা কার্যকর করার জন্য প্রস্তুত করে। এটি কম্পিউটারের রানটাইম পরিবেশে প্রোগ্রাম চালানোর জন্য অপরিহার্য।


    ডিবাগার (Debugger)

    ডিবাগার প্রোগ্রামের ত্রুটি নির্ণয় এবং সংশোধন করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি প্রোগ্রামের ভুল খুঁজে বের করে এবং তা ঠিক করতে সাহায্য করে।


    লোকেটর (Locator)

    লোকেটর মেমোরিতে ডেটা ও প্রোগ্রামের নির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণ করে। এটি মেমোরি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


    ডিবাগিং (Debugging)

    ডিবাগিং হলো প্রোগ্রামের ত্রুটি শনাক্ত ও সংশোধনের প্রক্রিয়া। প্রোগ্রাম লেখার সময় বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি হতে পারে, যেমন-

    • Syntax Error (বাক্যগঠনগত ত্রুটি)

    • Logical Error (যুক্তিগত ত্রুটি)

    এই ত্রুটিগুলো দূর করে প্রোগ্রামকে সঠিকভাবে চালানোর প্রক্রিয়াকেই ডিবাগিং বলা হয়।


    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার

    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার হলো সেই সকল সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করে। এগুলো ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক সফটওয়্যার এবং নির্দিষ্ট কাজের জন্য তৈরি করা হয়।

    উদাহরণ হিসেবে LibreOffice, MS Office, Notepad, Media Player, CorelDRAW ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।


    সিস্টেম সফটওয়্যার ও অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার-এর পার্থক্য

    সিস্টেম সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার
    কম্পিউটার চালাতে অপরিহার্য ব্যবহারকারীর কাজ সম্পন্ন করতে ব্যবহৃত
    হার্ডওয়্যার নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে
    স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে ব্যবহারকারীর নির্দেশে কাজ করে
    অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর উপর নির্ভরশীল নয় সিস্টেম সফটওয়্যার এর উপর নির্ভরশীল

    ইউটিলিটি সফটওয়্যার

    ইউটিলিটি সফটওয়্যার হলো এমন সফটওয়্যার যা কম্পিউটার সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ ও সহায়ক কাজ সম্পন্ন করে। এটি ফাইল ব্যবস্থাপনা, ব্যাকআপ নেওয়া, ভাইরাস প্রতিরোধ, ডিস্ক পরিষ্কার রাখা ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।

    উদাহরণ হিসেবে Scandisk, Antivirus সফটওয়্যার উল্লেখযোগ্য।


    উপসংহার

    সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করে এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর কাজ সহজ করে। এই দুই ধরনের সফটওয়্যার একসাথে কাজ করে একটি সম্পূর্ণ কম্পিউটার সিস্টেমকে কার্যকর করে তোলে।